সব প্রতিরোধ ভেঙে টেস্টে বিশাল জয় বাংলাদেশের

ক্রীড়া ডেস্ক: ৫ উইকেট নিয়ে জয় নিশ্চিত করলেন মিরাজ। ব্রেন্ডন টেলর আর পিটার মুরের জুটি অস্বস্তিতে রেখেছিল বাংলাদেশকে। কিন্তু লাঞ্চের পর মেহেদী হাসান মিরাজের ব্রেকথ্রু দারুণ কাজে দিলো। পঞ্চম ও শেষ দিন টেলর একাই লড়াই করলেও বাংলাদেশ ২১৮ রানে ঢাকা টেস্ট জিতে ১-১ ব্যবধানে দুই ম্যাচের সিরিজ সমতায় শেষ করল।

প্রথম ইনিংসে তাইজুল ইসলাম, আর দ্বিতীয় ইনিংসে মিরাজের ঘূর্ণিতে জিতল বাংলাদেশ। ৪৪৩ রানের লক্ষ্যে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ৯ উইকেটে ২২৪ রান করে জিম্বাবুয়ে। তেন্দাই চাতারা অ্যাবসেন্ট হার্ট ছিলেন।

প্রথম সেশনে দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটসম্যান শন উইলিয়ামস ও সিকান্দার রাজাকে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান ও তাইজুল। তারপরই টেলরের সঙ্গে মুরের প্রতিরোধে লাঞ্চের বিরতিতে যায় জিম্বাবুয়ে। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে তাদের ৬৬ রানের জুটি ভাঙেন মিরাজ। মুরকে ১৩ রানে ইমরুল কায়েসের ক্যাচ বানান তিনি। কিছুক্ষণ পর রেজিস চাকাভা মাত্র ২ রান করে রান আউট হন। মুমিনুল হকের থ্রো থেকে সহজেই তাকে রান আউট করেন মুশফিকুর রহিম। জিম্বাবুয়ে ব্যাটসম্যানদের যাওয়া আসার মিছিলে এরপর যোগ দেন ডোনাল্ড তিরিপানো। মিরাজের বলে রানের খাতা না খুলেই লিটন দাসকে ক্যাচ দেন তিনি। আবারও এই বাংলাদেশি স্পিনারের ভেল্কিতে ব্রেন্ডন মাভুতা ধরা পড়েন তাইজুলের হাতে।

মিরাজ তার পঞ্চম উইকেট তুলে নেন কাইল জার্ভিসকে ফিরিয়ে। অন্য প্রান্তের ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে উপযুক্ত সঙ্গ না পেলেও টানা দ্বিতীয় ইনিংসে সেঞ্চুরি করেন টেলর। প্রথম জিম্বাবুয়ান হিসেবে দুইবার দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরির কীর্তি গড়লেন তিনি। ১৬৭ বলে ১০ চারে ১০৬ রানে অপরাজিত ছিলেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান।

দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৩৮ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন মিরাজ। ম্যাচে তার উইকেট ৯৯ রানে ৭টি। আর তাইজুল ২০০ রান দিয়ে ম্যাচে পেলেন ৭ উইকেট। ৪ রানে টেলর ও ২ রানে উইলিয়ামস বৃহস্পতিবার ক্রিজে খেলতে নামেন। ২ উইকেটে ৭৬ রানে তাদের দিন শুরু হয়েছে। আগের দিন হ্যামিলটন মাসাকাদজা ও ব্রায়ান চারির উদ্বোধনী জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ৬৮ রানে প্রথম উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ে আর ২ রান যোগ করতে তাদের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যানকে ফেরান তাইজুল ইসলাম। চারি ৪৩ রানে তার শিকার হন। আর মাসাকাদজা করেন ২৫ রান।

প্রথম ইনিংস বাংলাদেশ ঘোষণা করে ৭ উইকেটে ৫২২ রানে। তারপর ৩০৪ রানে জিম্বাবুয়েকে অলআউট করে স্বাগতিকরা দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ৬ উইকেটে ২২৪ রানে। তারা লিড পায় ৪৪২ রানের।

ম্যাচের সেরা হয়েছেন ২১৯ রানের রেকর্ড গড়া মুশফিক। আর সিরিজসেরা দুই ম্যাচে ১৮ উইকেট নেওয়া তাইজুল।

আলোকিত প্রতিদিন/১৫ নভেম্বর/এমকে

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন