মজুরি দিতে না পারলে চাকরি থেকেও কী লাভ: বিজিএমইএ সভাপতি

ডেস্ক প্রতিদিন: নতুন মজুরির চাপে তৈরি পোশাক খাতের অনেক কারখানা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সংশোধিত নতুন মজুরি কাঠামো অনুসারে মজুরি দেওয়ার সক্ষমতা নেই অনেক পোশাক কারখানা মালিকের। মালিকরা বিভিন্ন আগাম সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছেন—মজুরি নিয়ে যেন সামনে শ্রম অসন্তোষ না তৈরি হয়। কারখানা থেকে অতিরিক্ত শ্রমিক কমিয়ে আনা, এমনকি কারখানা বন্ধ করে দেওয়ারও কথা ভাবছেন অনেকে। এমনটি হলে চাকরিচ্যুত হবে হাজার হাজার শ্রমিক।

একান্ত সাক্ষাৎকারে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, সংশোধিত নতুন মজুরি অনেক কারখানার মালিকের দেওয়ার সক্ষমতা নেই। বিশ্বব্যাপী পোশাকের দরপতন এবং দেশে নতুন মজুরি বৃদ্ধি এই সংকট তৈরি করেছে বলে তিনি মনে করেন।

শিল্প পুলিশ এবং শ্রমিক নেতারা বলছেন, চলতি মাসের প্রথম দিকে নতুন মজুরি কাঠামো নিয়ে আন্দোলনের পর পাঁচ থেকে সাত হাজার শ্রমিক-কর্মচারী চাকরিচ্যুত হয়েছে। বিষয়টি তুললে সিদ্দিকুর রহমান বলেন, চাকরিচ্যুত করা কারখানা কর্তৃপক্ষের অধিকার। তবে সেটা হতে হবে শ্রম আইন অনুসারে। আর ৪৫ লাখ শ্রমিক এ খাতে কাজ করে। এর মধ্যে মাত্র পাঁচ হাজার শ্রমিক চাকরিচ্যুত হওয়া সংখ্যায় খুব একটা বেশিও নয়।

গত কিছুদিন কত শ্রমিক চাকরি হারিয়েছে—বিজিএমইএর কাছে এমন কোনো পরিসংখ্যান আছে কি না জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, সঠিক কোনো পরিসংখ্যান এখনো আমাদের হাতে নেই। তবে এত বড় খাতে এই ক্ষুদ্র সংখ্যা কোনো বড় বিষয় না। তবে কেউ অন্যায়ভাবে শ্রমিকদের বের করে দিলে আমাদের দেখার বিষয় আছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখব। এ ছাড়া এখনো শ্রমিক সংকট। আছে দক্ষ শ্রমিকেরও অভাব।

মজুরি বাড়ার পর চাকরিচ্যুত হচ্ছে বিষয়টি দৃষ্টি কটু নয় কি—এমন প্রশ্নের জবাবে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, মজুরি দিতে না পারলে, চাকরি থেকেও কী লাভ? বরং মালিকদের আগাম সতর্ক উদ্যোগ শ্রমিক অসন্তোষসহ অন্য অশুভ সংঘাত থেকে বিশাল শ্রমগোষ্ঠীর এই খাত আগাম সুরক্ষা দিবে বলে আমার বিশ্বাস।

আলোকিত প্রতিদিন/৩১ জানুয়ারি/এমকে

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন