হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎযাপন।

নিজস্ব প্রতিবেদক: দিনাজপুর জেলার একটি স্বনামধন্য ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে বলতে গেলে এর আদি ইতিহাস সম্পর্কে জানতে হবে এবং ছাত্র/ছাত্রীদের জানাতে হবে।
সংক্ষিপ্ত বিবরণীর মাধ্যমে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস তুলে ধরা হলোঃ- বাংলাদেশের দিনাজপুর বাশেরহাট নামক স্থানে অবস্থিত একটি সরকারী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। বাংলাদেশের ২য় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং তেভাগা আন্দোলন এর জনক ও এ অঞ্চলের জনদরদী কৃষকনেতা হাজী মোহাম্মদ দানেশ এর নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়। এটি উত্তর বাংলার সেরা বিদ্যাপীঠ যা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর মাঝে শীর্ষস্থানীয় ১৯৯৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর একটি অনুষদ নিয়ে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হাঁটি হাঁটি পা পা করে যাত্রা শুরু করে।

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু ১৯৭৬ সালে এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন ট্রেনিং ইনিস্টিটিউট (অঊঞও) হিসেবে যা কৃষিতে ডিপ্লোমা ডিগ্রী প্রদান করা হতো। ১৯৮৮ সালের ১১ নভেম্বর এটিকে স্নাতক পর্যায়ে কৃষি কলেজে উন্নীত করা হয়। এটি তখন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ এর অধিভুক্ত কলেজ ছিল। ১১ সেপ্টেম্বর ১৯৯৯ এই কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এটিই বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। ২০০০ সালে কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার লক্ষে “বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন প্রকল্প” গ্রহণ করা হয়। ৮ জুলাই ২০০১ হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাশ করা হয়। ২০০২ সালের ৮ এপ্রিল মহামান্য রাষ্ট্রপতি প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়। ১৬ই এপ্রিল আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুর” হয়।

বিশিষ্ট মৃত্তিকা বিজ্ঞানী প্রফেসর ড: মো: মোশাররফ হোসাইন মিঞাঁ এ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য। এটি উত্তরবঙ্গ তথা রংপুর বিভাগের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মাধ্যম ইংরেজি। কোর্স-ক্রেডিট-সেমিস্টার পদ্ধতিতে পরিচালিত। বর্তমানে ৯ টি অনুষদের অধীনে ২৩ টি বিষয়ে সনদ প্রদান করা হয়, এর মধ্যে স্নাতক পর্যায়ে ৮ টি অনুষদে ২২ টি বিষয় এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে একটি অনুষদে ২৮ টি বিষয় রয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের আয়তন ১৩৫ একর, এবং ছাত্র/ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১১,০০০ জন। এদের মধ্যে বৈদেশিক ছাত্র/ছাত্রীর সংখ্যা ২২০ জন। এখানে সোমালিয়া, নাইজেরিয়ান, ইথোপিয়ান, নেপাল, ভারত ও ভুটানের ছাত্র/ছাত্রীরা এসে উচ্চতর শিক্ষা অর্জন করে।

গত ১১ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর বাশেরহাট হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে সকাল ৯.০০ টায় পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠের মধ্যে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রথম কর্মসূচি গৃহিত হয়। সকাল ৯.০৫ ঘটিকায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংঙ্গীত পরিবেশন, কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে দিবসটির শুভ উদ্ভোধন ঘোষণা করেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড.মু. আবুল কাসেম। এ সময় অন্যান্য বিশেষ অতিথি বৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. প্রফেসর ফজলুল হক, ট্রেজারার বিধান চন্দ্র হালদার, প্রক্টোর খালেদ হোসেন, ছাত্র পরামর্শক নির্দেশনা বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর রাজিব হাসান, প্লানিং ডিরেক্টর প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান এবং আইআরটি অনুষদের পরিচালক প্রফেসর তরিকুল ইসলাম সহ অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষ্যে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালি হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের, সাধারণ ছাত্র/ছাত্রী ও বিভিন্ন অনুষদের কর্মকর্তা/কর্মচারী ও মাস্টার রোলে কর্মরত চাকুরীজীবীদের সমন্বয়ে র‌্যালিটি প্রশাসকি ভবন চত্তর থেকে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনে এসে শেষ হয়। র‌্যালিটির নেতৃত্ব দেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম।হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মদিন উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে কেক কেটে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করেন। আর জন্মদিনের এই কেক কাটেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম।

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্তরে কেক কাটার আনুষ্ঠানিকতা ও ২০ তম জন্মদিন পালন উপলক্ষ্যে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে কেক কাটা সহ বিভিন্ন কাজের নেতৃত্ব দেন ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে মোঃ রাসেল আলভি, মাহফুজুর রহমান মাফুজ, মির্জা ফয়সাল সৌরভ, আলমঙ্গীর হোসেন আকাশ, মোস্তফা জামান, শাহ্ আলম, রাঙ্গা, আলাউদ্দিন, নবি, সুব্রত, অন্তু, শফিকুল ইসলাম সজল, মোরশেদুল আলম রনি, রিয়াদ খান, সৈকত, ইলিয়াস সহ ছাত্রলীগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। হাবিপ্রবির ২০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্কুলের ছোট ছোট বাচ্চাদের মাঝে ফলজ বৃক্ষ বিতরণ করেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম।

হাবিপ্রবির ২০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে সমস্ত কর্মসূচি পালন শেষে সাড়ে বাইশ কোটি টাকা ব্যায়ে ছয় তলা বিশিষ্ট ৭২০ শয্যার ছাত্রী নিবাসের উদ্বোধন করেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম। এই সময়ে তিনি বলেন, হাবিপ্রবির শিক্ষা ব্যবস্থাকে আর্ন্তজাতিক মান সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে রিচার্স সেন্টার সহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আধুনিক ও বিশ্বমানের শিক্ষায় নিজেদেরকে যুগপোযোগী করে গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। পরিশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তোরত্তর উন্নতি কামনা করে বক্তব্য অদ্যকার কর্মসূচি শেষ করেন।

আলোকিত প্রতিদিন/সেপ্টেম্বর/১১/এসএম

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন