ভালুকায় নদী পারাপারে বাঁশের সাঁকোই ভরসা চার ইউনিয়নের হাজারো মানুষের, প্রতিবার পার হতে লাগে ৫টাকা!

নিজস্ব প্রতিবেদন : ময়মনসিংহের জেলার দক্ষিন অংশে ভালুকা উপজেলা বাংলাদেশের মানচিত্রে ছোট একটি নাম। যা খাল-বিল,নদী-নালা দ্বারা বেষ্টিত। উপজেলাটি ১১টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। ভালুকা উপজেলার পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে গেছে এক সময়ের যোৎবৈনা খীরু নদী।নদীর দক্ষিণ পাশে মল্লিকবাড়ী ও ডাকাতিয়া আর উত্তর পাশে উথুরা ও মেদুয়ারী ইউনিয়নের অবস্থিত। ভালুকার মাঝদিয়ে বয়ে চলা এই খিরু নদীটির বয়রাটেকের ঘাটে একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকার চারটি ইউনিয়নের হাজারও মানুষ।
গুরুত্বপূর্ণ ওই পয়েন্টে সেতু না থাকায় ঠিকাদারের তৈরি বাঁশের সাঁকো পার হতে প্রতিবার পাঁচ টাকা করে গুণতে হয় এলাকাবাসীর। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, মল্লিকবাড়ী বাজার ঘেঁষে খীরু নদীর ওপর বয়রাটেকের ঘাটটির মেদুয়ারী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ইজারা নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা। পরে তারা বাঁশের সাঁকো তৈরি করে দিয়েছেন। তাই এই সাঁকোর ওপর দিয়ে পার হতে প্রতিবার পাঁচ টাকা করে দিতে হয় ঠিকাদারকে।
মল্লিকবাড়ীতে রয়েছে- প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্কুল অ্যান্ড কলেজ, দাখিল মাদ্্রাসা, মহিলা মাদ্রাসা ও কয়েকটি কিন্ডার গার্টেন স্কুল। প্রতিদিন এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শত শত শিক্ষার্থী শিক্ষক ও সাধারণ মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই সাঁকো পারাপার হতে হয়। এলাকাবাসী জানান, আমরা ঠিকমতো শিক্ষা, চিকিৎসা ও হঠাৎ করে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে বা অন্তসত্ত¡া নারীদের হাসপাতালে নেওয়ার জন্য কোনো যানবাহন পারাপারের ব্যবস্থা নেই ঘাটে। ফলে এসব রোগীদের নিয়ে হাসপাতালে নিতে চরম বিপাকে পড়তে হয় আমাদের। মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নে অবস্থিত কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলে,তাদের বাড়ি মেদুয়ারী ইউনিয়নে। সেখানের চেয়ে এখানের স্কুলের পড়া-লেখার মান ভাল এবং কাছে হওয়ায় এপারে যাতায়ত করা হয়। আমাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন বাঁশের সাঁকো পার হয়ে স্কুলে যেতে হয়। গত কয়েকদিন আগে আমাদের মধ্যে এক ছাত্রী বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার সময় সাঁকো থেকে পা পিছলে নদীতে পড়ে গিয়েছিল। তবে নদীর তীরের কাছাকাছি হওয়ায় সে প্রাণে বেঁচে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা পানিভান্ডা গ্রামের ছাইফুল ইসলাম বলেন, আমাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার হতে হয়। প্রতিবার পার হতে ইজারাদারকে পাঁচ টাকা করে দিতে হয়। তাছাড়া এই সাঁকো দিয়ে কৃষি পণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য পরিবহন করা খুবই কষ্টসাধ্য। ফলে আমরা উৎপাদিত পণ্য ঠিকমতো বেচা-কেনা করতে পারি না। বর্তমান সংসদের দু‘জন সাংসদ রয়েছেন আলহাজ্ব কাজীমউদ্দিন আহমেদ ধনু ও অন্যজন সংরক্ষিত মহিলা এমপি মনিরা সুলতানা মনি। যাদের বাড়ি ভালুকা উপজেলার মল্লিকবাড়ী ইউনিয়নে। তাদের বাড়ির পাশের একটি সেতুর জন্য দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাই দুই সংসদ সদস্যদের কাছে আমাদের চাওয়া-পশ্চিম ভালুকার হাজারও মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি ভেবে এই অর্থবছরেই যেন খীরু নদীর ওপর বয়রাটেকের সেতুটি নির্মাণ করা হয় এ বিষয়ে ইজারাদার মো. ওয়াদুদ মিয়া বলেন, এক বছরের জন্য ষাট হাজার টাকায় ঘাটটি মেদুয়ারী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ইজারা নিয়েছেন তিনি। পরে তিনি নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছেন। তাই সাঁকো পার হলে প্রত্যেকের কাছ থেকে পাঁচ টাকা করে আদায় করা হয়। মল্লিকবাড়ী শহিদ নাজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক কিরণ বলেন, এখানে ব্রিজ না থাকায় অনেক শিক্ষার্থীও যাতায়ত সমস্যা হয় এবং ব্রিজ থাকলে আমার প্রতিষ্ঠানে আরও বেশী শিক্ষার্থী লেখাপড়ার সুযোগ পেত।
উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, খীরু নদীর ওপর বয়রাটেকের সেতুটি অনেক আগেই নির্মাণ করার প্রয়োজন ছিল। প্রতিদিন শত শত মানুষকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয়। এ বিষয়ে ভালুকা উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই সেতু নির্মাণ কাজের প্রক্রিয়া চলছে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১২ সেপ্টেম্বর/আসাদ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন