চকরিয়ায় প্যারাবন উজাড় করে চিংড়ি ঘের এবং উপকূলে চোরাইকাঠ ব্যবহার করে অবৈধ নৌকা তৈরীর হিড়িক

*ঝড় – জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকিতে উপকূলবাসী

*নির্বিকার বন বিভাগ ও প্রশাসন

* পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা

*উপকূলীয় বন কর্মকর্তা ও বিটকর্মকর্তার যোগসাজোসে অবৈধ নৌকা তৈরীর মহোৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক: কক্সবাজারের চকরিয়া উপকূলে প্যারাবন কটে চিংড়ি ঘেরের জমি তৈরীর উৎসব শুরু হয়েছে। গত এক মাসে উপকূলের অন্তত লক্ষাধিক বাইন ও কেওড়া গাছ কেটে তৈরী করা হয়েছে একাধিক চিংড়ি ঘের। অথচ এসব প্রাকৃতি বন সুরক্ষার ক্ষেত্রে কক্সবাজার উপকূলের প্রাচীর হিসেবে ঝড়- জলোচ্ছ্বাস থেকে মূল ভূখন্ডকে রক্ষা করে আসছে। জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, উপকূলীয় এলাকায় চিংড়ি ঘের তৈরীর জমির পরিমাণ ১২ হাজার ১১০ একর। এর মধ্যে তিন হাজার ১০১ একর জমিতে অবৈধভাবে চিংড়ি ঘের তৈরী করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করে বলেন, উপকূলীয় বন কর্মকর্তা গোলাম মাওলা, রেঞ্জার, এবং বিটকর্মকর্তাসহ যোগসাজশে উপকূলীয় এলাকার বাইন ও কেওড়া গাছ কেটে চিংড়ি ঘের তৈরীতে সাহায্য করে আসছে। এমনকি উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা গোলাম মাওলা প্রভাশালীদের সাথে নিয়ে দায়িত্ব অবহেলাসহ নানা ধরণের অবৈধ কর্মকর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে।সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, চকরিয়া সুন্দরবনের চরণদ্বীপ মৌজার গোলদিয়াচর ও চিলখালীর চর এলাকায় কয়েক হাজার একক প্যারাবনে বাইন ও কেওড়া গাছ কেটে সেখানে বিশাল আকৃতির কয়েকটি চিংড়ি ঘের তৈরী করা হয়েছে। ঘের পাহারার জন্য তিন দিকে ১২টি ঘর তৈরী করা পাহারা ঘর পাহারা বসানো হয়েছে। কয়েকজন পাহারাদার বলেন, এক মাস ধরে তিন শতাধিক মানুষ প্যারাবনের অন্তত দেড় লাখ বাইন ও কেওড়া গাছ কাটার কাজ করছে। গাছগুলো চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালীসহ বিভিন্ন এলাকায় ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে বিক্রি করা হয়। পাহারাদাররা আরো জানান, ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী বড় গাছ কাটা হয় করাত দিয়ে আর ছোট গাছ গুলো পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে ধ্বংস করা হয়।পরে গাছের গুঁড়ি উপড়ে ফেলা হয়, যাতে কেউ এসে যেন প্যারাবনের চিহ্ন উপলব্দি করতে না পারে। সরেজমিন পর্যবেক্ষণ করে আরো দেখা গেছে, ওই এলাকায় কয়েক হাজার গাছের গুঁড়ি এখনো বিরাজমান রয়েছে। প্যারাবনে মাছ ধরে হাজার হাজার পরিবার জীবিকা নির্বাহ করতো কিন্তু চিংড়ি ঘের হওয়ায়, গরীব মানুষরা অনাহারে দিনপাতিত করছে। স্থানীয়ার জানান, দিন দুপুরে প্যারাবন উজাড় করে কয়েক হাজার একরের প্যারাবনের লক্ষাধিক বাইন ও কেওড়া গাছ কেটে নিলেও বন বিভাগ নিরব ভূমিকা পালন করছে। এমনকি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই মূলত প্যারাবন উজাড় করে এসব অবৈধ কর্মকান্ড করে আসছে বলে অভিযোগ করেন। মূলত উপকূলীয় বন কর্মকর্তা গোলাম মাওলার নির্দেশেই এগুলো সংগঠিত হয়। সরেজমিনে আরো দেখা গছে, দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় চোরাই কাঠ ব্যবহার করে অবৈধ নৌকা তৈরীর মহোৎসব চলছে । বিধি মোতাবেক নৈাকা তেরীর যে বিষয়গুলো পালন করে বৈধ নৈাকা তৈরী করা হয়, কিন্তু বিট কর্মকর্তা ও উপকূলীয় বন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এসব অবৈধ কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে।দ্বীপ উপজেলা কুৃতুবদিয়ার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের বিসিকের পশ্চিম পাশ্র্বে কলিস্যাগুনাই স্থানীয় জাকারিয়া সওদাগর ও আজম চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে এসব চোরাই কাঠ দিয়ে অবৈধ নৌকা তৈরী করে আসছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছ্বুক, কুতুবদিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের এক ব্যক্তি বলেন, মূলত কুতুবদিয়া উপজেলার বিটকর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন প্রতি নৈাকা থেকে ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত উৎকোচ নিয়ে এসব অবৈধ নৈাকা তৈরীতে সাহায্য করে আসছে। এমনকি উপকূলীয় বিভাগীয় বন কর্মকর্তা গোলাম মাওলা বিটকর্মকর্তার মোটা অংকের টাকার পার্সেন্টজ নিয়ে নিরব ভূমিকা পালন করে। অভিযোগের সতত্যা যাচাইয়ের জন্য উপকূলীয় বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) গোলাম মাওলার বক্তব্য নেওয়ার জন্য ফোন দিলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে এ ব্যাপারে কথা বলতে রাজি হন নি সাংবাদিকদের সঙ্গে।

 

 

 

আলোকিত প্রতিদিন/০৫ এপ্রিল/জেএস

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন