শ্রীপুরে সহপাঠীকে জড়িয়ে অপবাদের অভিযোগ, কিশোরীর আত্মহত্যা

আলমগীর হোসেন, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুরে সহপাঠীকে জড়িয়ে আপত্তিকর কথাবার্তা বলায় এক কিশোরী শিমলা রানী দাস (১৪) আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত শিমলা রাজেন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর (সাটিয়াবাড়ী) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা নৃত্যানন্দ ঋষি দাস সাটিয়াবাড়ি এলাকার চন্দন বাবুর ছেলে রাজকুমার চন্দ্র মনি দাস (৩০) ও নৃপেন্দ্র চন্দ্র মনি দাসের ছেলে রিপন চন্দ্র মনিদাসকে (২৭) অভিযুক্ত করে শনিবার দুপুরে শ্রীপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

কিশোরী শিমলা রানী দাস কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার বাজিতপুর দীঘিরপাড় এলাকার নৃত্যানন্দ ঋষি দাসের মেয়ে। সে তার বাবা-মার সাথে ওই এলাকার হানিফের বাড়িতে ভাড়া ওই স্কুলে লেখা-পড়া করতো। তার বাবা জুতা সেলাই (মুচি) ও মা স্থানীয় ডার্ড কম্পোজিট গার্মেন্টস কারখানায় শ্রমিকের কাজ করে।

নৃত্যানন্দ ঋষি দাস জানান, অভিযুক্ত যুবকেরা স্কুলে যাতায়াতের পথে তাঁর মেয়েকে প্রতিবেশী সুকুমার চন্দ্র দাসের ছেলে ওই স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্র সুখচানকে জড়িয়ে নানা ধরণের অপবাদ দিত ও উত্যক্ত করত। প্রায়ই সহপাঠী সুখচানের নাম ধরে তাকে (শিমলা) ডাকাডাকি করত।

বৃহষ্পতিবার রাত ৮টায় কিশোরী তার মা-বাবার সাথে স্থানীয় একটি মন্দিরে পুজা দিতে যায়। এসময় অভিযুক্তরা ওই মন্দিরে গিয়ে পূজা করতে আসা দর্শক ও মা-বাবার সামনে সহপাঠীকে জড়িয়ে নানা ধরণের কথাবার্তা ও সুখচানের নাম ধরে তাকে ডাকতে থাকে। সুখচান নাম ধরে ডাকার প্রতিবাদ করলে অভিযুক্তরা তাকে অপমান করে এবয় আত্মহত্যা করে মরে যেতে বলে। এ ঘটনায় সে সারা রাত ঘুমাতে পারেনি বলে জানায় বাবা ঋষি দাস। পরে সকালে তাকে বুঝিয়ে তার বাবা ও মা কাজে চলে যায়। শুক্রবার দুপুরে তার মা অফিস থেকে এসে খাবার খেয়ে আবার অফিসে চলে যায় ও ছোট দুই ভাইবোন খেলতে যায়। পরে বিকেল সাড়ে ৪টায় ছোট বোন শিমু ঘরে আসলে দরজা ভিতর থেকে বন্ধ দেখতে পায়। পরে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে তার ভাকে ডাক দেয়। ভাই জানাার ফাক দিয়ে ঘরে তাকিয়ে শিমলার ঝুলন্ত পা দেখে ডাক চিৎকার করতে থাকে। পাশের ঘরের সীমানা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করে দেখতে পায় তাদের কন্যা শিমলা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করে। ঘটনার পর থেকে ইজিবাইক চালক দুই বখাটে পলাতক। তাদের অপমান আপবাদ সহ্য করতে না পেরে শিমলা রানী দাস আত্মহত্যা করেছে। এ ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন নিহতের বাবা।

রাজেন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসকর আলী বলেন, নিহতের পর শনিবার স্কুলে গিয়ে দুপুরের দিকে তিনি ঘটনা শোনেছেন। এরে আগে কখনো শিমলা তাকে বা শ্রেণী শিক্ষক কাউকে এ ঘটনা জানায়নি।

শ্রীপুর-কালিয়াকৈর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আল মামুন জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শনিবার রাতের মধ্যেই অভিযুক্ত যুবকদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/১৫ এপ্রিল/আরএ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন