কে পাচ্ছেন নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন

এরশাদ হুসাইন অন্য, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ): আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী তৃনমূল নেতা কর্মীদের মধ্যে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। নেতা কর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে নানা রকম মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

দলের নেতাকর্মীরা জানান, ১/১১ এর পর বর্তমান সময় পর্যন্ত দলের ক্রান্তিকালে নেতা কর্মীদের পাশে থেকে দলকে উজ্জীবিত রেখেছেন। পুলিশী হামলা-মামলা, জেল-জুলুম নির্যাতনকে উপেক্ষা করে রাজপথ উত্তপ্ত রেখেছেন উপজেলা পরিষদের চেয়াম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মান্নান। সাবেক মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম ১৯৯১, ৯৬ ও ২০০১ সালে এ আসন থেকে এমপি হলেও পরবর্তীতে গত ১০ বছরে কোন কর্মসূচি ও নেতা কর্মীদের পাশে থাকেননি বলে এই আসনের তৃনমূল নেতা কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ আসনে সাবেক মন্ত্রীর জনপ্রিয়তা থাকলেও কেন বা কী কারনে দলের কর্মসূচি ও নেতাকর্মীদের থেকে দূরে সরে ছিলেন তা সবারই অজানা। এ আসন থেকে বিএনপির একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে তৃনমূল নেতাকর্মীরা সভা করে প্রার্থীর নাম কেন্দ্রে পাঠিয়েছে। উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী নজরুল ইসলাম টিটু সাক্ষরিত গণমাধ্যেমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় গত শনিবার ঢাকার একটি রেস্টুরেন্টে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা যৌথ সভা করে। সে সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসন থেকে তৃনমূল বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য, উপজেলা পরিষদের চেয়াম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মান্নানকে সমর্থন দেয়া হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সোনারগাঁ আসন থেকে ২৭ জন মনোনয়নের আবেদন পত্র ক্রয় করলেও পরবর্তীতে অনেকে মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়া থেকে পিছু হটেছে। মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে যারা সোনারগাঁ আসন থেকে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন তারা হলেন- সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রেজাউল করিম, উপজেলা পরিষদের চেয়াম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম মান্নান, সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি খন্দকার আবু জাফর, কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সম্পাদক ওয়াহিদ বিন ইমতিয়াজ বকুল, যুব অধিদপ্তরের সাবেক চেয়ারম্যান ওয়ালিউর রহমান আপেল, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম টিটু, থানা বিএনপির সহ-সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন রিয়াজ, সাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুজ্জামান মাসুম, পিরোজপুর ইউনিয়ন সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বিডিআর, পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম ভুইয়া, জামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আল মুজাহিদ, বারদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজগর, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মুকুল, থানা যুবদলের সাবেক সভাপতি মোশারফ হোসেন ও এডভোকেট শাম্মী আক্তার।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) এই আসনটিতে বিএনপির জনপ্রিয়তা থাকলেও মূলত রেজাউল করিম-মান্নান এর দন্দের কারণেই দলের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করছেন বিএনপির এই দুই নেতার মধ্যে সমঝোতা না হলে এবারও হারাতে হতে পারে এই আসনটি। আগামী ৩০ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে সোনারগাঁয়ে বিএনপির নেতা কর্মীদের মাঝে উৎকন্ঠা ও ক্ষুদ্ধতা বিরাজ করছে। বহুল প্রতিক্ষিত জাতীয় এই নির্বাচনে কে পাচ্ছেন সোনারগাঁয়ে বিএনপির মনোনয়ন এই নিয়ে আপেক্ষায় আছে বিএনপির তৃণমূল নেতা কর্মীরা।

আলোকিত প্রতিদিন/১৯ নভেম্বর/আরএইচ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন