ভূরুঙ্গামারীর ব্রিজ-কালভার্ট ও কাঁচা-পাকা সড়কের বেহাল দশা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সেতু ও কালভার্ট সহ কয়েকটি সড়ক চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে উপজেলার হাজার হাজার মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
সোনাহাট ইউনিয়নের কলেজ মোড় নামক এলাকার সোনাহাট-চর ভূরুঙ্গামারী সড়কের একটি সেতুর এক সাইড দেবে গেছে। দেবে যাওয়া সেতু দিয়ে জানমালের ঝুঁকি নিয়ে মানুষজন চলাচল কছে। সেতুটিতে যেকোন মূহুর্তে বড়ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। এডিবির প্রায় ২৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০০৯ সালে প্রায় ১৫ মিটার দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করে এলজিইডি। দু’বছর আগে বন্যায় সেতুটির এ্যাবাটমেন্ট দেবে গিয়ে পাটাতন সমেত সেতুর দক্ষিণ অংশ ৪ ফুটের মত দেবে যায়। এছাড়াও সেতুর উইং ওয়াল এ্যাবাটমেন্ট থেকে আলাদা হয়ে গেছে। যা কোন কাজে লাগছে না। যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে দেবে যাওয়া অংশের উপর মাটি ও ইটের টুকরো ফেলা হয়েছে। পণ্য বোঝাই ট্রাক নড়বড়ে সেতুর উপর দিয়ে চলাচল করছে। চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নগামী সমস্ত ভারী যানবাহন এই সেতুর উপর দিয়ে চলাচল করে।
তিলাই ইউনিয়নের ধামেরহাট-থানাঘাট সড়কের আনন্দ বাজার সংলগ্ন বক্স কালভার্টের উপরের পাটাতন ধসে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। পাটাতনের আস্তরণ খসে পড়ে লোহার রড বেরিয়ে পড়েছে। এতে ওই কালভার্টের উপর দিয়ে যাতায়াত করা মানুষ ও যানবাহন হরহামেশাই দূর্ঘটনার কবলে পরছে। কালভার্টটির উপর দিয়ে তিলাই ইউনিয়নের আনন্দ বাজর, পাথরডুবী ইউনিয়নের মইদাম, বাঁশজানী, থানাঘাট, ঢেঁবঢেবী ও পাথরডুবীর মানুষজন ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। যে কোন সময় কালভার্টের পাটাতন সম্পূর্ণরূপে ধসে পড়ে প্রাণহানী সহ বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। পাথরডুবী ইউনিয়নগামী সকল ভারী যানবাহন এই কালভার্টের উপর দিয়ে যাতায়াত করে।
চর-ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের মাঠের পাড় নামক স্থানে কাঁচা সড়ক ভেঙ্গে গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দুই বছর আগের বন্যায় সড়ক ভেঙ্গে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। গর্তের উপর নির্মিত বাঁশের সাঁকোই এখন ইউনিয়নটির কয়েক গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। তিলাই ইউনিয়নের দু’টি ওয়ার্ড ও চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের চারটি ওয়ার্ডের মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। এছাড়া ভারী যানবাহনগুলো ৭/৮ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করছে।
ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের ভূরুঙ্গামারী পাবলিক লাইব্রেরী-ভূরুঙ্গামারী বাজার সর্বজনীন দূর্গামন্দির পর্যন্ত হেরিং বন্ড রাস্তটি যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মন্দির সংলগ্ন রাস্তাটির এক অংশ সামান্য বৃষ্টিতে নোংরা কাদাজলে ডুবে থাকে। এছাড়া গরু হাটের পশ্চিম দিকে আজিজুল হক হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনেষ্টিক সেন্টারের সামনের হেরিং বন্ড রাস্তাটিও যানবহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন যাবত রাস্তা দু’টি মেরামত না করার কারণে হাটে আগত ক্রেতা-বিক্রেতা সহ ওই এলাকার মানুষকে যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দা ও হাটে আগত ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, ভূরুঙ্গামারী গরু হাটের পশ্চিম দিকের রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় আমাদের খুবই সমস্যা হচ্ছে। সম্প্রতি সেখানে ব্যাটারী চালিত ইজিবাইক উল্টে গিয়ে চারজন যাত্রী মারাত্মক ভাবে আহত হয়েছে। অপরদিকে একই ইউনিয়নের গার্লস স্কুল রোড ও জামতলা-ফাজিল মাদ্রাসা পর্যন্ত প্রায় আধা কিঃ মিঃ সড়ক পাঁচ বছর যাবত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে আছে। সামান্য বৃষ্টি হলে সড়ক দুটিতে হাটু পরিমান পানি জমে। কার্পেটিং উঠে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সড়ক দুটিতে প্রতিনিয়তই ছোটখাটো দূর্ঘটনা ঘটছে। সড়ক দু’টি দিয়ে উপজেলার আটটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী যাতায়াত করে।
জয়মনিরহাট ইউনিয়নের খাটামারী মধ্যপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শিংঝাড় পর্যন্ত প্রায় দেড় কিঃ মিঃ কাঁচা সড়কের কাদাজলের কারণে পথ চলতে নাভিশ্বাস উঠেছে ওই এলাকার মানুষের। সামান্য বৃষ্টি হলে সমস্ত রাস্তা কাদায় সয়লাব হয়ে যায়। দেখে বোঝার উপায় নেই রাস্তা নাকি রোপা আমন চাষের জমি। সড়কটি দিয়ে ওই ইউনিয়নের দলবাড়ী, বাউশমারী, খাটামারী, শিবুর পাড় ও বগনীর পাড় গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ যাতায়াত করে। ব্যাটারী চালিত রিক্সা ও ইজিবাইক চালকরা জানান, একটু বৃষ্টি হলেই যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে রিকসা ও ইজিবাইককে ধাক্কা মেরে নিয়ে যেতে হয়। নোংরা কাদাজল মাড়িয়ে জুতা-স্যান্ডেল হাতে নিয়ে অফিসগামী মানুষ ও ছাত্র-ছাত্রীদের পথ চলতে দেখা যায়। শিংঝাড় বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরাও এই রাস্তাটি ব্যবহার করেন।
পাইকেরছড়া ইউনিয়নের আসাম পাড়ার একটি কাঁচা সড়ক ভেঙ্গে গিয়ে গভীর খাদের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ওই এলাকার সাথে উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় গ্রামের প্রায় দুই হাজার মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। কৃষকরা তাদের ফসল বিক্রি করতে হাট-বাজারে নিতে সমস্যা পড়ছেন। এবারের বন্যায় দুধকুমার নদের পানি বৃদ্ধি পেয়ে সড়কের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সড়কটি ভেঙ্গে যায়। আসাম পাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৎস্য ব্যবসায়ী আসাদুল ইসলাম ও আমির আলী জানান, সড়কটি ভেঙ্গে যাওয়ায় মাছ নিয়ে বাজারে যেতে আমাদের অসুবিধা হয়। গ্রামের বাইরে যাওয়ার অন্য কোন রাস্তা নেই। প্রয়োজনের তাগিদে কাদাপানি পেরিয়ে গ্রামের বাইরে যেতে হয় গ্রামবাসিদের।
এছাড়াও উপজেলার দশ ইউনিয়নের কাঁচা সড়কের অধিকাংশই সামান্য বৃষ্টি হলে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
ভূরুঙ্গামারী বাজার সর্বজনীন দূর্গামন্দির পর্যন্ত সড়কটি ভূরুঙ্গামারী হাট-বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির আওতাভূক্ত বলে জানা গেছে। হাট-বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোফাখখারুল ইসলাম জানান, পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে মাঠের পাড় ও আসাম পাড়া সড়কে কালভার্ট নির্মাণ করা যেতে পারে।
উপজেলা প্রকৌশলী এন্তাজুর রহমান জানান, শিংঝাড় সড়ক পাকাকরণ, গার্লস স্কুল রোড ও জামতলা-ফাজিল মাদরাসা সড়ক মেরামত সহ সোনাহাট-চর ভূরুঙ্গামারী সড়কের কলেজ মোড় এলাকার সেতু নির্মাণ অনুমোদনের অপেক্ষোয় রয়েছে। ধামেরহাট-থানাঘাট সড়কের কালভার্টটি দ্রুত মেরামত করা হবে।

 

 

আলোকিত প্রতিদিন/৯ অক্টোবর/আসাদ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন