টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার সরোয়ার জাহান মিঠুকে নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন

মো: মিজানুর রহমান : শুক্রবার (১০ মে’১৯) সকাল ১০ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ও বিশাল মানববন্ধন করেছে এসোসিয়েশন অফ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজিস্ট। প্রকৌশলী সরোয়ার জাহান মিঠুকে গ্রীন লাইফ নিট কম্পোজিট লিমিটেড এর মালিক আবু ফয়সল মোসাব্বির (সায়মন) কর্তৃক নির্যাতনের প্রতিবাদে নির্যাতনকারীকে দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে এ সংবাদ সম্মেলন ও মানব বন্ধনে অংশ নেন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্রছাত্রীবৃন্দ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন  জাতীয় সংসদের মাননীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মো: মোজাফফর হোসেন।

আগামী সাত দিনের মধ্যে আশুলিয়ার গ্রীন লাইফ নিট কম্পোজিট লিমিটেড এর মালিক আবু ফয়সল মোসাব্বির (সায়মন) কে আইনের আওতায় না আনা হলে পরবর্তীতে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দিয়েছেন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়াররা।

এর আগে গ্রীন লাইফ কম্পোজিট টেক্সটাইলের ওয়াশিং প্ল্যান্টে জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ইঞ্জিনিয়ার সারোয়ার জাহান মিঠুকে গত ২ মে গ্রীনলাইফ ওয়াশিং প্ল্যান্টের মালিক আবু ফয়সল মোসাব্বির (সায়মন) মধ্যযুগীয় কায়দায় হাত-পা বেঁধে মুখে কাপড় গুঁজে লোহার রড দিয়ে হত্যার উদ্দ্যেশে নির্মমভাবে নির্যাতন করে এবং অফিসে বন্দী করে রাখে। পরে তাকে ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতে বললে স্বাক্ষর করতে রাজি না হওয়ায় পরবর্তীতে তার উপর শারিরীক ও মানসিকভাবে অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে মিঠু ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে দেন। এ্ সময় মিঠুর মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। এক সময় তিনি অচেতন হয়ে পড়লে গ্রীন লাইফ ওয়াশিং প্ল্যান্টেের মালিক মিঠুকে মৃত ভেবে তার ভাড়া করা সন্ত্রাসী দিয়ে মিঠুর বাড়ীর কাছে ফেলে আসে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে অচেতন, রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে স্বজনদের খবর দেয়। খবর পেয়ে তার স্ত্রী দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং অতিদূত টঙ্গী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার উত্তরা আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে টেক্সটাইল সেক্টরের নেতা-কর্মীরা তার সার্বিক অবস্থার খবর জানতে হাসপাতালে ছুটে যান এবং এ ব্যাপারে করনীয় ঠিক করতে জরুরী মিটিং ডাকেন এ মিটিং এ আরও উপস্থিত ছিলেন ATET, ITET – সহ এই সেক্টরের বিভিন্ন পেশাজীবী, ছাত্র, রাজনৈতিক, সেচ্ছাসেবী, সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মিটিংয়ে এই মর্মান্তিক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয় এবং সঠিক তদন্তের মাধ্যমে উক্ত কম্পানির মা‌লি‌ককে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত বিচারের দাবীর ব্যাপারে উপস্থিত সবাই এক মত পোশন করে। পরে মাননীয় সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মোজাফফর হোসাইন (সভাপতি – বিবিটিএ) এবং ইঞ্জিনিয়ার শফিকুর রহমান (সভাপতি -আইটিইটি) তার সার্বিক খোজ খবর নিতে মেডিক্যালে যান ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দেন। পরে রাতে মিঠুর সহ-ধর্মিনী বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি মামলা করেন।

আলোকিত প্রতিদিন/১০ মে’১৯/জেডএন

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন