আমি শঙ্কিত, নিরাপত্তা কে দেবে : সাংবাদিক কাজী ফয়সাল

রাসেল হোসাইন: নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন দৈনিক আজকের পত্রিকা’র জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক কাজী ফয়সাল। সোমবার কাজী ফয়সাল তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে ‘আমি শঙ্কিত, নিরাপত্তা কে দেবে’ লিখে এই শঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি লিখেছেন, ‘একটা কথাই বলবো সাংবাদিকতা আজ হুমকির মুখে! আজও বের হয়েছি সংবাদ সংগ্রহের জন্য। কারণ, কেবল জীবিকার তাগিদে নয়, আমি এই পেশাকে অনেক বেশি ভালোবাসি, শ্রদ্ধা করি। এই পেশার প্রতি রয়েছে আমার একরকম মায়া ও পিছুটান। হামলা, মামলা, হুমকি ধামকির মুখে জানি না কতোদিন টিকে থাকবেন এদেশের সাংবাদিকরা।’ তিনি আরো লিখেছেন, ‘আমি এখনো শঙ্কিত, ওই পুলিশ সদস্যরা আমাকে আটক করার হুমকি দিয়েছে। মামলায় ফাঁসানের হুমকি দিয়েছে। অথচ, এই বিষয়ে এখনো সংশ্লিষ্ট মহল থেকে আনুষ্ঠানিক কিছুই বলা হয়নি। আমার নিরাপত্তার বিষয়টি এখনো ঝুলে আছে। এর মধ্যেই আমি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে আবারো মাঠে নেমে পড়েছি। আমি একজন সাংবাদিক, তবে এর চেয়ে বড় পরিচয়- আমি এই বাংলাদেশের একজন নাগরিক। সংবিধানে রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতের কথা বলা থাকলেও আমি এখনো জানি না আমার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিবে কে? ওই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যখন হুমকি দেয়, আর কে আছে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার?’

জানা গেছে, রবিবার রাতে গুলশান-১ থেকে বাড্ডার দিকে যেতে গুদারাঘাট সংলগ্ন লিংক রোডের চেকপোস্টে পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এসময় সাংবাদিক ফয়সাল সেখানে তার মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কয়েকটি ছবি তুলেন। পরে পুলিশ সাংবাদিক ফয়সালের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে নানা অপমান করে এবং মামলা দিয়ে ভেতরে পাঠিয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। এসময় সাংবাদিক ফয়সালকে তার মোবাইলে ধারণ করা ছবিগুলো ডিলিট করতে বাধ্য করে। পরে তিনি হতাশাগ্রস্থ হয়ে সেখান থেকে চলে যান এবং তার সাথে পুলিশের এমন অসৌজন্যমূলক আচরণের কথা ফেসবুকে শেয়ার করেন।

আর এঘটনার কথা ফেসবুকে শেয়ার করার পর নানা শ্রেণি পেশার মানুষ এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। অনেকে পুলিশের দায়িত্ব পালন নিয়ে শংশয় প্রকাশ করেছেন।

এব্যাপারে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘আমরা ওই ঘটনার ভিডিও সংগ্রহ করে সেটা দেখেছি। এখন তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেবো।’

আলোকিত প্রতিদিন/২৫ মার্চ/আরএইচ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন