মানিকগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি’র মনোনয়নের দৌড়ে এগিয়ে জনমানুষের নেতা ড. খোন্দকার আকবর হোসেন বাবলু

বিশেষ প্রতিবেদক: গত ১৫ নভেম্বর-২০১৮ বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় ঢাকাস্থ আরমানি টোলার নিজস্ব বাসভবনে ড. খোন্দকার আকবর হোসেন বাবলু’র সাথে দেখা করতে যাই। দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন পরিবারের সাংবাদিক দেখেই তিনি হাস্যজ্জ্বল কণ্ঠে সাদর অভিনন্দন জানান। চা পান করার ফাঁকে বাবলু সাহেবকে কিছু প্রশ্ন করা হলো। আন্তরিকভাবে তিনি বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর জানান। পাঠকদের জন্য সাক্ষাৎকারটি উপস্থাপন করা হলো।
প্রশ্ন: বিএনপি’র এই রাজনৈতিক ক্রান্তিকালে কেমন সময় পার করছেন?
উত্তরে তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে সত্যিকারের রাজনীতি বলতে কিছু নেই। আমার চেয়ে আপনারা কম জানেন না যে, বিবিসি সংবাদ সম্প্রতি সম্প্রচার করেছে, বাংলাদেশে একনায়কতান্ত্রিক শাষন ব্যবস্থা চলছে। গণতন্ত্র অনুপস্থিত, মানুষের বাকস্বাধীনতা খর্ব করেছে এই আওয়ামী বাকশালী ফ্যাসিস্ট সরকার। বিরোধীদলকে রাজপথে নামতে দিচ্ছে না। বিরোধীদল নিধন করার জন্য পাখির মতো নির্বিচারে গুলি করে মানুষ হত্যা করছে এই অবৈধ সরকার। এমনকি বিএনপি’র শান্তিপূর্ণ আন্দোলনেও বাঁধা দিচ্ছে।
পুনরায় ড. খোন্দকার আকবর হোসেন বাবলু সাহেবকে প্রশ্ন করা হয়-আপনার পিতা মরহুম এ্যাড. খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন বিএনপি’র সাবেক সফল মহাসচিব ছিলেন, তাঁর সুযোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে আপনার নিকট প্রশ্ন- বিএনপি’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মামলা সম্পর্কে কিছু বলুন, কারণ আপনাদের পরিবার শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পরিবারের সাথে গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
উত্তরে তিনি বলেন- আমার পিতা বিএনপি’র দুর্দিনে জীবনবাজি রেখে বিএনপি’র হাল ধরেছিলেন। আমি সেই পিতার সন্তান হিসেবে আমারও দায়িত্ব আছে ম্যাডাম খালেদা জিয়া একটি সাজানো, পাতানো এবং সম্পূর্ন ভিত্তিহীন মিথ্যা মামলায় জেলে, তাই তাকে মুক্ত করার আগপর্যন্ত জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া। ৭২ বছর বয়সী বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রীকে জেলে রেখে আমরাতো আর শান্তিতে ঘুমাতে পারি না। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে জেলখানার বন্দিদশা হতে মুক্ত করে সত্যের প্রতিষ্ঠা করতে চাই। দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং তারণ্যের অহংকার তারেক রহমান কোনো অবস্থাতেই এ মামলায় দায়ী বা দোষী নন, শুধু আমি কেনো, বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষই তা জানে। ম্যাডাম এখন অসুস্থ, সরকার তার অবৈধ ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করতেই ম্যাডামকে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জেলখানায় আটকে রেখেছে। ম্যাডাম খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তায় ভীত এই সরকার, তাই তারা গোপন ষড়যন্ত্রকে চরিতার্থ করতেই এ প্রক্রিয়া অবলম্বন করছে।
প্রশ্ন: বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে বিএনপি কেনো নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে?
উত্তর: নির্বাচনে অংশগ্রহণ করাটাও একটি আন্দোলনের কৌশলের অংশ বিশেষ। তাই বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতেই এই নির্বাচন। তারেক রহমান কে অবৈধ সাজানো পাতানো মামলা হতে অব্যহতির মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার পরিবেশ তৈরি করতেই এই নির্বাচনী আন্দোলন। বাংলাদেশে এখন জোর-জুলুমের রাজত্ব কায়েম হয়েছে। সরকারের আচরণ আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগকেও হার মানায়। এই সভ্যযুগে এক অসভ্য সরকার আমাদের মাথার উপর চেপে বসেছে।
দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন’র এই প্রতিবেদক প্রশ্ন করেন- শোনা যাচ্ছে বেগম খালেদা জিয়াকে বন্দি রেখে সরকার বিএনপিকে ভাঙ্গতে কিংবা চাপে রাখতে চাচ্ছে এ ব্যাপারে আপনার মন্তব্য কী?
উত্তর: ইতিমধ্যেই বিএনপি’র নবীণ এবং প্রবীণ নেতাগণ তাদের ত্যাগতিক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে বিএনপিকে ভাঙ্গা সম্ভব হবে না। ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে বন্দি রেখে সরকারতো কম চেষ্টা করেনি কিন্তু সম্ভব হয়নি। কারণ, জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি একটি আদর্শিক রাজনৈতিক দল। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে গড়া রাজনৈতিক সংগঠন, এটিকে ভাঙ্গার জন্য দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র হয়েছে, আজ পর্যন্ত সেই ষড়যন্ত্র সফল হয়নি, ভবিষ্যতেও সম্ভব হবে না ইনশাআল্লাহ্। বরং জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এখন পূর্বের, যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক শক্তিশালী।
প্রশ্ন: শুনলাম আপনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে চান, কথাটা কতোটুকু সত্য এ প্রসঙ্গে কিছু বলুন-
উত্তর: আমি পারিবারিকভাবেই রাজনীতির সাথে জড়িত। আমার পিতা মরহুম এ্যাড. খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন ঘিওর-দৌলতপুর এবং শিবালয় নির্বাচনী আসন থেকে ৬ বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। পিতার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে দীর্ঘদিন জড়িত থেকে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করে ফেলেছি। দীর্ঘদিন প্রবাস জীবন পার করেছি, শিক্ষকতা পেশার সাথেও ছিলাম, এখন বাকী জীবনটা রাজনীতির সাথেই থাকতে চাই। মানুষের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্নায় নিজেকে জড়িত রাখার মধ্যে একটি অন্যরকম আনন্দ আছে। ইতিমধ্যে স্ব-উদ্যোগে অনেক কাজ করেছি, যা মিডিয়ার সুবাদে আপনারা অবগত আছেন।
প্রশ্ন: আপনি বিএনপি হতে মনোনয়ন পাবার ব্যাপারে কতোটুকু আশাবাদী?
এ প্রশ্নের উত্তরে ড. খোন্দকার আকবর হোসেন বলেন- দেশনেত্রী, বিএনপি’র চেয়ারপার্সন আমাকে সরাসরি মানিকগঞ্জ-১ আসনে জনগণের সাথে থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বাবার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা রক্ষায় কাজ করতে হবে। আমি বিএনপি’র সফল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছি। আমি সাধ্যমতো আমার নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছি। অপর এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন আমি আশাবাদী মানুষ। যেহেতু বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে সেহেতু আমাকে দলীয় মনোনয়ন দিবে। কারণ, জেলা নেতৃবৃন্দ বিএনপি’র এই চরম দুঃসময়ে রাজনৈতিকভাবে ভ‚মিকা রাখতে পারেনি কিন্তু আমি মামলা হামলার ভয় ভীতিকে উপেক্ষা করে রাজপথে ছিলাম আছি থাকবো। বেশকয়েকটি মামলা খেয়েছি, পুলিশের লাঠিপেটাকে উপেক্ষা করে আমার দলের জন্য কাজ করছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জনগণকে সাথে নিয়ে ছিলাম আছি থাকবো। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুযোগ্য উত্তরসুরী তারুণ্যের অহংকার জননেতা তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে আগামী দিনে শেষ বিন্দু রক্ত দিয়ে হলেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে রাজপথে থাকবো। সাক্ষাত গ্রহনের জন্য দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন’কে ধন্যবাদ এবং আপনাদের মাধ্যমে আমার নির্বাচনী এলাকার জনগণকে অভিনন্দন, তারা ম্যাডাম খালেদা জিয়ার কারামুক্তির আন্দোলন এবং জননেতা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সকল মিথ্যে মামলা হতে অব্যাহতির জন্য আমার সাথে আছে আগামীদিনেও থাকবে ইনশাআল্লাহ্।

 

আলোকিত প্রতিদিন/১৮ নভেম্বর’১৮/ জেডএন

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন