নিউইয়র্কে শেখ হাসিনার সফরের পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল উত্তেজনা

নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের সমর্থনে আওয়ামী লীগের প্রস্তুতি র‌্যালির পাশাপাশি ‘যেখানে হাসিনা সেখানেই প্রতিরোধ’ কর্মসূচির সমর্থনে বিএনপির মানববন্ধন, আলোচনা সভা ঘিরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

জাতিসংঘে ৭৩তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে আসবেন শেখ হাসিনা। ২৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জাতিসংঘে ভাষণ প্রদানের পর লন্ডন হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা নিউইয়র্ক ত্যাগ করবেন। ৫ দিনের এই সফরের সময়ে ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায়ই ‘প্রবাসী নাগরিক সংবর্ধনা’ সমাবেশে বক্তব্য দেবেন শেখ হাসিনা। এটি অনুষ্ঠিত হবে মিডটাউন ম্যানহাটানে হোটেল হিল্টনের বলরুমে।

এই সমাবেশের বাইরেও বিক্ষোভ ও কাল পতাকা দেখাবে বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের লোকজন। এজন্যে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি নেতা গিয়াস আহমেদ। এর আগে জেএফকে এয়ারপোর্টে শেখ হাসিনাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে হাজারো নেতা-কর্মীর সমাগম ঘটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ এবং নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগসহ যুবলীগ, শ্রমিক লীগ। একইসময়ে শেখ হাসিনাকে কালো পতাকা দেখানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি, যুবদল, জাসাস। এসব সংগঠনের পক্ষে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা এম এ বাতিন এ সংবাদদাতাকে জানান, বিনা চ্যালেঞ্জে কিছুই করতে দেয়া হবে না শেখ হাসিনাকে। আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করবো।

জাতিসংঘে শেখ হাসিনার ভাষণের সময়ে বাইরে আওয়ামী লীগ করবে শান্তি সমাবেশ, অপরদিকে বিএনপি ঘোষণা দিয়েছে প্রতিবাদ সমাবেশের। বিএনপির কর্মসূচির জন্যেও কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে রাখা হয়েছে বলে জানান বিএনপি নেতা গোলাম ফারুক শাহীন। যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান আগেই এয়ারপোর্ট, জাতিসংঘসহ সর্বত্র শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির জন্যে কর্তৃপক্ষের অনুমতি সংগ্রহ করেছেন।

আওয়ামী লীগের পক্ষে ঘোষণা দেয়া হয়েছে, প্রতিবাদের নামে জামায়াত-শিবিরের প্ররোচনায় বিএনপি যদি কোন অসভ্য-অগণতান্ত্রিক আচরণের চেষ্টা করে তাহলে তার সমুচিত জবাব দেয়া হবে। নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগ ও যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের নেতা-কর্মীরা আগের মতো এবারও শেখ হাসিনার নিরাপত্তায় অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকায় থাকবে বলে জানানো হয়েছে সংবাদ সম্মেলন থেকে।

পক্ষ ও বিপক্ষের কর্মসূচির সমর্থনে ১৬ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে আওয়ামী লীগ আর যুবলীগের ব্যানারে দুটি র‌্যালি এবং বিএনপির ৩ গ্রুপের ৩টি র‌্যালি হয়েছে কাছাকাছি দূরত্বে। সকলেই পরস্পরের বিরুদ্ধে স্লোগান আর বক্তব্য দিলেও তা শালীনতার মাত্রা ছাড়িয়ে যায়নি। নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির র‌্যালি চলাকালে তা থেকে ৪/৫ গজের মধ্যেই প্রদীপ রঞ্জন করের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ছিলেন কিন্তু কোন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির উদ্ভব হয়নি। বিএনপির কর্মসূচি শেষ হলেই প্রদীপ কর ও আব্দুর রহিম বাদশা’র নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের র‌্যালি শুরু হয় ডাইভার্সিটি প্লাজায়।

স্টেট বিএনপির এ র‌্যালিতে শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও বেগম জিয়ার মুক্তি দাবিতে স্লোগানের পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন ছাড়া বিএনপি কখনো সে নির্বাচনে যাবে না বলে মন্তব্য করা হয়। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ জসীম ভূইয়া, নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা জসীমউদ্দিন, সভাপতি মাওলানা অলিউল্লাহ মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, সেক্রেটারি সাইদুর রহমান, মহানগর বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা, শ্রমিক দলনেতা রফিকুল মাওলা প্রমুখ।

অপরদিকে আওয়ামী লীগের শোভাযাত্রায় বক্তব্য দেন ড. প্রদীপ রঞ্জন কর, আব্দুর রহিম বাদশা, এডভোকেট শাহ বখতিয়ার, কাজী কয়েস, মিসবাহ আহমেদ, ফরিদ আলম, কায়কোবাদ খান, হিন্দাল কাদির বাপ্পা, শাহীন আজমল, মুক্তিযোদ্ধা আর আমিন, শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রায় একইসময়ে শেখ হাসিনাকে কাল পতাকা প্রদর্শনের কর্মসূচি সফল করার প্রস্তুতি সভা হয় নিকটস্থ কাবাব কিং পার্টি হলে। বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে এ সভায় সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সেক্রেটারি জিল্লুর রহমান জিল্লু এবং পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিএনপি নেতা পারভেজ সাজ্জাদ।

নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিলুপ্ত কমিটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী ও মোহাম্মদ বশির, প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক ডা. মজিবর রহমান মজুমদার, যুগ্ম সম্পাদক গোলাম ফারুক শাহীন, আনোয়ার হোসেন এবং ফিরোজ আহমেদ, মহিলা সম্পাদিকা সৈয়দা মাহমুদা শিরিন, জাতীয়তাবাদী ফোরামের সভাপতি রাফেল তালুকদার, বিএনপি নেতা শামসুল ইসলাম মজনু, বাসিত রহমান, শাহাদৎ হোসেন রাজু, হেলালউদ্দিন, এমলাক হোসেন ফয়সল, কাজী আমিনুল ইসলাম, যুবদল নেতা জাকির হোসেন চৌধুরী, আবু সাঈদ আহমেদ প্রমুখ।

অধ্যাপক দেলোয়ার বলেন, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চলমান স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে জনগণের সরকার নির্বাচিত করতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের বিকল্প নেই। এ দাবির সমর্থনে বিশ্বজনমত গড়তেই জাতিসংঘের সামনে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে হবে।

বিএনপির অপর অংশের আরেকটি প্রস্তুতি সভা হয় ইত্যাদি পার্টি হলে। ডা. মজিবর রহমান, সৈয়দ এম রেজা, মোহাম্মদ বশীর প্রমুখ এ সময় বক্তব্য রাখেন।

আলোকিত প্রতিদিন/১৭ সেপ্টেম্বর/আরএ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন