কুমিল্লার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে বাড়ছে ছিনতাই প্রবণতা

কুমিল্লা সংবাদদাতা: কুমিল্লার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দিন দিন ছিনতাই প্রবণতা বেড়েই চলেছে। জেলার ময়নামতি, শালবন, বৌদ্ধবিহার, ময়নামতি জাদুঘরসহ বিভিন্ন নিদর্শন দেখতে প্রতিদিন দেশ বিদেশ থেকে হাজার হাজার পর্যটক এখানে আসেন। কিন্তু এখানে আসার পর ছিনতাইকারীদের ক্ষপ্পরে পরে হাড়াতে হচ্ছে ক্যামেরা, মোবাইল ফোন, নগদ অর্থসহ মূল্যবান জিনিসপত্র। আবার বাধা দিতে গিয়ে লাঞ্ছিতও হচ্ছেন অনেক পর্যটক।

একাধিক সূত্র জানায়, শালবন বৌদ্ধবিহার ও ময়নামতি জাদুঘর’এ কিছুটা নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও বাকিগুলোতে নেই সে ব্যবস্থা। দিন দিন এ সব নিদর্শনগুলোতে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়লেও সেভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার হয়নি।

চট্টগ্রামের হালিশহর থেকে মাসুদ রানা পরিবার নিয়ে শালবন বৌদ্ধবিহার এলাকায় এসে হয়রানির শিকার হয়েছেন। তিনি জানান, ‘পরিবারকে সাথে নিয়ে ঘুড়তে এসেছিলাম। বিহারে ওই পাশটা আরো সুন্দর বলে ডেকে নিয়ে আমার সাথে থাকা মোবাইল ও নগদ টাকা নিয়ে গেল। কিছুই করতে পারলাম না। মূহুর্তের মধ্যে তারা পালিয়ে গেল’।

বৌদ্ধবিহারে হেটে হেটে ফুল বিক্রি করেন এমন কয়েকজন হকারদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, ‘প্রায় সময়ই এখানে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। কয়েকদিন আগে ঢাকা থেকে চারজন ফটোগ্রাফার এসেছিল এখানে। পরবর্তীতে জাদুঘর ঘুরে শালবন বৌদ্ধবিহারে প্রবেশের পর ছবি তোলার প্রস্তাব করে ক্যামেরাটি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে ছিনতাইকারীরা। পরে দৌড়ে পালানোর সময় হাত থেকে ক্যামেরা পরে গেলে সেটা রেখেই তারা পালিয়ে যায়’।

শাহজাহান নামে এক আইসক্রিম বিক্রেতা বলেন, আগে এমন ছিলো না বছরখানেক ধরে এখানে ছিনতাই প্রবণতা বেড়ে গেছে। দূর দুরান্ত থেকে লোকজন আসে তাই কিছু বলতে সাহস পায় না। আবার কেউ সাহস করে বাধা দিতে গিয়ে লাঞ্ছিতও হচ্ছেন।

ময়নামতি জাদুঘরের কাস্টডিয়ান ড. আহমেদ আবদুল্লাহ জানান, প্রায়ই অনেক দর্শনার্থী তাদের কাছে ছিনতাই ও যৌন হয়রানিসহ নানা অভিযোগ করেন। তখন নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের অভিহিত করা হয়। তবে বৌদ্ধবিহারের পূর্ব ও উত্তর দিকের সীমানা প্রাচীর দিয়ে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকায় অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। যদি স্থানীয় ফাঁড়ি ও ট্যুরিস্ট পুলিশের নিয়মিত টহল ব্যবস্থা থাকতো তবে অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হতো।

ট্যুরিস্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন জানান, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি। ট্যুরিস্ট পুলিশের সদস্যরা এলাকাগুলোতে নিয়মিত কাজ করছ। ছিনতাইকারীদের চিনতে পারলে অবশ্যই আটক করা হবে।

আলোকিত প্রতিদিন/১৫সেপ্টেম্বর/আরএইচ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন