হামলাকারী ব্রেনটনকে নির্জন প্রকোষ্ঠে রাখা হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে মুসল্লিদের ওপর হামলাকারী ব্রেনটন হ্যারিসন টারান্টকে কারাগারে ‘চিহ্নিত ব্যক্তি’ হিসেবে রাখা হবে। কারাগারে তাঁর নিরাপত্তা হুমকিতে পড়তে পারে, এমন আশঙ্কায় তাঁকে নির্জন প্রকোষ্ঠে রাখা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ফৌজদারি মামলার আইনজীবী স্যার কিম ওয়ার্কম্যান বলেছেন, নিরপেক্ষ সূত্রের কাছ থেকে তিনি জেনেছেন, টারান্ট কারাগারে বিপদে পড়তে পারেন। তাঁর নিরাপত্তার জন্যই মূলত তাঁকে নির্জন প্রকোষ্ঠে রাখা হবে। ঝুঁকিতে পড়তে পারেন, এমন বিবেচনায় কারাগারে অনেককেই নির্জন প্রকোষ্ঠে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে ভয়ংকর অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা যেমন থাকেন, তেমনি থাকেন শিশুদের যৌন নির্যাতনকারী ব্যক্তিরা। এ ছাড়া পুলিশ কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও কারাগারে আলাদা প্রকোষ্ঠে রাখা হয়।

আইনজীবী ওয়ার্কম্যান আরও বলেন, তাঁর অভিজ্ঞতা হলো, যখনই কেউ নির্জন প্রকোষ্ঠে থাকার সুযোগ পান, তখন তাঁরা পালানোর উদ্যোগ নেন। তা অনেক ক্ষেত্রেই হয় কারাবাসের শুরুর দিকে কিংবা হেফাজতে থাকা অবস্থায়। তাই টারান্টকে নির্জনে রাখা হলেও ‘সর্বোচ্চ নিরাপত্তা’ নিশ্চিত করা হবে, যাতে কোনো কয়েদিই তাঁর কাছে যেতে না পারেন।

গত শনিবার ক্রাইস্টচার্চের ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট হত্যার অভিযোগে হামলাকারী ব্রেনটন হ্যারিসন টারান্টের আগামী ৫ এপ্রিল পর্যন্ত রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। ওই দিন আবার তাঁকে আদালতে হাজির করা হবে জানিয়ে পুলিশ বলেছে, তাঁর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ আনা হতে পারে।

নিউজিল্যান্ডের সাউথ আইল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদ ও এর কয়েক কিলোমিটার দূরের লিনউড মসজিদে গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় গুলি করে হত্যাযজ্ঞ চালান ব্রেনটন। এ সময় হেলমেটে লাগানো ক্যামেরার মাধ্যমে হত্যাযজ্ঞের দৃশ্য সরাসরি ফেসবুকে সম্প্রচার করেন তিনি। হামলায় ৫০ জন নিহত হন। হামলার ৩৬ মিনিট পর একটি গাড়ি থেকে ব্রেনটনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

মসজিদে হামলার আগে ব্রেনটন টারান্ট অনলাইনে নিজের ইশতেহার প্রকাশ করেন। একই ইশতেহার তিনি হামলার ১০ মিনিট আগে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও ই-মেইল করেন। এই ইশতেহারে তিনি ‘অনুপ্রবেশকারীদের’ ওপর হামলার ঘোষণা দেন।

এদিকে, ক্রাইস্টচার্চের হামলায় নিহত ব্যক্তিদের প্রতি গতকাল রোববারও অনেকে শোক জানাতে যান। ফুল হাতে অনেকে শহরটির হ্যাগলে হাইস্কুলে সমবেত হন। ওই নারকীয় ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান তাঁরা। তাঁদের একজন বলেন, ‘যেকোনো বিবেচনাতেই ওই ঘটনা ভুল। ঘটনার শিকার ব্যক্তিরা নিউজিল্যান্ডে এসে আমাদের অংশে পরিণত হয়েছেন। তাঁরা আমাদেরই লোক।’

আলোকিত প্রতিদিন/১৮ মার্চ/আরএ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন