রেকর্ড বুকে জায়গা করে নিলো পাকিস্তান

ক্রীড়া ডেস্ক:এতটা তীরে এসে এভাবে তরি ডুবে যাবে পাকিস্তানের, সেটা কেউই হয়তো আজ সকাল কিংবা দুপুর পর্যন্ত কল্পনা করেনি। তবে দুপুরের পর, অর্থাৎ আবু ধাবিতে পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের টেস্টের চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনেই দাবার গুটি পাল্টে যেতে শুরু করে। অভিষিক্ত কিউই স্পিনার অ্যাজাজ প্যাটেলের ঘূর্ণিতে দিশেহারা হয়ে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান হেরেছে মাত্র ৪ রানের ব্যবধানে।

একপ্রান্ত আগলে রেখে আজহার আলি চেষ্টা করেছিলেন পাকিস্তানের পরাজয় ঠেকানোর। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তিনিই পড়ে গেলেন এজাজ প্যাটেলের ঘূর্ণি ফাঁদে এবং এলবিডব্লিউর শিকার হয়ে ফিরে গেলেন। আজহার আলিকে আউট করে দিয়েই উল্লাসে ফেটে পড়ে নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা। তাদেরও হয়তো বিশ্বাস হচ্ছিল না, জিতেছে নিউজিল্যান্ড।

পাকিস্তানের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের মাত্র ৪ রানের রোমাঞ্চকর জয়ের এই ঘটনা ঢুকে গেছে ইতিহাসের পাতায়। সবচেয়ে কম রানের ব্যবধানে পরাজয়ের ছোট্ট তালিকায় ঠাঁই করে নিলো টান টান উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচটি।

যদিও কম রানের ব্যবধানে জয়ের তালিকায় শীর্ষে উঠতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। কারণ, ১৯৯৩ সালে সবচেয়ে কম ব্যবধানে জয়ের রেকর্ডটি গড়ে রেখেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাডিলেডে মাত্র ১ রানে জয় পেয়েছিল স্যার ভিভ রিচার্ডসের দল। অ্যালান বোর্ডারের নেতৃত্বে খেলছিল অস্ট্রেলিয়া। জয়ের জন্য শেষ ইনিংসে তাদের প্রয়োজন ছিল ১৮৬ রানের।

কিন্তু কার্টলি অ্যামব্রোসের তোপের মুখে ১৮৪ রানেই অলআউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ফলে ১ রানের রোমাঞ্চকর জয় পেয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই ইনিংসে ১০ উইকেট নিয়ে অ্যামব্রোস পেয়েছিলেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

২ রানের ব্যবধানে জয়ের ঘটনাটি দুই নম্বরে। ২০০৫ সালে বার্মিংহ্যামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাত্র ২ রানে জিতেছিল ইংল্যান্ড। ওই টেস্টে জয়ের জন্য ২৮২ রানের প্রয়োজন ছিল অস্ট্রেলিয়ার। কিন্তু অ্যান্ড্রু ফ্লিন্টফ, অ্যাশলে জাইলস এবং স্টিভ হার্মিসনের বোলিং তোপের মুখে ২৭৯ রানে অলআউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। ৩ রানে জয়ের ঘটনা রয়েছে ২টি। একটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার, ১৯০২ সালে এবং অন্যটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮২ সালে। ৫ নম্বরে ঠাঁই পেলো নিউজিল্যান্ড এবং পাকিস্তানের এই ম্যাচটি।

আলোকিত প্রতিদিন/১৯ নভেম্বর/আরএ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন