সাভারে দৈনিক আলোকিত প্রতিদিনের শাখা অফিসে আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের সন্ত্রাসী হামলা

সাভার প্রতিনিধি: সাভারে দৈনিক আলোকিত প্রতিদিনের শাখা অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও নিরাপত্তা কর্মীদের মারধরের ঘটনায় আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে । শনিবার সাভার মডেল থানায় ১০টি ধারায় পেনাল কোডে এই মামলা ( নং ৭৬) হয়।

মামলায় বলা হয়, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের সন্ত্রসী কর্মকান্ডে পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক সৈয়দ নূরুল হুদা রনোসহ কয়েকজন নিরাপত্তাকর্মী গুরুতর আহত হন।  শুক্রবার বিকেলে দুই দফায় হামলা চালিয়ে মারপিট ও ভাঙচুর করে।

আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের সিকিউরিটি বাহিনী দেশিয় অস্ত্র ও বন্দুক নিয়ে এসে এই হামলা চালায় উল্লেখ করে আলোকিত প্রতিদিনের সম্পাদক ও প্রকাশক সৈয়দ নুরুল হুদা রনোর পক্ষে ক্রাইম রিপোর্টার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন থানায় গিয়ে এই মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ৫০/৬০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। আসামিদের মধ্যে রয়েছেন, আব্দুল হালিম, আশুলিয়া মডেল টাউনের সিকিউরিটি ইনচার্জ মতিউর রহমান, খাগানের মৃত হানিফ আলীর ছেলে মানু মিয়া, সামাইর এলাকার দলুল উদ্দিনের ছেলে রহিজ উদ্দিন ওরফে রৈহা, দত্তপাড়ার মৃত শমশের আলীর ছেলে রহমত আলী, খাগানের দত্তপাড়ার ফারুক, মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে রাজিব, দত্তপাড়ার মৃত তৈয়ব আলীর ছেলে জাবেদ এবং এমএম এনামুল হক। এসময় আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের লোকজন অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে সংবাদপত্রের শাখা কার্যালয় ভাঙচুর, নিরাপত্তাকর্মীদের মারপিটসহ সিসি ক্যামের হার্ডডিস্ক লোপাটের চেষ্টা চালিয়েছে বলে জানানো হয়।

মামলায় আরও বলা হয়েছে, দৈনিক আলোকিত প্রতিদিনের অফিসকে বোঝানোর জন্য তীর চিহ্নিতযুক্ত একটি সাইন বোর্ড অফিসের বিপরীত পাশে রাস্তার ধারে পুঁতে রাখা ছিলো। শুক্রবার বিকেলে সাইনবোর্ডটি তুলে নিতে গেলে পত্রিকা অফিসের নিরাপত্তাকর্মী বাঁধা দেয়। এসময় পত্রিকা অফিসের নিরাপত্তাকর্মী রোকন, মো. নাজমুল, উজ্জ্বল, সোহেল, তুষার, মাজেদুল ইসলাম, নাহিদুল ইসলামকে বেধরক মারপিট করে। এসময় তারা লোহার রড, রাম দা, চাপাতি, ইট-পাটকেল, আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত সন্ত্রাসীবাহিনী সাইনবোর্ড তুলে নিয়ে যায়। আধা ঘণ্টার ব্যবধানে আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে মতিউর রহমান ও রহিজ উদ্দিন ওরফে রৈহা গুলি ছুড়তে ছুড়তে সঙ্ঘবদ্ধ দল নিয়ে পত্রিকা অফিসের সামনে আসে। ভয়ে পত্রিকার নিরাপত্তাকর্মীরা অফিসের মধ্যে ঢুকে যায়। পরে সন্ত্রাসীবাহিনী গেটে রাম দা দিয়ে কোপাতে থাকে। একপর্যায়ে মতিউর রহমান ও রাজিব প্রথম গেটের তালা ভেঙ্গে দ্বিতীয় তলায় উঠে আলোকিত প্রতিদিনের সিকিউরিটিদের বেধরক মারধর করে। এসময় অন্যান্যরা অফিসের জানালার গ্লাস ভেঙে ফেলে এবং নিচ তলার ছাত্রাবাসের সমস্ত জানালার কাচের গ্লাস ভেঙ্গে দেয় এবং অফিসের সিসি ক্যামেরা ভাঙতে চেষ্টা করে ও সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক লোপাটের চেষ্টা করে।

খবর পেয়ে পত্রিকার সম্পাদক সৈয়দ নূরুল হুদা রনো অফিসের গেটে আসলে তাকে মারাত্মকভাবে জখম করা হয় এবং মাথার অস্ত্র ঠেঁকিয়ে হুমকি-ধামকি দেয়া হয়। এসময় রহমত আলী তার বাম পায়ে রাম দা দিয়ে কোপ দেয় এবং রহিজ উদ্দিন ওরফে রৈহা একই পায়ে লোহার রড দিয়ে বারি দেয়। নিরাপত্তাকর্মী রোকনকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় এবং মানু মিয়া রাম দা দিয়ে কোপ দিলে মাথা কেটে যায়। এ সময় অন্যান্য সিকিউরিটিদের মেরে রক্তাক্ত করে। যাওয়ার সময় তারা ‘রাস্তা-ঘাটে যেখানে যাকে পাবো মেরে লাশ গুম করে ফেলবো’ বলেও হুমকি দেয়।

মামলায় আরও বলা হয়, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সব কর্মকান্ড পত্রিকা অফিসের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে ধারণকৃত রয়েছে।

সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে আহত সম্পাদক ও নিরাপত্তাকর্মীরা বর্তমানে সাভার থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।

মামলার তদন্দকারী কর্মকর্তা এসআই মো. এনাসুল হক জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে আইন সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

আলোকিত প্রতিদিন/২৮ ডিসেম্বর/আরএইচ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন