এবার যুদ্ধাপরাধে ৩৭ তম রায়ের অপেক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক: মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ তথা যুদ্ধাপরাধের মামলায় ৩৭তম রায় ঘোষণা অপেক্ষমান রাখা হয়েছে। ৩৭তম মামলায় নেত্রকোনার দুইজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক পেশ শেষে যেকোনো দিন রায় (সিএভি) ঘোষণার জন্য রেখে বৃহস্পতিবার আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল আজ এ আদেশ দেয়।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ২০১৭ সালের ১০ জানুয়ারি আমলে নেওয়ার আদেশ দেয় ট্রাইব্যুনাল। ওই সময় আসামি ছিলেন তিনজন। তারা হলেন মুক্তিযুদ্ধের সময় শান্তি কমিটির সদস্য হেদায়েত উল্লাহ ওরফে আঞ্জু বিএসসি (৮০), এনায়েত উল্লাহ ওরফে মঞ্জু (৭০), সোহরাব ফকির ওরফে সোহরাব আলী ওরফে ছোরাপ আলী (৮৮)। আঞ্জু-মঞ্জু দুই ভাই। তিনজনের মধ্যে মঞ্জু ও রাজাকার ছোরাপ আটক ছিলেন। পরে ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এনায়েত উল্লাহ ওরফে মঞ্জু। এ তিনজনের বাড়িই নেত্রকোনার আটপাড়া থানার কুলশ্রীতে। তবে আঞ্জু থাকেন রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার হেতেম খাঁ মেথরপাড়ায়।অপরদিকে ছোরাপের বসবাস ছিল একই জেলার মদন থানার জাহাঙ্গীরপুরে।

তাদের বিরুদ্ধে আটক অপহরণ, নির্যাতন, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ, হত্যা, গণহত্যা এবং দেশত্যাগে বাধ্যকরণের মতো অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। নেত্রকোনার আটপাড়া থানার মধুয়াখারী গ্রাম, মোবারকপুর গ্রাম, সুখারী গ্রাম এবং মদন থানার মদন গ্রামে তারা এসব অপরাধ সংগঠন করেছেন। যার ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ৬টি অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে, গত ২৮ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক শেষে যুদ্ধাপরাধের ৩৬তম মামলা রায় ঘোষণাও অপেক্ষমান রেখে আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মানবতাবিরোধী অপরাধ তথা যুদ্ধাপরাধের মামলায় নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার শেখ মো. আব্দুল মজিদ ওরফে মজিদ মাওলানাসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে যেকোনো দিন রায় ঘোষণার জন্য মামলাটি অপেক্ষমান (সিএভি) রেখে ওইদিন ট্রাইব্যুনানের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেয়।

আসামিদের মধ্যে শেখ মো. আব্দুল মজিদ ওরফে মজিদ মাওলানা ছাড়াও অপর চার আসামি হলেন- মো. আব্দুল খালেক তালুকদার, মো. কবির খান, আব্দুস সালাম বেগ ও নুরউদ্দিন। এদের সবাই বর্তমানে পলাতক। এ মামলার আসামি ছিলেন সাতজন। তাদের মধ্যে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে মারা যান আহাম্মদ আলী (৭৮)। আর মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় মারা যান আরেক আসামী আব্দুর রহমান। এ আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে হত্যা, গণহত্যা, অপহরণ, নির্যাতন, লুণ্ঠন, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/১০ মার্চ/আরএ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন