পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

প্রিয়নবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) এর স্মৃতিবিজড়িত মহান ১২ রবিউল আউয়াল বুধবার। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ এই মহামানবের জন্ম ও ওফাত দিবস আজ। দিবসটি মুসলমানদের কাছে পবিত্র। দিনটি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হিসেবে পালন করেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

দিবসটি পালন উপলক্ষে আজ রাজধানীতে পাড়া মহল্লা, অলি-গলিতে মিছিল হচ্ছে। এছাড়া রাজধানীসহ সারা দেশে সরকারি-বেসরকারিভাবে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের কমর্সূচিও পালন করা হচ্ছে।

প্রায় এক হাজার ৪০০ বছর আগে এই দিনে আরবের মরুপ্রান্তরে মা আমেনার কোলে জন্ম নিয়েছিলেন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। আবার এই দিনেই তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। মহামানব হজরত মুহাম্মদ (সা.) এসেছিলেন তৌহিদের মহান বাণী নিয়ে। প্রচার করেছেন শান্তির ধর্ম ইসলাম। রাসুলের জন্ম ও মৃত্যুর দিন হিসেবে মুসলমানদের কাছে দিবসটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এছাড়াও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদও পৃথক বাণী দিয়েছেন।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে। দিনটি উপলক্ষে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ চত্বরে আয়োজিত মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলা ও ইসলামি ক্যালিওগ্রাফি প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ধর্মসচিব মো. আনিছুর রহমান।

পক্ষকালব্যাপী অন্যান্য অনুষ্ঠানমালার মধ্যে রয়েছে ১৫ দিনব্যাপী ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল, বাংলাদেশ বেতারের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় সপ্তাহব্যাপী সেমিনার, ইসলামী ক্যালিগ্রাফি, মহানবী (সা.) এর জীবনীভিত্তিক পোস্টার ও গ্রন্থ প্রদর্শনী, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও সমমানের মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রী এবং অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ, ‘পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী সা. স্মরণিকা’ প্রকাশ, রাসূল (সা.) এর শানে স্বরচিত কবিতা পাঠের মাহফিল এবং ক্বিরআত ও হামদ-না’ত মাহফিল।

এছাড়া পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশব্যাপী বিভিন্ন খানকাহ, দরবার শরিফ, মসজিদসহ ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন জশনে জুলুস, শান্তি মহাসমাবেশ, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল, কোরআন খানি, ফাতেহা পাঠ, দোয়া মাহফিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করছে।

মিলাদুন্নবী উপলক্ষে রাজধানীতে আনজুমানে রহমানিয়ার মইনীয়া মাইজভান্ডারিয়া জশনে জুলুস বা আনন্দ শোভাযাত্রা বের করে। সকাল ১০টায় বের হওয়া এই শোভাযাত্রায় চার হাজারের মতো মানুষ অংশ নেয়। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শান্তি মহাসমাবেশ ও জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে সকালে স্বেচ্ছায় রক্তদানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনের অনুষ্ঠানমালা। এরপর দরবারের ভক্ত ও স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে বের করা হয় বিশাল শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রায় অংশ নেন প্রায় চার হাজার মানুষ।

একইভাবে শিয়া ও সুন্নী সম্প্রদায়ের মানুষও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালন করছে। রাজধানীর মিরপুর এলাকার বেশ কিছু মাজার শরীফ এবং দরবারে আয়োজন করা হয়েছে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার। একই সঙ্গে আয়োজন করা হয়েছে শোভাযাত্রার। তারা হামদ-নাতসহ বিভিন্ন ইসলামিক সঙ্গীত পরিবেশন করছেন। শোভাযাত্রায় অংশ নেয়া মানুষ রাসুল (সা.) এর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করতে খালি পায়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

আলোকিত প্রতিদিন/২১ নভেম্বর/আরএইচ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন