দক্ষ শ্রমিক তৈরিতে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ

ডেস্ক প্রতিদিন: সরকারের সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (২০১৬-২০২০) কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হলেও কর্মসংস্থানের লক্ষ্য অর্জন হচ্ছে না। দক্ষ ও টেকসই কর্মসংস্থান তৈরিতেও অনেক পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা মধ্য মেয়াদি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।

গতকাল রবিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. শামসুল আলম। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও সেই অনুযায়ী কর্মসংস্থান হচ্ছে না। সাধারণত ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলে আড়াই লাখ কর্মসংস্থান হয়। উৎপাদনে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কর্মসংস্থান হয়নি। ফলে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার শেষ অর্থবছরের (২০১৯-২০) কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর জোর দিতে হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের হার ছিল ১২.৫ শতাংশ। এ হারকে ভিত্তি করে আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান ১৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য ছিল। এখনো পর্যন্ত অর্জন হয়েছে ১৩.৮ শতাংশ। অন্যদিকে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান ৮৭.৫ শতাংশ থেকে ৮৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ছিল। সব শেষ তথ্য অনুযায়ী অর্জন ৮৬.২ শতাংশ। চলতি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার শেষ অর্থবছরের কর্মসংস্থানে জোর না দিলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থানের জন্য দক্ষ শ্রমিক তৈরিতেও পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৫ সালের তুলনায় প্রবাসী দক্ষ শ্রমিকও কমে গেছে। ২০১৪-১৫ সালে এ হার ৩৬.৬৯ শতাংশ থেকে কমে বর্তমানে হয়েছে ৩৫.৪৭ শতাংশ। এ পরিস্থিতিতে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য অনুযায়ী এ হার ৩৮ শতাংশে উন্নীত করা কঠিন হবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রবৃদ্ধি বাড়লেও সেই অনুযায়ী কর্মসংস্থান বাড়েনি। কর্মসংস্থান ছাড়া, ব্যাপকভাবে প্রযুক্তি ব্যবহার না বেড়ে উৎপাদনশীলতা বাড়ছে। বলা হচ্ছে, উৎপাদনশীলতার কারণে প্রবৃদ্ধির হার বেড়েছে। এটা এখন চিন্তার বিষয় হয়ে গেছে।

কর্মশালায় পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রবৃদ্ধির সুফল ভোগ করতে হলে আমাদের অনেক আইনের সংস্কার করতে হবে। বর্তমানের সঙ্গে মিলিয়ে আইন প্রণয়ন করতে হবে। তিনি বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি। কিন্তু এখনো বৈষম্য রয়ে গেছে এবং বাড়ছে। তবে বৈষম্য একেবারেই দূর করা যাবে না।

আলোকিত প্রতিদিন/০৪ ফেব্রুয়ারি/এমকে

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন