প্রেমে ব্যর্থ হয়েই স্কুলছাত্র লিমনকে হত্যা

গাইবান্ধা সংবাদদাতা:  গাইবান্ধায় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শীতল গ্রামের চতুর্থ শ্রেণির স্কুল ছাত্র লিমন হত্যার রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। লিমনের বড় বোনকে প্রেমে প্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হলে লিমনকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়। হত্যাকান্ডের ২৬ দিনের মাথায় পুলিশের কাছে ঘাতকদের দেওয়া জবানবন্দিতে এই রোমহর্ষক রহস্য বেরিয়ে আসে।

এঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ রিমান্ড আবেদন করলে ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নেদু মন্ডলের পুত্র হারুনুর রশিদ (২২) ও আব্দুর রশিদের পুত্র তৌফিক প্রধান (১৯), ওই গ্রামের বেলাল হোসেনের পুত্র নূর আলম (২৪), আব্দুল মজিদ প্রধানের পুত্র সাজু মিয়া (২৫), রফিকুল ইসলাম প্রধানের পুত্র পাপলু প্রধান (১৯) গোবিন্দগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আফজাল হোসেন সাংবাদিকদের জানিয়েছে, গত ২৮ আগস্ট গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শীতল গ্রামে অপহরণ করে খুন হয় শিশু লিমন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাকির হোসেন তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে গাজীপুরের জয়নগর এলাকায় পালিয়ে থাকা হারুনুর রশিদ নামের এক যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হারুন এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার ঘটনা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। ঘাতকদের দেয়া জবানবন্দি থেকে জানা যায়, শিশু লিমনের বড় বোনকে বার বার প্রেমে প্রস্তাব দিয়ে বিফল হয় একই গ্রামের কে নিয়ে হত্যা করার সিন্ধান্ত নেয় তারা। গত ২৭ আগস্ট সন্ধ্যায় শিশু লিমনকে অপহরণ করে। পরে পাশ্ববর্তী একটি জঙ্গলে নিয়ে ঘাতক হারুন লিমনকে জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরদিন সকালে পুলিশ নিহত লিমনের লাশ উদ্ধার করে।

আদালতে ঘাতকদের দেয়া ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিতে ও মামলার তদন্তের ভিত্তিতে গোবিন্দগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মজিবুর রহমান পিপিএম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, শিশু লিমনকে জবাই করে। হত্যাকারীদেরকে গত ২২ সেপ্টেম্বর আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে।

উল্লেখ্য চলতি বছরের ২৭ আগষ্ট সোমবার গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের নাকাইহাট ইউনিয়ন এর শীতল গ্রামের লুৎফর রহমানের পুত্র লিমন (১০) নিখোজ হয় পরদিন পাশ্ববর্তী জঙ্গল থেকে তার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এদিকে লিমনের বাবা মা সহ এলাকাবাসী ও সহপাঠিরা হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবী জানিয়েছেন।

আলোকিত প্রতিদিন/২৪ সেপ্টেম্বর/আরএ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন