সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘিওর, মানিকগঞ্জ, সৈয়দা সামিরার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দা সামিরার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অবৈধ পন্থায় জমির খারিজ বাতিলের বিরোধকে কেন্দ্র করে এক পক্ষের ‘স্ট্যান্ডবাজি’তে মেতেছেন বলেও ভুক্তভোগীরা জানান। এদিকে দখলে থাকা খারিজকৃত বৈধ মালিকদের নিকট ঘুষ দাবি করায় তা না দিলে খারিজকৃত দখলের জমি থেকে উচ্ছেদের হুমকি ও পরে খারিজ কেটে দেয়ার ষড়যন্ত্রে মেতেছেন বলে জানা যায়। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে দৈনিক আলোকিত প্রতিদিনের এই প্রতিবেদকের উপর ক্ষেপে যান এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ হুমকি ধামকি প্রদান করেন। এসময় প্রতিবেদক তাকে অভিযোগের প্রসঙ্গে বক্তব্য চাইলে তিনি আবারও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং বলেন, ‘আপনার যা লেখার আছে লেখেন। সংবাদ প্রকাশ হলে দেখে নেবো।’ স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন উঠেছে তার খুটির জোর কোথায়।

জানা যায়, ঘিওর উপজেলা বড়টিয়া ইউনিয়নের হিজুলিয়া মৌজার খারিজকৃত ও হালসন পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করা বসত ভিটার (দখলে থাকা) খারিজের বিরুদ্ধে বেআইনি ভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) সৈয়দা সামিরা। এখতিয়ার না থাকার পরেও ওই বসভিটার চলমান মিস আপিলের সম্পর্কে দেওয়ানী কার্যবিধি ১১ধারা ভেঙ্গে ক্ষমতার অপব্যবহারে মেতে উঠেছেন তিনি। শুধু এই মামলাই নয়, ওই এলাকার আরও কিছু জিইয়ে থাকা মামলায় ‘স্ট্যান্ডবাজি’তে মেতে উঠেছেন তিনি। এমন সব অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার সারাদিন তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া না গেলে মোবাইলে রাত আটটার দিকে তার সাথে কথা হয়। অভিযোগের বিষয়গুলো জানতে পারলে তিনি ক্ষেপে যান এবং অসৌজন্যমূলক আচরণের এক পর্যায়ে হুমকি প্রদান করেন।

বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (রাজস্ব) জানানো হলে তিনি বলেন, ‘এই জমির বিষয়টি আমি অবগত। আমার কাছে ভুক্তভোগীরা আবেদন করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লিখিত নির্দেশ দিই।’ সৈয়দা সামিরার আচরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এমন ঘটনা অপ্রত্যাশিত। বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) কারোর কথাই মানছে না। তবে তিনি বেআইনী পদক্ষেপ নিলে আমি ন্যায় বিচার নিশ্চিত করবো।’

ওই জমির বিষয়ে গত ১৩/০৯/২০১৮ তারিখে সৈয়দ নূরুল হুদা রনো বাদী হয়ে ঘিওরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আবেদন করেন। একই বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরও আবেদন করে সকল দপ্তর হতে আবদনের রিসিভ কপি সংগ্রহ করায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) কিছু দিন নিশ্চুপ থাকলেও পুনরায় অবৈধভাবে খারিজ বাতিলের খেলায় মেতে উঠেছেন। আবেদনকারীর আবেদনটি হুবোহু তুলে ধরা হলো।

বরাবর
সহকারী কমিশনার ভূমি
ঘিওর, মানিকগঞ্জ।

বিষয় : ঘিওর উপজেলাধীন বড়টিয়া ইউনিয়নের হিজুলিয়া মৌজার খারিজকৃত ও হালসন পর্যন্ত খাজনা পরিশোধীত নিজ দখলীয় বসত ভিটার খারিজের বিরুদ্ধে বেআইনীভাবে চলমান মিস আপিল সম্পর্কে দেওয়ানী কার্যবিধির ১১ ধারা মতে প্রতিকার পাওয়া প্রসঙ্গে।
মহোদয়,

বিনীত নিবেদন এই যে আমি, সৈয়দ নুরুল হুদা রনো, পিতা: মৃত সৈয়দ আব্দুল লতিফ, গ্রাম হিজুলিয়া, পোঃ- বড়টিয়া, উপজেলা- ঘিওর, জেলা- মানিকগঞ্জ, সম্পাদক ও প্রকাশক (জাতীয় পত্রিকা) দৈনিক আলোকিত প্রতিদিন এই মর্মে অভিযোগ করিতেছি যে, আমার পিতা মরহুম সৈয়দ আব্দুল লতিফ তাহার খালার নিকট হতে গত ২৯/১১/১৯৭৭ ইং তারিখে ৫৭৮৫ নং দলিলমূলে ৩০.৫ শতাংশ ভূমি ক্রয় করেন। বাকি ২৪ শতাংশ ভূমি পৈত্রিক ও মালিক সূত্রে ওয়ারিশমূলে মালিক হয়ে মোট ৫৪.৫ শতাংশ ভূমির উপর বসত বাড়ি তৈরি করে কম করে হলেও ৫০ বছর যাবত শান্তিপূর্ণভাবে বাড়ি করিয়া ভোগ দখল করতঃ তিনি মৃত্যু বরণ করেন। আমার পিতা জীবিত থাকা অবস্থায় উক্ত ৫৪.৫ শতাংশ ভূমির গত ২১/১০/২০১২ইং তারিখে কেস নং ৬৯৮ এবং ১৮/০২/২০১৩ এবং কেস নং ১৬৩২ মূলে উক্ত বসত বাড়ি নাম জারি জমাভাগ করেন। অদ্যাবধী উক্ত সমস্ত সম্পত্তির হালসন পর্যন্ত আমরা খাজনা পরিশোধ করে আসছি। আমার পিতা বাড়ির সম্পত্তির ২৪.৫ শতাংশ আমার মাতা আলেয়ার নাহার (হাওয়া) এর নামে ৩২২ নং দলিল মূলে ০৪/০২/২০১৩ তারিখে দলিল করে দিয়ে নিঃসত্ববান হন। ইতিমধ্যে আমার বাবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে ইন্তেকাল করলে আমরা ওয়ারিশগণ আমার নয়া চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আঃ খালেক এর নিকট গত ২৫/০১/২০১৭ইং তারিখে ২২৫নং দলিল মূলে ৩৪.৫ শতাংশ বাড়ির জমি বিক্রি করি। বাকি সম্পত্তি অদ্যাবধী আমাদের পক্ষে সৈয়দ আঃ খালেক আমার নয়া চাচার মাধ্যমে দখলে রয়েছে। আমরা কেউ পৈত্রিক ভিটায় বসবাস না করার সুযোগে এবং পিতার মৃত্যুর কারনে আমার বড় চাচা মির মোবারক হোসেন বাদি হয়ে এবং ছোট চাচার যোগসাজসে আমাদের পৈত্রিক বাড়ির খারিজ কর্তনের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মানিকগঞ্জ এর নিকট মিস আপিল ৬০/১৪ দায়ের করেন। উক্ত মোকাদ্দমায় সহকারী কমিশনার ভূমি ঘিওরকে সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক মূল কাগজ যাচাই বাছাই করে দেখার নির্দেশ দিয়ে মোকদ্দমাটি (মিস কেস) খারিজ করেন গত ২১/০৪/২০১৬ইং তারিখে। ইতিমধ্যে আমার বড় চাচা মীর মোবারক হোসেন বাদী হয়ে একই বিষয়ে বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে ১৪৪/১৬ নং বাটোয়ারা মামলা দায়ের করেন। কারণ তিনি মিস কেস করে আমাদের খারিজকৃত সম্পত্তি কর্তন করতে পারেননি। ইতিমধ্যে সহকারী কমিশনার ভূমি, ঘিওর, তহসিলদার বড়টিয়াকে খারিজের বিষয়ে সরেজমিনে তদন্ত পূর্বক রিপোর্ট পেশ করার কথা বললে গত ৭/০৫/২০১৭ইং তারিখে তহসিলদার বড়টিয়া একই বিষয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান থাকায় খারিজের বিষয়ে হস্তক্ষেপ অপরাগতা প্রকাশ পূর্বক তদন্ত রিপোর্ট পেশ করেন। তহসিলদার বড়টিয়ার রিপোর্টের ভিত্তিতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘিওর উক্ত মিস কেস গত ১০/০৫/২০১৭ইং তারিখের আদেশ মূলে নথিভূক্ত করেন। ইতিমধ্যে আমরা বাদী হয়ে আরএস রেকর্ড সংশোধনের জন্য একই সম্পত্তি নিয়ে গত ১৭/০৫/২০১৭ইং তারিখে বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে ১১৫/২০১৭ নং দেওয়ানী মোকদ্দমা দায়ের করি।

এমতাবস্থায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘিওর মানিকগঞ্জের আদালতে দায়েরকৃত ৬০/১৪ নং মিস কেস নথিভূক্ত হবার পরেও একই আদালত শুধুমাত্র ব্যক্তির পরিবর্তনে কীভাবে পুনরুজ্জীবিত হতে পারে তা বোধগম্য নয়। উল্লেখ থাকে যে দেওয়ানী কার্যবিধি ১১ ধারামতে ইহা আইনের পরিপন্থি বিষয় বলে বিজ্ঞ আইনজীবীদের আইনগত মতামত রয়েছে। বর্তমান সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘিওর অজ্ঞাত কারণে উক্ত নথিভূক্ত জমি নিয়ে গত ৪/০৬/২০১৮ তারিখে পুনরায় শুনানীর জন্য আমাদেরকে বেআইনীভাবে নোটিস প্রদান করেন।

অতএব মহদয় সমীপে প্রার্থনা, একই আদালতে (সহকারী কমিশনার ভূমি ঘিওর) নথিভূক্ত মিসকেস পুনরায় চালু হওয়া এবং বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলা চলমান থাকার পরও দেওয়ানী কার্যবিধির ১১ ধারা মতে ইহা এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে শুনানীর জন্য নোটিশ প্রেরণের বিষয়ে আইনগত প্রতিকারসহ মিসকেসটি নথিভূক্ত করার আদেশদানে বাধিত করবেন।
তারিখ: ১৩/০৯/২০১৮

উক্ত আবেদনটি নিস্পত্তি না করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘিওর, মানিকগঞ্জ ১৪/১১/২০১৮ইং তারিখে সার্ভেয়ার ঘিওরের মাধ্যমে ফোন করে বিবাদী পক্ষকে উপস্থিত থাকার জন্য বলেন। বিবাদী পক্ষ ফোনের মাধ্যমে সময়ের প্রার্থনা করলে তিনি ক্ষেপে যান।

আলোকিত প্রতিদিন/১৪ নভেম্বর/আরএইচ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন