ইয়াবা তৈরি হচ্ছে চট্টগ্রামে

নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামে তৈরি হচ্ছে মরণ নেশা ইয়াবা। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা কারিগরদের সহায়তায় নগরী ও জেলার কমপক্ষে ৫টি কারখানায় তৈরি হচ্ছে ইয়াবা। এসব কারখানা স্থাপনের নেপথ্যে রয়েছে প্রভাবশালী মহল। যাদের মধ্যে রাজনৈতিক দলের নেতা, প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্য এবং মাঝারি সারির কয়েকজন ব্যবসায়ী যুক্ত রয়েছেন।

সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া প্রতিবেদনে ভয়াবহ এ তথ্য উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশে ইয়াবা প্রবেশের ট্রানজিট পয়েন্ট কক্সবাজার সীমান্ত এলাকায় কড়াকড়ি এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধির পর থেকেই চট্টগ্রামে ইয়াবা তৈরির কারখানা গড়ার উদ্যোগ নেয় মাদক ব্যবসায়ীরা। চট্টগ্রামে ইয়াবা কারখানা তৈরির নেপথ্যে রয়েছেন কয়েকজন প্রভাবশালী রাজনীতিক, পুলিশের কিছু কর্মকর্তা এবং চট্টগ্রামের মাঝারি সারির কয়েকজন ব্যবসায়ী। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের কয়েকজন ইয়াবা ডন। এসব পেশার মানুষকে নিয়ে কয়েকটি ইয়াবা সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে চট্টগ্রাম নগরী ও জেলায়। এ সিন্ডিকেটের সদস্যরা মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা ইয়াবা তৈরির কারিগরকে নগরীতে নিয়ে আসে। একই সঙ্গে নিয়ে আসা হয় ইয়াবা তৈরির মেশিন। এ কারিগর দিয়েই ছোট্ট একটি রুমে  তৈরি করা হয় মরণ নেশা ইয়াবা। এরই মধ্যে একটি গোয়েন্দা সংস্থা নগরীতে ইয়াবা কারখানা স্থাপনের বিষয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সীমান্ত ও সড়কপথে কড়াকড়ির কারণে এখন ইয়াবা ব্যবসায়ীরা নগরীর খাতুনগঞ্জ, হালিশহর, পতেঙ্গা এবং জেলার রাঙ্গুনিয়া, সীতাকুন্ড, হাটহাজারী, ফটিকছড়িসহ কয়েকটি উপজেলার দুর্গম এলাকায় ইয়াবা কারখানা স্থাপন করেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, ‘চট্টগ্রাম কক্সবাজার রুটে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কারণেই ইয়াবা ব্যবসায়ীরা নগরী ও জেলার কয়েকটি স্থানে ইয়াবা কারখানা স্থাপন করেছে।’ এ বিষয়ে র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মাহবুবুল আলম বলেন, ‘অতীতে র‌্যাব লোকাল তৈরি ইয়াবা জব্দ করলেও পরবর্তীতে দেখা গেছে ইয়াবাগুলো ছিল নকল। নকল ইয়াবা যখন হয়েছে, আসল ইয়াবাও তৈরি হতে পারে। বিষয়টা অমূলক নয়। নতুন করে বিষয়টা যখন এসেছে আমরা সিরিয়াসলি নেব।

 

 

আলোকিত প্রতিদিন/আগস্ট/২৮/এসএফ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন