ফেরেববাজি- সৈয়দ রনো

ফেরেববাজি সৈয়দ রনো আমি জানি। আমি এও জানি আমার অক্ষমতা কোথায়। অথবা কতটুকু ভালোবাসা পেলে জীবনকে নিতে পারি হাতের মুঠোয়। যেহেতু মহামানব নই তাই বাস্তবতাকে পাশ কাটিয়ে চলতে পারি না আমি। রোজ দেখি রঙ, বে– রঙের, কু–কীর্তিকলাপ।
ভন্ডামি দেখতে দেখতে আবেগের নোনা জল শুঁকিয়েছে অনেক আগে। শরীরের লোমকুপের ফাকে ফাকে বেধেছে মাকড়শার বাসা। তাই এখন আর গা শিউরে উঠে না মোটেও। লেখালেখিতেও খুব একটা মন বসে না। মিথ্যের মায়াকান্নায় ভিজে চুপসে যাচ্ছে সত্যের ইতিবৃত্ত ও ঐতিহ্যের পাতা। প্রতিদিন সাহেব বিবির ঘাম মুছা টিস্যুর মতো কাজ শেষে ছুড়ে ফেলা হচ্ছে সত্য সুন্দরের ইতিহাস। বিকৃত মানুষিকতার লিপ্সা চরিতার্থে শত সহস্র সত্য চোখের সামনে হয়ে যাচ্ছে মিথ্যে। আর মিথ্যেবাদী সেও নর্তকীর মতো নাচতে নাচতে মাতালদের মনোরঞ্জনে হয়ে যাচ্ছে সত্যবাদী। এই হলো রক্তাক্ত উপলব্ধি মাত্র।

সে কি আস্ফালন, সে কি ক্ষমতার দাপট, সে কি মিথ্যাচার আর পাপাচারের হুলি, খেলাকুট কৌশলি চালে পরাস্ত সবাই । হতাশার চাদর মুড়িয়ে ক্লান্ত সময় পার করছে এখন পাড়া মহল্লা বাসী। এ সব কুলাঙ্গারের সর্বনাশা কৃর্তি দেখে চোখের জ্যোতি কমে আসে। আর কান সেও বিট্রে করেছে নিজের সাথে নিজে। এলোমেলো ভাবনাগুলো স্হির বিন্দুতে দাঁড়াতে চায় না। প্রতিরাতে দলছুট একরাশ ভারি বাতাস গোল্লাছুট খেলে। শনশন করে বয়ে চলার ফাকে চিৎকার করে বলে– কবি, সাহিত্যিক,বুদ্ধিজীবি, ভাষাবিদ,গবেষক, ধর্মযাজক কেউ কি পারবেন, সত্য এবং মিথ্যের মধ্যে টেনে দিতে বিভেদ রেখা। তখনো নিশ্চুপ সবাই। মধ্যরাতের কোলাহল গায়ে মেখে দাঁড়িয়ে থাকি একা।

আকাশের একফালি চাঁদের যতসামান্য হাসিকেও ম্লান করে দেয় ভাসমান মেঘ। রাতের ক্লান্তি শেষে সূর্য উঠে। মুনাফাখোর আর ঠকবাজের দুনিযায় দিনের আলোতেও অন্ধকার দেখি চোখে। এ কি তামাশগীরি নাকি মিথ্যের মায়াজালে আটকে পরা দুনিয়া। ঐতো স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, সত্যের প্রতিক আস্ত ইট গুলোকে এক দল চাটুকার হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ভেঙেচুড়ে টুকরো টুকরো করে, নাম নিশানার পরিবর্তন ঘটানোর মধ্যদিয়ে সত্যকে মিথ্যার চাদরে মুড়িয়ে ফেললো। ন্যায় প্রতিষ্ঠার ইমারত গড়তে আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ানো শক্ত মজবুত ইটইতো আমি চেয়েছিলাম। আজ ওদের ভাষায় এগুলো নাকি ইট নয়, খুয়া। এখন খুয়াই সত্য। কালকের সত্যের মধ্যে আজকের সত্য যোজন যোজন ফারাক।

কাশ্মীরতো পরাধীন ছিলো না, ফিলিস্তিনও ছিলো স্বাধীন, অধিকাংশ নবী, রাসুলগনের জন্মভূমি খ্যাত পবিত্র মাটি। কৌশলের গ্যাড়াকলে আজ আটকে পড়েছে মানব রুপি হিংস্র দানবদের খোয়াড়ে। প্রতিদিন প্রতিরাত নয়,প্রতিটি সেকেন্ড মিনিট গুনে গুনে হত্যা এবং ধর্ষনের হিংস্রতায় পশুকেও হার মানাচ্ছে দখলদারগণ। যে সত্য নামক সুঠাম দেহ নিয়ে ধরাধামে নেমে আসে সর্বগ্রাসী মৃত্যু তাওতো অবলিলায় মেনে নেয় মানুষ।এর পরেও দাম্ভিকতার যেনো শেষ নেই, কেবল অন্তহীণ যাত্রা। যে বিজ্ঞানের পেয়ালায় জনম জনম ভিজিয়ে রাখা হয় প্রকৃতি, সেখান থেকেই উপচে পড়া প্রকৃতির ক্রমাগত বিবর্তনের ফলে গড়ে উঠেছে আজকের বিশ্বসভ্যতা। অনাহারী অর্ধাহারী মানুষের মুখের আহার কেঁড়ে নিয়েই তো অধিকাংশ ধনিক শ্রেণির বিলাসবহুল জীবন। পাপাচারের পরাকাষ্ঠে মানুষকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখাড় করা চুল্লিতে স্বার্থ অন্ধ পাষন্ড মানব বানায় পারমানবিক বোমা। কোন শুভ কাজের হাতেখড়িতে ব্যাবহিত হবে এই বোমা। আমি জানতে চাই?

তবে ইতিহাস স্বাক্ষী, স্বাক্ষী থেকো বর্তমান সময়, একদিন না একদিন মিথ্যুকের বিস্তৃত জালে আটকে পরা ভাগ্যবিরম্বিত মানুষের মুক্তি হবেই হবে। হয়তো আমি আমরা বিবেকের দহনে মোমবাতির মতো জ্বলে পুড়ে নিশ্বেষ হবো। ক্ষনিকের জন্যে হলেও জ্বালানো সামান্য আলোর পথে হেঁটে বিশ্ব ভূমাণ্ডে উদিত হবে সত্য ও ন্যায় আশ্রিত সূর্য। যার জ্যোতির বিকিরণে জাগ্রত হবে মানবিক মুল্যবোধ। এরপর তারপর মানব মুক্তির কল্যাণময় পৃথিবী হবে শান্তির বেলা ভূমি। সেদিনের প্রতিক্ষায় শত কষ্ট নিয়েও জেগে থাকো হে নির্যাতিত জনগোষ্ঠী।

আলোকিত প্রতিদিন/আগস্ট/১৭/এসএম

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন