আনন্দময় শৈশব ”সিত্তুল মুনা সিদ্দিকা’ সহকারী প্রধান শিক্ষক বেপজা পাবলিক স্কুল ও কলেজ, ইপিজেড,চট্রগ্রাম।

প্রবন্ধ: একটি শিশুকে অনেক ভালো শিক্ষা দিচ্ছি ঠিক কিন্তু ভালো মানুষ হিসেবে শিশুর ওই নৈতিকতা তৈরী করে দিতে হয় শৈশবেই।বিনয়ী হয়ে বড় হবে।এই তো শিশু শিক্ষা।লেখা আর পড়া নয় বরং অন্তর মূল্যবোধের আগ্রহ ও চর্চা করেই শিক্ষার সূচনা করবে।অন্তর জগতে আলো ছড়িয়ে ভাল হয়ে সমাজকে স্বমহিমায় আলোকিত করবে। তাই প্রাক্‌-প্রাথমিকে ক্লাসরুমের কারিকুলাম থাকবে। কিন্তু কোন কাজ কীভাবে দিলে শিশুর বিকাশ ঘটবে, সেটা জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ।কোমলমতী শিশু আগামী দিনের কর্ণধার। শৈশবের সময়টাই প্রাণোচ্ছলতা কিংবা আরামের মুহূর্ত। আন্তর্জাতিক গবেষণায় প্রমাণ আছে যে তিন থেকে ছয় বছর বয়সী কোনো শিশু কোনো ধরনের শিক্ষাসম্পর্কিত প্রাতিষ্ঠানিক চর্চায় যদি না যায়, তাহলেও পরবর্তী পরীক্ষায় বিন্দুমাত্র সমস্যা হয় না।কাল্পনিক গল্পই শিশুরা অনেক ভালবাসে কারণ তারা কল্পনা প্রবণ। যে বয়সে লেখাপড়া শেখানোর জন্য, প্রথম-দ্বিতীয় করার জন্য পাগল হয়ে পাঠশালায় পাঠানো হয় ,তা তার পক্ষে পড়ালেখা কতোটা সম্ভব ? তা অভিভাবক মোটেই ভেবে দেখে না।এ বয়সটা তাদের খেলার। এ সময় শিশুমনে কল্পনার জগৎ তৈরী করতে হয়।শিশু তার সমস্ত ইন্দ্রিয় দিয়ে জ্ঞান লাভ করে কেবল তার কান দুটি দ্বারা শুনে। তাই শিক্ষায় সমস্ত ইন্দ্রিয় গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। শিশু স্বভাবতই কর্মী- কিন্তু শ্রোতা হতে কষ্ট বোধ করে। ধৈর্য তাদের অনেকাংশে কম থাকে। কর্মচঞ্চলতাই তাদের স্বাভাবিক ধর্ম। ওরা কেবল চাপমুক্ত হয়ে নির্মল সারল্যে বেড়ে উঠতে চায়।
শিশুদের বিনোদনের জন্য একেবারেই শৈশব থেকে মাধ্যমিক পর্যায়ের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে খেলার ব্যবস্থা করলে মনোদৈহিক বিকাশ ভাল হয়। শিশু বিকাশের পাঁচটি দিক আছে—দৈহিক বিকাশ, মানসিক বিকাশ, সামাজিক বিকাশ, আবেগীয় বিকাশ, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক বিকাশে । প্রাক্‌-প্রাথমিকে ক্লাসরুমের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।আকর্ষনীয় শিক্ষা উপকরন ব্যবহার করে নিজে করে নিজেই শেখে।শিশুর শিক্ষার মানে পাঠে আগ্রহ সৃষ্টি করা। বই পাঠে তাদের আনন্দ আসবে, মানসিক পরিবর্তন ঘটবে তাই ভালো লাগা, মন্দ লাগা এবং রুচিশীলতা বৃদ্ধি করার সঙ্গে বুদ্ধির প্রবণতাকেই কর্মমুখী শিক্ষায় জীবন গড়ানো প্রয়োজন। সুদক্ষ প্রজন্ম পেতে হলে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি কর্মমুখী শিক্ষার প্রয়োজন।এতে ওরা সৃজনশীল মানুষ হয়ে বেড়ে ওঠে।স্কুলের ব্যাপারটা হবে কল্পনার আনন্দে শেখা ।তাই মাল্টিমিডিয়া ব্যবহার করে শ্রেনিকক্ষে আনন্দের আবহ তৈরী করে শেখালে তা শিশুমনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ে। উদ্বেগে কথা হল ,প্রযুক্তির এ যুগে আমাদের অজান্তেই মায়া মমতা প্রেম আর ভালোবাসাহীন একটা প্রজন্ম চরম নিষ্ঠুরতাকে উপভোগ করতে করতে বিকশিত হচ্ছে, আমরা মোটেই টের পাচ্ছি না।ব্যস্ত জীবন নিয়ে কাটে বর্তমান সময়।শিশু বয়সে অতিরিক্ত পড়ালেখার চাপে আড়ষ্ট । কোমলমতি শিশুদের মানসিক উৎকর্ষ সাধনের সকল প্রক্রিয়াকে ক্রমান্বয়ে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। যাবতীয় মানবিকতার চর্চা থেকে সরিয়ে আমরা আমাদের শিশুদের নৃশংসতা এবং নিষ্ঠুরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছি। সবাইকে মেরে কেটে বেরিয়ে যাওয়ার বা এগিয়ে যাবার অত্মকেন্দ্রিক শিক্ষা নিচ্ছে। পরপোকারী ,মমতা কিংবা পরমত সহিষ্ণু ভালোবাসার শিক্ষা পায় না।একক ভাবে এগিয়ে যেতে শেখে। ফলে স্বার্থপর হয়ে সমাজে বেড়ে ওঠে। মুলতঃ সমাজে আক্ষরিক অর্থে এক শ্রেনির মূল্যবোধ বিহীন জ্ঞণপাপী সৃষ্টি হয়।ভালো একটি জাতি তৈরির জন্য সৎ মানুষ খুবই প্রয়োজন ।ভালো ফলাফলের চেয়ে ভালো মানুষ হয়ে গড়ে উঠতে এবং শিশুদের খেলাধুলা, গান, ছবি আঁকার মতো সৃজনশীল দিকগুলো বিকাশে পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করলে সুন্দর মননে গড়ে তুলবে আগামী প্রজন্মকে। এই অবেলায় তারই পথ চেয়ে বসে আছি।

আলোকিত প্রতিদিন/১৯এপ্রিল/এমএ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন