বিলুপ্তির পথে মানিকগঞ্জের বেত শিল্প

শরিফুল ইসলাম, ঘিওর (মানিকগঞ্জে): দেশে একসময় বেতের তৈরি নানা সামগ্রীর ব্যাপক চাহিদা ছিল। দিন দিন সে স্থান চলে যাচ্ছে সহজলভ্য প্লাস্টিক পণ্যের দখলে। একদিকে বেতের উৎপাদন কমে যাওয়া, অন্যদিকে ক্রমবর্ধমান প্লাস্টিক শিল্পের প্রসারের অন্যতম কারণ। তাছাড়া বেত উৎপাদনে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের তেমন কোনো পরামর্শ বা উৎসাহ দেয়া হচ্ছে না। ফলে নানা কারণেই শিল্পটি হারিয়ে যাচ্ছে।

জানা যায়, মানিকগঞ্জে একসময় বাঁশ ও বেতের বিভিন্ন সামগ্রী তৈরির সঙ্গে বহু মানুষ জড়িত ছিল। জেলার ঐতিহ্যেবাহী ঘিওর হাটে এক সময় বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাক বোঝাই বেত আসতো এবং বিক্রি হতো। এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। এপেশায় নিয়োজিত শ্রমিকরা বর্তমান বাজারের প্লাাস্টিক ও অন্য সব দ্রব্য সামগ্রীর সঙ্গে পাল্লা দিতে না পেরে নির্বিকার হয়ে পড়েছেন। ফলে এ শিল্পের ঐতিহ্য হারানোর পাশাপাশি জেলার বেত শিল্পীদের ভাগ্যে নেমে এসেছে চরম দুর্দিন।

উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নের শ্রীবাড়ী ঋষিপাড়া গ্রামের বয়োবৃৃদ্ধ চন্দ্র সরকার, সুনিল সরকার, লক্ষন সরকার, সুকুমার সরকার, চিনু রানী, দুর্গা সুবল সরকার জানান, প্রয়োজনীয় বেতের অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে আমাদের বংশাণুক্রমে পাওয়া বেঁচে থাকার একমাত্র কর্ম। এক বেলা খেতে পেলে অন্যবেলা না খেয়ে থাকতে হয়। জীবনের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে আছি।

এক সময় এ উপজেলার বড়টিয়া, গোয়ালডাঙ্গী, জাবরা, তরা (মির্জাপুর), কেল্লাই, উভাজানী এলাকার প্রতি ঘরে ঘরে বেতের তৈরি সামগ্রপীর খুব কদর ছিল। ব্যবহারকারীর অভাব ও বেতের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারনে বেত শিল্পের নারীরা তাদের পৈতৃক পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যাচ্ছেন।

মূল্যবান সম্পদ বেত ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। আর এর খেসারত চরমভাবে দিচ্ছেন বেত শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত শিল্পীরা। ফলে তারা হতাশ হয়ে এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

বেতের কাজ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের অন্তর্ভুক্ত হলেও বিসিক কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থা এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য কোনো ভূমিকাই নিচ্ছেন না। সব মিলে জেলার সবখান থেকে হারিয়ে চলেছে বেত শিল্প।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমি সরকার রাখী জানান, ক্ষুদ্র শিল্প ও কুটির শিল্পের সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গরা আছেন তাদের যদি ঋন এর প্রয়োজন হয় সহজ শর্তে তাদের জন্য ব্যাংক ঋন এর ব্যবস্থা করব, যাতে তাদের আত্মসামাজিক উন্নয়ন ঘটে।

আলোকিত প্রতিদিন/২৩ জানুয়ারি/আরএইচ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন