দৌলতপুরে দেড় মাসে ২৫০টি বসত বাড়ী উধাও

মানিকগঞ্জ সংবাদদাতা: মানিকগঞ্জে দৌলতপুর উপজেলায় জিয়নপুরসহ আবুডাঙ্গা, লাউতারা, জৈন্তা ও বৈন্যাসহ পাঁচটি গ্রাম কালীগঙ্গার তীব্র ভাঙনে ২৫০টি বসতবাড়ী বিলীন হয়ে গেছে। পদ্মা যমুনা ভাঙনের সাথে পাল্লা দিয়ে দেড় মাস যাবৎ কালীগঙ্গার ভাঙনে মানুষের চোখে ঘুম নেই। নতুন করে আমতলী সহ এসব গ্রামের ভাঙন যেন থামছে না। আবাদি জমিজমা, ঘর-বাড়ী হারিয়ে সর্বশান্ত হয়ে এলাকা ছাড়া হচ্ছে এখানকার মানুষ ।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১১ নং আবুডাঙ্গা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৮ নং লাউতারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পূর্ণ ভাঙনের কবলে। মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির ও খেলার মাঠ এখন হুমকির সম্মুখীন। ছোট ছোট কোমলমতি শিশুরা এখন আর স্কুলে যায় না।

স্কুল পড়ুয়া কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা হলে তারা বলেন, ভাঙনের ভয়ে আমরা এখন লেখাপড়ায় ঠিকমতো মনযোগী হতে পারছিনা। বাড়ি থেকে আস্তে আস্তে ঘরের জিনিসপত্র সড়িয়ে নিতে সাহায্য করছি।

ভাঙনের ক্ষতিগ্রস্থ বেশকয়েক জনের সাথে কথা হলে তারা বলেন, আমাদের ঘরবাড়ি, আবাদী জমি সব নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত কোন সরকারী সাহায্য সহোযোগীতা ও অনুদান নদী ভাঙন এলাকায় পৌছায়নি।

ভাঙনের বর্ণনা দিতে গিয়ে বৃদ্ধ আহাম্মদ আলী (৭০) বলেন, ভোর রাতে সাধারনত নদী শান্ত মনে হয়, তাই একটু চোখ বুজেছিলাম, হঠাৎ হৈচৈ শব্দ শুনে দেখি আম বাগান সহ বাঁশঝাড় নদীতে।

একই এলাকার আব্দুর রউফ বলেন, সর্বনাশা নদী আমার ৪৫ শতাংশ বড়ই বাগান ভেঙে আমাকে নিঃস্ব করে ফেলেছে। আমি এখন বড় অসহায় ।

এব্যাপারে জিয়নপুর ইউপি চেয়ারম্যান বেলায়েত হোসেন জানান, এসব নদী ভাঙন পরিবারের নাম ঠিকানা আমি উপজেলা প্রশাসনের কাছে অর্পণ করেছি এবং প্রশাসনকে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা পরির্দশন করে জরুরিভাবে ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাঁড়ানোর আহব্বান জানিয়েছি।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকায় ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আলোকিত প্রতিদিন/১২ সেপ্টেম্বর/আরএইচ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন