খালেদা জিয়াকে হত্যার হীন প্রচেষ্টা চলছে: ফখরুল

খালেদা জিয়াকে হত্যা করবার হীন প্রচেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে এবং আসন্ন নির্বাচন থেকে দুরে সরিয়ে রেখে একতরফাভাবে নির্বাচন করে নিজেদের নির্বাচিত ঘোষণা করবার নীল নকশা নিয়েই এই অপপ্রয়াস চালাচ্ছে সরকার। এই গণবিরোধী সরকার নিশ্চিত হয়েছে যে, বেগম খালেদা জিয়া মুক্ত হলে তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব বিপন্ন হবে। আগামী নির্বাচনে তাদের ভরাডুবি হতে বাধ্য। এটা এখন শুধুমাত্র আমাদের কথা নয়। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিনাক ভট্টাচার্য সম্প্রতি তার লেখায় বলেছেন, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের লজ্জাজনক পরাজয় ঘটবে। আর সেই কারণেই তারা আসন্ন নির্বাচনে খালেদা জিয়া যেন নেতৃত্ব দিতে না পারে এবং জনগণ যেন তাদের পছন্দমত প্রার্থীকে ভোট দিতে না পারে, সেই জন্যই তারা দেশনেত্রীর চিকিৎসার কোন ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে বেআইনিভাবে সাজা দেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, এত ভয় কেনো? কারণটা বুঝি না! উনারা তো সব সময় বলেন, উনারা গণতন্ত্রের পথেই চলছেন, সবচেয়ে বেশী উন্নত হচ্ছে, মানুষ তাদের সঙ্গে আছে। মানুষ সঙ্গে থাকলে ভোট ঠিকঠাক মত দেন না কেনো? অবাধ ও নিরপেক্ষ করেন। দেশনেত্রীকে মুক্তি দেন। আপনি যেমন ভোট চাচ্ছেন, দেশনেত্রীকেও জনগণের কাছে যেতে দেন। দেখেন কে কত ভোট পায়? ভয় পান কেনো? ভয় এজন্যই পাচ্ছেন, কারণ আপনারা জেনে গেছেন যে, জনগণ আপনাদের সাথে আর নেই।

গতকাল খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যবৃন্দ সাক্ষাত করেছেন উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের স্বজনেরা জানিয়েছেন যে, দেশনেত্রী অত্যন্ত অসুস্থ। তার বা হাত ও বাম পা প্রায় অবশ হয়ে গেছে। অসহ্য ব্যথা অনুভব করছেন তিনি। একই কথা তিনি বলেছেন ৫ তারিখে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরিত বেআইনি আদালত কক্ষে। আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন তার স্বাস্থ্য নিয়ে- বলেন তিনি।

অবিলম্বে বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করে বেগম জিয়াকে চিকিৎসা দেয়া তার জীবন রক্ষার জন্য অতি প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

সরকার বেগম জিয়াকে শাস্তি দেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে মন্তব্য করে মির্জা আলমগীর বলেন, আইন বহির্ভূতভাবে দেশনেত্রীর বিরুদ্ধে আনা এই মামলায় উচ্চতর আদালত জামিন দেয়ার পরও তাকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে না। সম্পূর্ণ মিথ্যা সন্ত্রাসী ও নাশকতার মামলায় তাকে জামিন দেয়া হচ্ছে না।

সরকারকে উদ্দেশ্য করে বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, অবিলম্বে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিয়ে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় সকল দায়-দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে। বিশেষ করে সংবিধান লঙ্ঘন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে তাদের অভিযুক্ত হতে হবে। কারা কর্তৃপক্ষকেও আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্তৃপক্ষ। আপনাদের দায়িত্ব সুস্পষ্টভাবে আইন ও বিধান দ্বারা পরিচালিত। এই দায় আপনাদেরকেও বহন করতে হবে। এই অবৈধ সরকার একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে দিয়ে বাংলাদেশকে একটি স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। এক ব্যক্তির স্বেচ্ছাচারিতায় দেশ চলছে। বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। জনগণ এদের পরিবর্তন চায়।

তিনি জানান, বেগম জিয়ার সঙ্গে দেখা করার জন্য আজ আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দেবো। কারণ তার সঙ্গে আমরা দেখা করতে চাই। এরপর আমরা তাকে চিকিৎসার জন্য দাবি জানাবো।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সাংগঠনিক সম্পাদক এমরান সালেহ প্রিন্স, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আলোকিত প্রতিদিন/৭সেপ্টেম্বর/আরএইচ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন