আমাদের চোখের পানি কেউ দেখে না

ক্রীড় ডেস্ক: যে খেলোয়াড়ই হোক না কেন ম্যাচে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না হলে কিংবা খারাপ হলে মন খারাপ হয় না, হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয় না, কিংবা আড়ালে আবডালে চোখের পানি ফেলেন না এমন এই ধরাধামে বোধ করি খুব বেশি নেই। প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না হলে অপমানিত বোধ করা এবং চোখে পানি ফেলাদের সেই কাতারে আছেন বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররাও। প্রতিপক্ষ যে দলই হোক না কেন, প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না হলে তাদের চোখেও পানি আসে।

বৃহস্পতিবার (১৫ নভেম্বর) মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের সম্মেলন কক্ষে এসে সেকথাই জানালেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে ভারপ্রাপ্ত দলপতি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। রিয়াদ বলেন, ‘যদি আপনি ম্যাচ জয় করেন তাহলে অবশ্যই আপনার আনন্দ লাগা উচিত। ম্যাচ জিতলে অতটুকু অধিকার থাকে আনন্দ প্রকাশ করার। আমরা যখন খারাপ খেলি, ড্রেসিং রুমে মনটা আমাদেরই বেশি খারাপ হয়। আমাদের চোখের পানিটা কেউ দেখে না। আমরা এটা কাউকে বলিও না।’

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাত্রই শেষ হওয়া ঢাকা টেস্ট দিয়ে শেষ ৫ ম্যাচের অভিশপ্ত রান খরা (ম্যাচগুলোতে রান সংখ্যা- ১৭, ০, ০, ০ ও ৩৬) কাটিয়েছেন এই টাইগার দলপতি। দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেছেন অপরাজিত ১০১ রানের ইনিংস। তার সেই ইনিংসে ভর করেই দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের জন্য জিম্বাবুয়ের সামনে দাঁড়িয়েছে ৪৪৩ রানের লক্ষ্য। যা টপকাতে গিয়ে ২২৪ রানে গুটিয়ে গেছে সফরকারীরা এবং দিনশেষে ২১৮ রানের বিশাল জয় ধরা দিয়েছে লাল সবুজের শিবিরে। তাই সিরিজ শেষে দলের জয়ের স্বস্তির পাশাপাশি নিজের সেঞ্চুরির স্বস্তিও আনন্দের কল্লোল বইয়ে দিচ্ছে মাহমুদউল্লাহর মনে।

‘হ্যাঁ, কিছুটা স্বস্তি বলতে পারেন। কারণ আমার শেষ পাঁচ টেস্টে কোন ভালো পারফরম্যান্স ছিল না, কোন ফিফটি ছিল না। আমি এই ফরম্যাটের ক্রিকেটে সংগ্রাম করছিলাম। আমি চাচ্ছিলাম আমার জায়গাটা মূল্যায়ন করতে পারে এমন কিছু করতে, কারণ অধিনায়ক হিসেবে সবসময় সামনে থেকে পারফর্ম করতে হয়। ওই দায়বদ্ধতা আমার মধ্যে ছিল। আলহামদুলিল্লাহ যে আমি দলের জন্য অবদান রাখতে পেরেছি। তবে আমার এখনও উন্নতির অনেক জায়গা আছে। আমি চাই এই ফরম্যাটে আরও ধারাবাহিক হতে।

আলোকিত প্রতিদিন/১৫ নভেম্বর/এমকে

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন