বন্যার পানি ধীর গতিতে হ্রাস বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকটে পানিবন্দী মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক: গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি ধীর গতিতে হ্রাস পেলেও করতোয়া নদীর পানি এখন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জ এলাকায় বাঙালী নদীর পানি তোড়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাধ ভেঙ্গে যাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বন্যা কবলিত এলাকার পানিবন্দী পরিবারগুলোর মধ্যে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি সংকট, স্যানিটেশনের অব্যবস্থা, গবাদি পশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।  এদিকে বন্যার পানিতে ডুবে গত দু’দিনে গোবিন্দগঞ্জের মহিমাগঞ্জ সুগার মিল এলাকায় মনু মিয়ার মেয়ে মুন্নি (৭) ও সাঘাটা উপজেলার মুক্তিনগর ইউনিয়নের জাহেদুল ইসলামের মেয়ে জান্নাতী খাতুন (১০) মারা গেছে। এ নিয়ে জেলায় বন্যার পানিতে ডুবে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় এ পর্যন্ত জেলার সাতটি উপজেলার ৫১টি ইউনিয়নের ৩শ’ ৮৩টি গ্রামের ৪ লাখ ৮৫ হাজার সাড়ে ৩শ’ লোক এবং ৪৪ হাজার ৭শ’ ৯২টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৮০টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৭৪ হাজার ১শ’ ৪ লোক আশ্রয় নিয়েছে।  এছাড়া আরও জানানো হয়, বন্যায় ৫শ’ ৭৫ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা এবং ২৩৫ কি.মি. পাকা রাস্তা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৬৩ কি.মি. বাঁধ, ২১টি কালভার্ট এবং ১০ হাজার ৮শ’ ৩৩ হেক্টর আবাদি জমি বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। তদুপরি ১শ’ ৭৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ২শ’ ৬৪টি মাদ্রাসায় পানিতে নিমজ্জিত হওয়ায় ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষাদান কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এদিকে আকস্মিক বন্যায় ডোবা পুকুরগুলো ডুবে যাওয়ায় ২ হাজার ৯শ’ ৪১টি পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা গেছে, শনিবার ব্রহ্মপুত্রের পানি কিছুটা হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার ১২৯ সে.মি. এবং ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার ৭১ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়া করতোয়া নদীর পানি নতুন করে বৃদ্ধি পেয়ে এখন বিপদসীমার ৩ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আলোকিত প্রতিদিন/জুলাই/২১/এমএ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন