আদালতের রায় অমান্য করে এ্যাড. শামসুল হকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অন্যের জায়গা দখলের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : মানিকগঞ্জ জেলাধীন ঘিওর উপজেলায় এ্যাড. শামসুল হকের বিরুদ্ধে আদালতের রায় অমান্য করে অন্যের ঘর-দরজা ভেঙ্গে জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে। গত ২৩ এপ্রিল (মঙ্গলবার) দুপুরে তিনি ঘিওর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ঘিওর থেকে ফুলহারা যাবার পথে রাস্তার উত্তর পাশে ঘিওর মৌজার আরএস রেকর্ড ৮২৩ দাগের ৯ ডিং ভূমির অধীর চন্দ্র সরকার জিতেন এবং সৈয়দ আব্দুল লতিফের স্বত্ব দখলীয় ভূমি সন্ত্রাসী কায়দায় ৭/৮ জন সন্ত্রাসী তথা সুমন হক এর নেতৃত্বে একদল উচ্ছৃঙ্খল ছেলেদের মাধ্যমে ঘর-বাড়ি ভাঙ্গার অভিযোগ উঠেছে।

এ ব্যাপারে আলোকিত প্রতিদিনের প্রতিবেদক সরেজমিনে পরিদর্শন করে জানতে পারেন উক্ত ৯ ডিং সম্পত্তির ২ ডিংয়ের মালিক সৈয়দ আব্দুল লতিফ যার ১ ডিং তিনি বিক্রি করার পর ১ ডিংয়ের মালিক থেকে ভোগদখল থাকা অবস্থায় মূত্যুবরন করায় তার ছেলে সন্তান ওয়ারিশ সূত্রে মালিক হয়েছেন। আর বাকি ৭ ডিংয়ের মধ্যে আবু রায়হান নামক ব্যাক্তি ৫ ডিংয়ের মালিক এবং নাফিসা খাতুন নামক মহিলা ২ ডিংয়ের মালিক কিন্তু তারা কেউ দখলে ছিলেন না। এমতাবস্থায় এ্যাড. শামসুল হক আবু রায়হানের ৫ ডিং সম্পত্তি কেনেন। অথচ ২০০৮ সালে অধীর চন্দ্র সরকার জিতেন এই সম্পত্তির দখলের বিরুদ্ধে নিন্ম আদালতে মামলা করলে আদালত মামলা খারিজ করে দেন। এরপর তিনি খারিজের বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০১৭ সালের আদেশে উচ্চ আদালত আগের রায় বহাল রেখে রায় প্রদান করেন। উল্লেখ থাকে যে, এসব মামলায় আব্দুল লতিফ, আবু রায়হান, নাফিসা খাতুনের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এ্যাড. শামসুল হক। এমতাবস্থায় এ্যাড. শামসুল হক আবু রায়হানের নামে ৫ ডিং সম্পত্তির ডিক্রি হাসিল করার পর জিতেন সরকারের বিপক্ষে মাত্র ৫ ডিং দখলের আদেশ পেলেও সরেজমিনে গিয়ে তিনি ৯ ডিং সম্পত্তিতেই উচ্ছেদ অভিযান করেন, যার মধ্যে ১ ডিং আব্দুল লতিফ ঘর নির্মাণ করে সাইকেল-রিকশার গ্যারেজ ভাড়া দিয়ে ভোগ দখলে ছিলেন। সেখানে এ্যাড. শামসুল হক তার ঘর ভেঙ্গে লুটতরাজ করেন বলে প্রমান পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে উক্ত এলাকায় এ্যাড. শামসুল হকের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় জনসাধারণের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, ‘আইন মতে বিবাদীর পক্ষে যে আইনজীবী মামলা পরিচালনা করেন সেই আইনজীবী সেই বিবাদীর সমপত্তি ক্রয় করতে পারেন না। করলে বার কাউন্সিল এর সিদ্ধান্ত মোতাবেক তার আইন পেশার লাইসেন্স বাতিল হবার নিয়ম রয়েছে। তবে এই শামসুল হকের খুঁটির জোর কোথায়?’

 

আলোকিত প্রতিদিন/২৫ এপ্রিল’১৯/জেডএন

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন