কোটিপতিরা ডুবে আছেন ঋণে

একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামা পর্যালোচনা

তুষার আহসান ও রাসেল হোসাইন: একবার সাংসদ হওয়ার পরে পুনরায় সংসদে যাওয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন অনেক নেতা। জনগণের সেবাই তাদের লক্ষ। তবে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাদের আয় ও সম্পদ ছিলো কম। এদের কেউ হয়েছেন কোটিপতি, কেউ কোটিপতির কাছাকাছি। আবার এসব কোটিপতির অধিকাংশরাই ডুবে রয়েছেন ঋণে। অনেকের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, নিজের আয় কমলেও বেড়েছে তাদের স্ত্রীদের আয়। কারো কারো আয়ের তুলনায় স্ত্রীর আয় কয়েকগুণ। কেউ কেউ স্ত্রীর কাছে রয়েছেন দেনা। এদিকে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীতার তালিকায় নতুনমুখদের নিজের ব্যাংক একাউন্টে নেই উল্লেখযোগ্য টাকা। দশম ও একাদশ নির্বাচনের হলফনামা থেকে প্রাপ্ত তথ্যের আজ শেষ কিস্তি।

আবুল মাল আব্দুল মুহিত
দশ বছরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ টাকার। ২০০৮-০৯ করবর্ষে তাঁর ১ কোটি ১৪ লাখ ৮৩ হাজার টাকার প্রকৃত বা নিট সম্পদ ছিল। ২০১৮-১৯ করবর্ষে তা বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। নিজের সম্পদবিবরণী দাখিলের সময় অর্থমন্ত্রী নিজেই এ তথ্য জানান। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবি আর) সদস্য কালীপদ হালদারসহ সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারী ও সাংবাদিকদের সামনে অর্থমন্ত্রী অনলাইনে সম্পদবিবরণী দাখিল করেন।

অর্থমন্ত্রী জানান, এবার তাঁর মোট আয় হয়েছে ৩৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা। আর আয়করের পরিমাণ ২ লাখ ২২ হাজার ৯২১ টাকা। মোট আয়কর থেকে গতকাল পে-অর্ডারের মাধ্যমে দেন তিনি ৬৮ হাজার ৪৭৮ টাকা, বাকিটা আগেই দিয়েছেন। পুরো আয়ের মধ্যে কর আরোপযোগ্য নয়- এমন আয়ও রয়েছে বলে জানান তিনি। যে কারণে তিনি কিছু টাকা ফেরত পাবেন এবং প্রতিবছরই আয়কর দেওয়ার পর কিছু টাকা ফেরত পেয়ে থাকেন। এবারের মোট আয়করের মধ্যে বেতন থেকে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪৪৩ টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে বলে জানান মুহিত। অর্থমন্ত্রীর কয়েক বছরের আয়কর বিবরণী বিশ্লেষণে দেখা যায়, দশ বছরে তাঁর সবচেয়ে বেশি আয় হয় ২০১৪-১৫ করবর্ষে, ৭৩ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। আর সবচেয়ে কম আয় হয় ২০১১-১২ করবর্ষে, ১৮ লাখ ৪৬ হাজার টাকা।

মোহাম্মদ নাসিম
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের মন্ত্রিত্বের ভাতা ছাড়া অন্য কোনো আয় নেই। শুধু তাই নয়, স্ত্রীর কাছে তার ৫ লাখ টাকা দায় রয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনে দেয়া হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে মোহাম্মদ নাসিমের হাতে নগদ টাকার পরিমাণ ছিল ২১ হাজার ৫১ টাকা। যেটা এবারের চলতি নির্বাচনে এসে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ২৮ হাজার ৫৭২ টাকায়। অর্থাৎ ৫ বছরে নাসিমের নগদ টাকার পরিমাণ বেড়েছে ৩৪ গুণেরও বেশি। পেশায় ব্যবসায়ী ও রাজনীতিক মোহাম্মদ নাসিমের আয়ের উৎসের মধ্যে মন্ত্রী হিসেবে প্রাপ্ত বেতন-ভাতা বাবদ ৩২ লাখ ৮৭ হাজার ৫৮০ টাকা। আর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের কাছে ৭ লাখ ২৮ হাজার ৫৭২ টাকা এবারের হলফনামায় দেখানো হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ২৭৬ টাকা। বাস, ট্রাক ও অন্যান্য গাড়ির মূল্য বাবদ ৬৬ লাখ ৭৬ হাজার ৩৯৮ টাকা, ইলেকট্রনিক সামগ্রীতে ২ লাখ টাকা ও আসবাবপত্র রয়েছে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকার। স্ত্রীর আয়ের উৎস হিসেবে দেখানো হয়েছে কৃষিজমি ও বাড়ি ভাড়া। কৃষিজমি থেকে তার আয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বাড়ি/অ্যাপার্টমেন্ট/দোকান ভাড়া থেকে পান ৫ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ ৭ লাখ ৪৪ হাজার টাকা রয়েছে, যা মন্ত্রীর নগদ অর্থের থেকে বেশি। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক খাতে জমা অর্থের পরিমাণ ২২ লাখ ৫২ হাজার ৯৫০ টাকা, তাও মন্ত্রীর থেকে বেশি। কোম্পানির শেয়ার কেনা রয়েছে ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার। এছাড়া স্বর্ণ ১ লাখ টাকা, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ১ লাখ টাকা ও আসবাবপত্র রয়েছে ২ লাখ টাকার।

কামরুল ইসলাম
খাদ্যমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা কামরুল ইসলাম বাড়ি ভাড়া থেকে বার্ষিক আয় করেন ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা, মন্ত্রী হিসেবে সম্মানী পান ২৩ লাখ ২৭ হাজার ৫৮০ টাকা। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তিনি বছরে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা ভাতা এবং ব্যাংক সুদ ও টকশো থেকে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৮ টাকা আয় করেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হলফনামায় এসব তথ্যের সাথে তিনি উল্লেখ করেন, তার অস্থাবর সম্পদ হিসেবে নগদ ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ব্যাংকে জমাকৃত ৪১ লাখ ১ হাজার ২৭৮ টাকা রয়েছে। পাশাপাশি ৭৩ লাখ ৯০ হাজার ৮৩১ টাকা মূল্যের ইকট টয়োটা গাড়ির কথা বলা হয়েছে তার হলফনামায়। এছাড়া অকৃষি জমি ও অর্জনকালীন সময়ে আর্থিক মূল্য (ক) ৪ কাঠা জমি, মিরপুর হাউজিং স্টেট- মূল্য ৩ লাখ ৬১ হাজার ৬০০ টাকা, (খ) ১০ কাঠা জমি, পুর্বাচল-নিউ টাউন, ঢাকা- মূল্য ৩৩ লাখ ৩১ হাজার ৭০০ টাকা, মোট মূল্য ৩৬ লাখ ৯৩ হাজার ৩০০ টাকা। দালান, আবাসিক বা বাণিজ্যিক সংখ্যা, অবস্থান ও অর্জনকালীন সময়ে আর্থিক মূল্য (ক) ০৪৩২ অযুতাংশে জমিতে ৪৮/১ আজগর লেনে পৈত্রিক বাড়ি ৪ তলা বিল্ডিংয়ের ৯৬৬ দশমিক ৪৬ বর্গফুট, যার মূল্য হিসেবে ১২ লাখ ৬৫ হাজার ৮৯১ টাকা। বাড়ি অ্যাপার্টমেন্ট সংখ্যা ও অর্জনকালীন সময়ে আর্থিক মূল্য হিসেবে ১ দশমিক ৭৫ কাঠা জমিতে মিরপুর আবাসিক ২টি ফ্ল্যাট মূল্য ৪ লাখ ৩৬ হাজার ৭০৭ টাকা।

এমপি ড. হাছান মাহমুদ
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের এমপি ড. হাছান মাহমুদের চেয়ে আটগুণ বেশি সম্পদের মালিক তার স্ত্রী নুরান ফাতেমা। স্থাবর ও অস্থাবর মিলে হাছান মাহমুদের রয়েছে এক কোটি ৩৮ লাখ টাকার সম্পদ। তার স্ত্রীর সম্পদ রয়েছে ১১ কোটি ২৩ লাখ টাকার। তবে পাঁচ বছর আগের তুলনায় হাছান মাহমুদ ও তার স্ত্রীর সম্পদ এবারে কমেছে।

জুনায়েদ আহমেদ পলক
দুই মেয়াদের জনপ্রিয় প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের নিজের আয় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগের তুলনায় কমেছে। একই সাথে দ্বিগুণ বেড়েছে স্ত্রীর আয়। কৃষিজমি থেকে শুরু করে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অন্য সম্পদের পরিমাণও। নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনে জমা দেয়া হলফনামা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে জমা দেয়া হলফনামা থেকে জানা যায়, পলকের বর্তমান আয় হিসাবে কৃষিখাত থেকে ৪৮ হাজার, ভাড়া থেকে ৬০ হাজার, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ১১ লাখ ৪ হাজার, ব্যাংক ইন্টারেস্ট এবং টকশো থেকে ৬ লাখ ৩০ হাজার ৪৯ টাকা। যা গত মেয়াদে ছিল, কৃষিখাত থেকে ৪২ হাজার, ভাড়া থেকে ৬০ হাজার, ব্যবসা থেকে ১ লাখ, শেয়ার থেকে ১ লাখ ৬৩ হাজার ২৫২ টাকা, আইন পেশা থেকে ১৪ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ ও টিভি
টকশো থেকে ২০ হাজার টাকা।

২০০৮ সালে দেয়া হলফনামা থেকে জানা যায়, কৃষি খাত থেকে পলকের স্ত্রীর কোনো আয় ছিল না। কিন্তু এবারের হলফনামায় এখাতে পলকের স্ত্রীর বর্তমান আয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া ভাড়া থেকে ৪৫ হাজার, ব্যবসা থেকে ৯ হাজার ৮৪০, চাকরি থেকে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৫০০ ও অন্যান্য খাত থেকে ৮ লাখ ৬ হাজার ৯২৩ টাকা আয় করেন। যা ২০১৩ সালে কৃষিখাত থেকে ৩৫ হাজার, ব্যবসা থেকে ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৫০০, শেয়ার থেকে ৬২ হাজার ৫০০ ও চাকরি থেকে ১ লাখ ৪৫ হাজার ৩০০ টাকা ছিলো।

হলফনামায় অস্থাবর সম্পদ হিসেবে পলকের স্ত্রীর নামে অস্থাবর সম্পদ ৬ লাখ ৭৯ হাজার ৫৬০ টাকা নগদ, ৩১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৩২ টাকা জমা, ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৭৯৬ টাকা স্থায়ী আমানত, ৪৫ লাখ টাকার একটি নিশান গাড়ি, ৬৯ ভরি স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে। নিজ নামে ৯ লাখ ১৭ হাজার ২৪৩ টাকা, ৭ হাজার ৬০০ ইউএস ডলার, ৪ হাজার ৪৫০ ভারতীয় রুপি, ৩ হাজার ৫০০ রিংগিত, ৬২ লাখ ২৭ হাজার ৬৬৯ টাকা জমাকৃত অর্থ, ৭০ লাখ ৩৯ হাজার ৪৮০ টাকা স্থায়ী আমানত, ৭০ লাখ টাকার জিপ গাড়ি, ৪১ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ২ লাখ ৯০ হাজার টাকা মূল্যের শর্টগান ও একটি পিস্তল।

কামাল আহমেদ মজুমদার
পেশায় ব্যবসায়ী এবং কৃষি, মৎস্য খামারী ঢাকা-১৫ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী কামাল আহমেদ মজুমদারের আয় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় থেকে কমেছে প্রায় দুই লাখ টাকা। বর্তমানে তার বার্ষিক আয় ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা। অগ্রীম বাবদ দায়দেনা ৯৪ লাখ টাকা। এই আয়ে কৃষি খাত থেকে আসে ৩৩ হাজার টাকা এবং বাড়ি ভাড়া ৭৪ লাখ ও ব্যবসা থেকে ২৬ লাখ টাকা আয় হয় তার। এছাড়া শেয়ার সঞ্চয়পত্র ব্যাংক আমানত থেকে ৪ হাজার ৪৯৯ টাকা। সংসদ সদস্য সম্মানী ২৩ লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ টাকা ২২ লাখ ৩০ হাজার, ব্যাংকে জমা ৫১ লাখ ৮ হাজার এবং ঋণপত্র, শেয়ার ১ কোটি ৭৫ লাখ। অস্ত্র-শর্ট গানসহ ৫ কোটি ২১ লাখ টাকার অস্ত্র। স্থাবর সম্পদ কৃষি জমি ২৯ লাখ টাকা, বাড়ি ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

নারায়ণ চন্দ্র চন্দ
গত নির্বাচনে হলফনামায় উল্লেখিত আয়ের তুলনায় এবার আয় বেড়েছে খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা) আসনের সাংসদ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের। আয়ের পাশাপাশি বেড়েছে তার দেনাও। এবারের দেওয়া হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন অস্থাবর সম্পত্তি হিসেবে নারায়ণ চন্দ্র চন্দের কাছে নগদ ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ও ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ৫৭ লাখ ৮৮ হাজার ২৬১ টাকা টাকা আছে। তার স্ত্রীর কাছে নগদ ৪৭ হাজার ৫০০ এবং ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ১১ লাখ টাকা রয়েছে। গত ২৮ নভেম্বর জমা দেওয়া হলফনামা ও ২০১৩ সালের ১২ ডিসেম্বর জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১৩ সালে নারায়ণ চন্দ্র তাঁর বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৫ লাখ ২৮ হাজার টাকা (সাংসদ হিসেবে পারিতোষিক বাদে)। মন্ত্রী হিসেবে পারিতোষিক বাদে এবার বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৯ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ টাকা। মন্ত্রী হওয়ার পর প্রতিবছর পারিতোষিক পাচ্ছেন ১১ লাখ ৮১ হাজার টাকা। ২০১৩ সালে দেওয়া হলফনামায় কোনো দায়দেনা ছিল না বলে উল্লেখ করেছিলেন। এবার মন্ত্রী ব্যাংক ঋণ দেখিয়েছেন ৮৩ লাখ ৯৮ হাজার ৯৫৮ টাকা। পাশাপাশি ৩৫ লাখ টাকা ব্যক্তিগত ঋণ আছে বলে উল্লেখ করেছেন।

নসরুল হামিদ বিপু
পাঁচ বছর বিদ্যুত জালানি খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করে নসরুল হামিদ বিপুর দেনা বেড়েছে। বর্তমানে তিনি ৫ কোটি ৫৯ লাখ ৪৩ হাজার ৯৮৮ টাকার দেনার দায়ে ডুবে আছেন। এর আগে ২০১৪ সালের নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামায় তার মোট দেনা ছিল ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৫১ হাজার ৬৮৮ টাকা। ২০১৪ সালে প্রায় ১ কোটি ৮৬ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও এফডিআর এখন তা আর নেই। অন্যদিকে তার স্ত্রীর নামে সঞ্চয়পত্র ও এফডিআর মিলে ২০১৪ সালে ছিল ৩১ লাখ টাকা। এবার যা কিছুটা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ টাকা।

সাদেক খান
প্রথমবারের মতো আওয়ামী লীগের টিকিটে ঢাকা-১৩ আসন থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে আসা ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খানের ব্যাংক এ্যাকাউন্টে জমার পরিমান স্ত্রীর তুলনায় নগন্য। তার স্ত্রীর এ্যাকাউন্টে জমা আছে ৪৫ লাখ ৯৩ হাজার ৭০৮ টাকা। যেখানে সাদেক খানের একাউন্টে আছে মাত্র ৩ লাখ ২৭ হাজার ৫০৯ টাকা।

এমপি আবদুল লতিফ
চট্টগ্রাম-১১ আসনের এমপি আবদুল লতিফের চেয়ে তার স্ত্রীর সম্পদ দ্বিগুণেরও বেশি। এমপি লতিফের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ রয়েছে ৫ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার। তার স্ত্রীর রয়েছে ৯ কোটি ৯০ লাখ ২৯ হাজার টাকার সম্পদ। পাঁচ বছরে এমপি লতিফের সম্পদ আড়াই কোটি টাকা বেড়েছে। একই সময়ে তার স্ত্রীর সম্পদ বেড়েছে তিন কোটি টাকা। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এমপি এনামুল হক
এক দশকে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের ব্যাংকে জমা কমলেও তার স্ত্রী তহুরা হকের বেড়েছে। বর্তমানে ব্যাংকে তার নিজের নামে ৭ লাখ ৮৭ হাজার ১১৪ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৪ লাখ ২ হাজার ৩২৫ টাকা জমা দেখিয়েছেন এনামুল। ২০১৩ সালে নিজের ৮ লাখ ৫৮ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর ১ লাখ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা জমা দেখান। এবার স্ত্রী তহুরা হকের মালিকানায় ৭ কোটি ৬৭ লাখ ১০ হাজার টাকার শেয়ার বিনিয়োগ দেখিয়েছেন এনামুল হক। যেখানে তার নিজের নামে শেয়ারে বিনিয়োগ এর প্রায় অর্ধেক ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

আবদুস সোবাহান
বরিশাল-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুস সোবাহান পেশা হিসেবে নিজেকে সাংসারিক ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আবদুস সোবাহানের থেকে তার স্ত্রীর স্থাবর সম্পদের পরিমাণ যেমন বেশি তেমন বছরে তার আয়ের থেকে নির্ভরশালীদের আয়ও বেশি। বাড়ি-অ্যাপার্টমেন্ট-দোকান বা অন্যান্য ভাড়া, ব্যবসা অন্যান্যভাবে তার বছরে আয় ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৫৯৫ টাকা এবং তার ওপর নির্ভরশালীদের বছরে আয় ৮ লাখ ৮৬ হাজার ৬০৫ টাকা। স্থাবরের মধ্যে তার ৫৬ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬০ টাকার ও তার স্ত্রীর ১ কোটি ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৩৪৭ টাকার সম্পত্তি রয়েছে।

অধ্যক্ষ আব্দুর রশীদ
বরিশাল-৬ আসনে বিএনপির অধ্যক্ষ আব্দুর রশীদ খান পেশায় একজন আইনজীবী। ১৮ লাখ ৭০ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে প্রার্থীর নিজের এবং তার স্ত্রীর ১৮ লাখ টাকার সম্পদ ও বিয়েকালীন ১০ ভরি অলংকার রয়েছে। পাশাপাশি স্থাবর সম্পদে ৪ লাখ টাকার একটি বাড়ি ও আড়াইলাখ টাকার জমি রয়েছে প্রার্থীর নিজ নামে, এছাড়া স্ত্রীর নামে ৪৬ লাখ টাকার জমি ও দালান এবং নির্ভরশীলদের নামে ৪০ হাজার টাকা মূল্যের জমি রয়েছে। একই আসনে জাসদের মো. মোহসীন ডিপ্লোমা ইন কমার্স পেশায় একজন ব্যবসায়ী। ১১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৯৮ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে প্রার্থীর নিজের এবং তার স্ত্রীর নামে ১৮ লাখ ১০ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে। স্থাবর সম্পদে প্রার্থীর নিজের নামে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার একটি পিস্তল ও স্ত্রীর নামে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে।

 

প্রথম কিস্তি সংবাদ পড়তে ক্লিক করুন : দুই-এক জন কোটিপতি

 

 

আলোকিত প্রতিদিন/০৫ ডিসেম্বর/আরএ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন