স্বল্পমূলধনী লোকসানি কোম্পানির শেয়ারে উত্থান, লাগাম টানার চেষ্টা

কারসাজি রুখতে সক্রিয় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। স্বল্পমূলধনী ও লোকসানি কোম্পানিগুলোর অস্বাভিক উত্থান রুখতে এরই মধ্য দুটি কোম্পানিকে তালিকাচ্যুত করেছে স্টক এক্সচেঞ্জ। তবুও থেমে নাই স্বল্পমূলধনী লোকসানি কোম্পানিগুলোর শেয়ার দরের উত্থান।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মের মধ্যে থেকেই কারসাজিতে সক্রিয় রয়েছে একটি চক্র। তাই হার্ডলাইনে থেকে কারসাজির সাথে সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ফলে দীর্ঘে মেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাজারের স্থিতিশীলতা।

অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আবু আহমেদ বলেন, লোকসানি হলেও স্বল্পমূলধনী কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর কম। তাই কারসাজি চক্রের সক্রিয়তায় কোম্পানিগুলো উৎপাদনে আছে কিনা তা যাচাই-বাছাই না করেই অধিক ঝুঁকি নিয়েই বিনিয়োগ করছে বিনিয়োগকারীরা। ফলে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার ইতিবাচক সিদ্ধান্তেও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তারা।

তিনি বলেন, বাজারকে শক্তিশালী করতে স্বল্পমূলধনী কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে দ্রুত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, পুঁজিবাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে তৎপর নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৮ জুলাই রহিমা ফুড ও মডার্ন ডাইং অ্যান্ড স্ক্রিন প্রিন্টিংকে তালিকাচ্যুত (ডিলিস্টিং) করে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

এরপর গত ৭ আগস্ট ১২ কোম্পানিকে কেন তালিকাচ্যুতি কারা হবে না জানতে চেয়ে নোটিশ দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। কোম্পানিগুলো হচ্ছে- মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, দুলামিয়া কটন স্পিনিং, সমতা লেদার, শ্যামপুর সুগার, জিল বাংলা সুগার, ইমাম বাটন ইন্ডাস্ট্রিজ, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক, কে অ্যান্ড কিউ (বাংলাদেশ), সাভার রিফ্রেক্টরিজ, বেক্সিমকো সেনথেটিক ও জুট স্পিনার্স।

কোম্পানিগুলো বিগত ৫ বছর বা এর বেশি সময় ধরে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেয় না। পাশাপাশি রয়েছে ব্যবসায়িক লোকসানে।

এদিকে, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর কারসাজি রুখতে গত ১৯ আগস্ট ৮ কোম্পানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বিএসইসি। এর মধ্যে পাঁচটি কোম্পানিকে স্পট মার্কেটে লেনদেনের নির্দেশ দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। পাশাপাশি তিনটি কোম্পানিটির শেয়ার ট্রেড সাসপেন্ড ও দুটি কোম্পানির বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

স্পটে স্থানান্তরিত হওয়া পাঁচ কোম্পানি হচ্ছে- মুন্নু সিরামিক, আজিজ পাইপ, স্টাইল ক্রাফট, ড্রাগন সোয়েটার এবং কে অ্যান্ড কিউ লিমিটেড।

ট্রেড সাসপেন্ড হওয়া কোম্পানিগুলো হলো- মুন্নু জুট স্টাফলার্স, বিডি অটোকার্স এবং লিগ্যাসি ফুটওয়্যার লিমিটেড। আগামী ৩০ কার্যদিবস এই কোম্পানিগুলোর লেনদেন বন্ধ থাকবে।

পাশাপাশি দুটি কোম্পানি- লিগ্যাসি ফুটওয়্যার এবং বিডি অটো কারসের অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন- বিএসইসির উপ-পরিচালক শামসুর রহমান এবং সরকারি পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত সপ্তাহে বাজারে দাপুটে অবস্থা থাকা পাঁচটি কোম্পানিই লোকসানি ও স্বল্পমূলধনী। যাদের ভবিষ্যৎও প্রশ্নবিদ্ধ। কিন্তু ধারাবাহিক দর বৃদ্ধিতে রেকর্ড গড়েছে কোম্পানিগুলো। কোম্পানিগুলো হচ্ছে- জুট স্পিনার্স, সাভার রিফ্র্যাক্টরিজ, দুলামিয়া কটন, সমতা লেদার ও কে অ্যান্ড কিউ।

সদ্য সমাপ্ত সপ্তাহে (২৬ -৩০ আগস্ট) কোম্পানিগুলোর মধ্যে জুট স্পিনার্সের দর বেড়েছে সর্বোচ্চ ২৯.৮৪ শতাংশ। এসময় সর্বনিম্ন দর বেড়েছে কে অ্যান্ড কিউ’র। কোম্পানিটির দর বেড়েছে ১৪.৬২ শতাংশ।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. সাইফুর রহমান মজুমদার বলেন, বাজারের দুর্বল কোম্পানিগুলোর অস্বাভিক উত্থান রুখতে সক্রিয় রয়েছে স্টক এক্সচেঞ্জ। পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থাও অনিয়ম প্রতিরোধে নিয়মিত কাজ করছে। সূত্র: পরিবর্তন.কম

আলোকিত প্রতিদিন/৩ সেপ্টেম্বর/আরএইচ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন