চালু হলো দেশের দীর্ঘতম রেলপথ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের দীর্ঘতম রেলপথ পঞ্চগড় থেকে ঢাকায় সরাসরি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। শনিবার সকালে পঞ্চগড় রেল স্টেশনে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল কালাম আজাদ ট্রেন চলাচলের উদ্বোধন করেন। এ সময় বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক কাজী রফিকুল আলম, পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম সুজন, জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহম্মদ গোলাম আযম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার সাদাত সম্রাট প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনের পর সকাল সাড়ে ৭টায় পঞ্চগড় ষ্টেশন থেকে ঢাকার উদ্যেশ্যে ছেড়ে যায় লাল সবুজের দ্রুতযান আন্তঃনগর ট্রেনটি। রেল বিভাগের পক্ষ থেকে দ্রুতযানের নতুন যাত্রীদের রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। রাত ৯টায় একতা এক্সপ্রেস নামে আরেকটি আন্তঃনগর ট্রেন পঞ্চগড় ছেড়ে যাবে।

দেশের দীর্ঘতম রেলপথ ঢাকা থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত দূরত্ব ৫০৭ কিলোমিটার। দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের লোকজনের যাতায়াতের সুবিধার্থে এবং এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির ফলে সরাসরি এ ট্রেন চালানোর উদ্যোগ নেয় সরকার।

রেলওয়ে জানিয়েছে, দিনাজপুরের পর ঠাকুরগাঁও, রুহিয়া, পীরগঞ্জ হয়ে পঞ্চগড়ে যাবে একতা এক্সপ্রেস ও দ্রুতযান এক্সপ্রেস। এতে দ্রুতযানে ৯৪৪টি এবং একতায় ৮৯৪টি আসন রয়েছে। আন্তঃনগর ট্রেন চালু হওয়ায়, দিনাজপুর-পঞ্চগড় রুটের শাটল ট্রেনটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সরাসরি ঠাকুরগাঁও-ঢাকা রেলপথে আন্তঃনগর ট্রেন চালুর দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। ২০১০ সালে ৯৮২ কোটি টাকা নির্মাণ খরচে পঞ্চগড় থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের ভোমরাদহ পর্যন্ত অবকাঠামো স্থাপনে দীর্ঘসূত্রতা পেরিয়ে এই কাজ শেষ হয় ছয় বছরের মাথায়। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ ছিল, এরপরও ‘অজ্ঞাত কারণে’ চালু হয়নি উত্তরবঙ্গের এই রুটের আন্তঃনগর ট্রেন সেবা।

গত বছর জুলাই মাসে পঞ্চগড়ে এসে এক জোড়া শাটল ট্রেন উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক। এরপরও আন্তঃনগর ট্রেন চালু না হওয়ায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন সাধারণ মানুষ। তবে গত ২৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠাকুরগাঁও এসে আন্তঃনগর ট্রেন চালু করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছিলেন।

আলোকিত প্রতিবেদন/১০ নভেম্বর/এমকে

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন