গাইবান্ধার গুপ্তমনির চরের শিশুরা পড়া-লেখা বঞ্চিত হচ্ছে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি: গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের গুপ্তমনির চরে পানি ও জল, নদীবাহিত উর্বর পলি সমৃদ্ধ জমির অভাবসহ নানা সমস্যা সংকটে বিপন্ন নদী ভাঙন কবলিত আশ্রিত পরিবারগুলো। নতুন করে জেগে উঠা ওই চরে বিদ্যালয় না থাকায় শিশু শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার চরম সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। অন্য চরের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে নৌকা ভাড়ার টাকা দিতে না পারায় শিশুরা বিদ্যালয়ে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। জানা যায় ৭ বছর আগে প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশের গুপ্তমনি চরটি জেগে উঠতে শুরু করে। ধীরে ধীরে চরটি বিস্তৃত হতে থাকে।

বছর তিন আগে এই চরে বসবাস শুরু করে নদী ভাঙন কবলিত চরাঞ্চলগুলোর মানুষ। সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী উজাল ডাঙা চরের বিরাট অংশ ব্রহ্মপুত্রে বিলীন হয়ে গেলে অনেকে গৃহহারা হয়ে পড়ে। উজালডাঙ্গা চরের গৃহহারা অনেক ব্যক্তি আশ্রয় নিয়েছে গুপ্তমনি চরে। এই চরে বসবাস করছে প্রায় ৩শত পরিবার। এ চরে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। এই চরের অনেক শিশুই উজালডাঙা চরের কাবিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উজালডাঙা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। গুপ্তমনির চর থেকে উজালডাঙা চরে আসা-যাওয়া করতে শিশু শিক্ষার্থীদের নানা সমস্যায় পড়তে হয়।

বিদ্যালয়ের সময় ঠিকমত নৌকা পাওয়া যায় না, আবার প্রত্যেক শিক্ষার্থীর যাতায়াতের জন্য ২০ টাকা নৌকা ভাড়া দিতে হয়। চরাঞ্চলের অনেক দরিদ্র পরিবারগুলোর পক্ষে দৈনিক ২০ টাকা নৌকা ভাড়া দিয়ে তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এ চরাঞ্চলের শিশুরা লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গুপ্তমনির চরে বাসিন্দা শামসুল হক বলেন এ চরে বসবাসকারীদের খাবার পানি ও স্যানিটারী সমস্যা সবচেয়ে বেশি। চরবাসী ব্রহ্মপুত্রের পানি দিয়েই দৈনন্দিন কাজকর্ম করেন। এখানে সরকারিভাবে টিউবওয়েল স্থাপন এবং শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা জরুরী।

আলোকিত প্রতিদিন/অক্টোবর/১১/এসএম

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন