টঙ্গীবাড়িতে আলু নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক: মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলায় হিমাগারে সংরক্ষিত আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন আলু চাষীরা। এ বছর উৎপাদন খরচের তুলনায় বাজারের আলু বিক্রি মূল্য কম থাকায় সংরক্ষিত আলু হিমাগারেই পড়ে রয়েছে। দিন যত যাচ্ছে আলুর চাহিদা তত কমছে। তাছারা এ উপজেলার আলু চাষীরা বিগত কয়েক বছর ধরে আলু চাষে লোকসানের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। চলতি বছরেও আলু চাষীরা বড় ধরনের লোকসানের কবলে পড়ার আশষ্কা করছেন। এ অবস্থায় হিমাগাওে সংরক্ষিত আলু নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকসহ হিমাগার মালিকরা। উপজেলার ধীপুর গ্রামের আলু চাষী জহিুরল ইসলাম বলেন, প্রতিবছে আলুতে লোকসান হওয়ার পরও কিছু লাভের আশায় এবছর আলু চাষ করি। কিন্তু এবছরও আলুতে লোকসান গুনতে হবে।

আলুর পাইকারী ব্যবসায়ী মোতালেব খান বলেন, সানোয়ারা কোল্ড স্টোরেজে ২০ হাজার বস্তা আলু রেখেছি। তার থেকে ২৫০ বস্তা আলু চট্রগ্রাম আড়তে ১৬ হাজার টাকা দিয়ে ট্রাক ভাড়া করে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানেও আলুর দাম নেই। সানোয়ারা কোল্ড স্টোরেজের ম্যানেজার আব্দুল সাত্তার জানান, আমাদেও কোল্ড স্টোরেজে ৫০ কেজি আলুর ৩ লাখ ৫০ হাজার বস্তা মজুদ রাখা আছে। প্রতিটি বস্তার ভাড়া ১৮০ টাকা নেওয়া হয়। তাছারাও আমরা ৫০ কেজি বস্তা প্রতি ২০০ টাকা লোন দিয়ে কৃষকদেরআর্লূ সংরক্ষণ করেছে। কিন্তু বর্তমানে আমাদের কোল্ড স্টোরেজে ২ লাখ ৮০ হাজার বস্তা আলু এখনও হয়েছে। আলুর দাম না থাকায় কৃষক ও আলূ ব্যবসায়ীরা এ আলু স্টোর থেকে বের করে নিচ্ছে না।

যদি তারা আলু বের করে না নেয় তাহলে আমরা বড় ধরনের লোকসানে পড়বো। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, এবছর উপজেলায় ১০ হাজার ১০ হেক্টও আলু ফলন হয়েছে। হিমাগার মোট ৩১টির মধ্যে ৩টি লোকসানে পরেবন্ধ রয়েছে। চালু রয়েছে ২৮টি হিমাগার। এ হিমাগারগুলোতে আলু রয়েছে ১লাখ ৭২হাজার ৭৩৬ মেট্রিক টন। দেশের বৃহত্তম আলু উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ির কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীদের দাবি এ অঞ্চলের প্রধান ফসল আলু রপ্তানির ব্যবস্থাসহ কৃষক যাতে ন্যায্য মূল্য পায় যথাযথ কর্তৃপক্ষ যাতে সেদিকে সুনজর দেন।

আলোকিত প্রতিদিন/সেপ্টেম্বর/১৪/এসএম

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন