গাইবান্ধায় আলুর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

গাইবান্ধা সংবাদদাতা: গাইবান্ধার বিভিন্ন উপজোলায় প্রচুর পরিমান জমিতে বিভিন্ন জাতের আলু চাষ করেছেন কৃষকরা। গতবারের তুলানায় এবার বাম্পার ফলন হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক। আলুর দামও ভালো পাচ্ছেন তারা। কৃষকরা দেশী জাতের আলু ছাড়াও হাইব্রিড জাতের কার্ডিনাল, ডায়মন্ড, স্ট্রীট এবং গ্র্যানোলা জাতের আলু বেশি চাষ করেছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে কৃষকরা জমি থেকে আলু তুলতে শুরু করেছে অনেক আগে থেকেই। সদর উপজেলার কাটিহারা গ্রামের আলু চাষী কায়ুম মিয়া জানান, প্রতি একরে আলু চাষাবাদে খরচ হয় ৫৫ হাজার টাকা। যার উৎপাদন হয়েছে ২৫০ মণ। বর্তমান বাজারে আলু বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে করে ভাল মুনাফা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সাদুল্যাপুর উপজেলার পঁচারবাজার গ্রামের আলু চাষী বাবলু মিয়া জানান, ধাপেরহাট আরভি হিমাগারের এক বস্তা আলু সংরক্ষণ করতে ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকা খরচ হয়। দেশীয় পদ্ধতিতে কৃষকরা বাড়িতে আলু সংরক্ষণ করলে খরচ পড়বে প্রতিবস্তা মাত্র ২০ থেকে ২৫ টাকা। ৬/৭ মাস পর ওই আলু বের করলে প্রতিমণ আলু ৬/৭শ টাকা দরে বিক্রি করা সম্ভব।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার পাঁচপীর বাজারের আলু চাষী একরামুল জানান, অন্যান্য ফসলের চেয়ে আলু চাষ অত্যান্ত লাভ জনক। হিমাগার ছাড়াই বাড়িতে আলু সংরক্ষণের পদ্ধতি বর্ণনা করে তিনি বলেন, জমি থেকে উত্তোলনকৃত আলু তুলনা ম‚লক ভাবে ঠান্ডা ও বায়ু চলাচল করে এমন শুষ্কস্থানে সংরক্ষণ করতে হবে। বাঁশের চাটাইয়ের বেড়া এবং ছনের ছাউনি দিয়ে ভ‚মি থেকে বাঁশের খুঁটি দিয়ে উচুঁ করে ঘর তৈরি করতে হবে। আলুর শ্বাস-প্রশ্বাসের তাপ বের হওয়া এবং বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। মেঝেতে বাঁশের চাটাই কিংবা বালু বিছিয়ে আলু রাখতে হবে। এভাবে দেশীয় পদ্ধতিতে ৬ থেকে ৭ মাস সংরক্ষণ করা যায়।

সদর উপজেলা কৃষি অফিসার এ,কে,এম সাদিকুল ইসলাম জানান, চলতি মৌসুমে এবার আশানুরুপ জমিতে আলু চাষ হয়েছে। মৌসুমের শুরু থেকে কৃষকদের সার্বিক ভাবে পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। আলুর ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা খুশি।

আলোকিত প্রতিদিন/১১ জানুয়ারি/আরএইচ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন