যে কারণে বরখাস্ত হলেন ওয়ারীর ডিসি ইব্রাহিম

নিজস্ব প্রতিবেদক: সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ এর বিধি ১২(১) অনুযায়ী ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ ইব্রাহিম খানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে।

জানা গেছে, স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত শহীদ একেএম সামসুল হক খানের পরিবারের নামে বরাদ্দ দেয়া পুরান ঢাকার নবাবপুরের একটি সরকারি জমি ২০১৮ সালে জবরদখল ও ভবন ভেঙে ফেলে সন্ত্রাসীরা। এ বিষয়ে বংশাল থানা ও জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করে পরিবারটি।

সূত্র আরও জানায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে সামসুল হক খানের মা মাসুদা খানকে ঢাকার নবাবপুর রোডের ২২১ নম্বর হোল্ডিংয়ে চার কাঠার প্লটটি ইজারা দেন। পরে তার উত্তরসূরি হিসেবে তার ছেলে আজহারুল হক খানকে ওই জমি হস্তান্তর করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে ওই জমিতে মাসুদা কর্পোরেশন ও এসএইচকে কর্পোরেশন নামে দুটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়।

জানা যায়, স্থানীয় শেখ জাবেদ উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ীসহ কয়েকজন ওই জমি আর বাড়ি দখলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন। এ ব্যাপারে থানায় একাধিকবার জিডিও করা হয়েছে। সর্বশেষ ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাবেদ উদ্দিনের লোকজন জমি দখল করে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনার পরদিনই তারা এ বিষয়ে বংশাল থানায় মামলা করলেও থানা পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ বিষয়ে তারা লালবাগ জোনের তৎকালীন ডিসি ইব্রাহিম খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কিন্তু এতে কোনো কাজ হয়নি।

এ ঘটনায় পুলিশ সদর দফতরে ডিসির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে পরিবারটি। অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি করে পুলিশ সদর দফতর। কমিটি ডিসি ইব্রাহিম খানের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, তদন্তে অসহযোগিতা ও দায়িত্ব অবহেলার প্রমাণ পায়। পরে ডিসি ইব্রাহিমকে একটি চিঠি দিয়ে এসব অপরাধের বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে চলতি বছরের ২৩ মে পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি (পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট -১) আমিনুল ইসলাম।

চিঠিতে বলা হয়, ভুক্তভোগীর এসব অভিযোগ শুনেও ডিসি ইব্রাহিম বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ব্যবস্থা নিতে কোনো নির্দেশনা দেননি বা নির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হয়েছেন। পুলিশ সদর দফতরের ডিসি যে তদারকি প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন, সেটা তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন না করে জমা দিয়ে অসত্য তথ্য উপস্থাপন করেছেন। এ ছাড়াও তিনি দায়িত্বে অবহেলা করেছেন।

ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য ডিসি ইব্রাহিমকে ১০ কার্যদিবস সময় দেয়া হয়। তার ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাকে বরখাস্ত করার সুপারিশ করে সদর দফতর। সেই সুপারিশের আলোকে সোমবার ডিসি ইব্রাহিমকে সাময়িক বরখাস্ত করে আদেশ জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আলোকিত প্রতিদিন/আগস্ট/২/এসএফ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন