নিরপেক্ষ নির্বাচনে গণমাধ্যমের সহায়তা চাইলো ঐক্যফ্রন্ট

‘অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন’ অনুষ্ঠানে সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সহযোগিতা চেয়েছে বিএনপি-গণফোরামসহ কয়েকটি দলের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানের একটি অভিজাত হোটেলে দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ঐক্যফ্রন্ট এ সহযোগিতা চায়। পরে সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ কথা জানান ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন।

সভায় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের মধ্যে ড. কামাল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, সহ-সভাপতি তানিয়া রব, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না প্রমুখ।

সাংবাদিকদের ড. কামাল বলেন, ‘দুই ঘণ্টা সম্পাদকদের সঙ্গে আমরা মতবিনিময় করেছি। তারা বিভিন্ন ব্যাপারে মতামত দিয়েছেন। যদি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হয়, তবে তারা আমাদের কাছ থেকে কী আশা করেন, সে ব্যাপারেও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই মতবিনিময় আমাদের জন্য খুবই মূল্যবান মনে করি। সরকারের যেসব জিনিস আমরা চিহ্নিত করেছি, আশা করবো যে এসব ব্যাপারে গণমাধ্যম সজাগ দৃষ্টি রাখবে।’

ঐক্যফ্রন্টের এ শীর্ষ নেতা বলেন, ‘এডিটর সাহেবদের সঙ্গে আমাদের আলোচনার উদ্দেশ্য ছিলো, অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে কী কী জিনিস তারা অতীতে দেখেছেন…। তারা মনে করেন, এবার সেগুলো থেকে আমাদের বিরত থেকে সক্রিয়ভাবে সবাইকে চেষ্টা করতে হবে, যেন জনগণ সত্যিকার অর্থে নির্ভয়ে স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে এবং সত্যিকার অর্থে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়। সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সরকারের যেমন কর্তব্য আছে, আমরা যারা বিরোধী দল নির্বাচন করতে যাচ্ছি, তাদেরও কর্তব্য আছে- নির্বাচনের পরিবেশ রক্ষা করা, যেন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়।’

সম্পাদকদের কাছে কী ধরনের সহযোগিতা চেয়েছেন- প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আমরা সব ধরনের সহযোগিতা চেয়েছি।’

সভায় সম্পাদকদের মধ্যে অংশ নেন- নিউজ টুডের সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, হলিডের সম্পাদক সৈয়দ কামাল উদ্দিন আহমেদ, মানবজমিনের সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউএইজের সম্পাদক নুরুল কবীর, আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর.কমের সম্পাদক তৌফিক ইমরাজ খালিদী, সাপ্তাহিক বুধবারের সম্পাদক আমির খসরু, সাপ্তাহিকের সম্পাদক গোলাম মোর্তজা, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান, দিনকালের সম্পাদক ড. রেজোয়ান সিদ্দিকী।

এছাড়াও ছিলেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের যুগ্ম-সম্পাদক আবু তাহের, এএফপি ঢাকা ব্যুরো চিফ শফিকুল আলম, রয়টার্সের ব্যুরো চিফ সিরাজুল ইসলাম কাদির, ইনকিলাবের সহকারী সম্পাদক মুন্সি আব্দুল মান্নান, বাংলাদেশের খবরের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন, ভয়েস অব আমেরিকার আমীর খসরু, নিউজ টুডের মোসলেম উদ্দিন আহমেদ, ডেইলি স্টারের সাখাওয়াত হোসেন লিটন, যুগান্তরের মাসুদ করীম, সমকালের লোটন একরামসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা।

সভার শুরুতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্পাদকদের স্বাগত জানিয়ে ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর ফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেন বক্তব্য রাখেন।

সভার ফাঁকে বেরিয়ে এসে আমাদের নতুন সময়ের সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি তাদের জিজ্ঞাসা করেছি সাম্প্রতিক সময়ে ঐক্যফ্রন্টের জনসভাগুলোতে কোরআন তেলোয়াত, বাইবেল, গীতা ও ত্রিপিটক পাঠের মাধ্যমে শুরু হয়েছে। সেখানে বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এগুলো তাদের ঐক্যবদ্ধ চিন্তার ফল কি-না? এ বিষয়গুলো নিয়ে তাদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নির্বাচনের আগে আমাদের সামনে তুলে ধরবেন কি-না। আমি জানতে চেয়েছি নির্বাচনের পর বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকীর যে উৎসব, তারা জয়ী বা পরাজিত হলে কিভাবে পালন করবেন। এসব প্রশ্নের নোট তারা নিয়েছেন, পরে উত্তর দেবেন।’

নাঈমুল ইসলাম খান আরও বলেন, ‘তৌফিক ইমরোজ খালিদীর এক প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন জানিয়েছেন- ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে জিতলে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সদস্যরা নির্ধারণ করবেন, তাদের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন।’

পরে অবশ্য তৌফিক ইমরোজ খালিদী সাংবাদিকদের বলেন, ‘মতবিনিময় সভায় আমি একটি প্রশ্ন করেছি যে, এক্যফ্রন্ট যদি জয়লাভ করে তাহলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন। সেই প্রশ্নের উত্তর আমি পাইনি। আমার মনে হয় এই ফ্রন্টের যারা নির্বাচন করছে তাদের বলতে হবে যে, তারা যদি বিজয়ী হন, কে প্রধানমন্ত্রী হবেন। সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে, সংসদীয় গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে। অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে- সবাই কিন্তু আগে থেকে জেনে যান যে, এই দল বা এই জোট বিজয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন। সেই বিষয়টা কিন্তু এই ফ্রন্টকে পরিষ্কার করতে হবে। সেটা তারা এখনো পরিষ্কার করেননি।’

আলোকিত প্রতিদিন/১৬নভেম্বর/আরএইচ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন