সৌদিতে গৃহকর্মী নির্যাতনের ঘটনায় বাংলাদেশ দূতাবাসের দুই কর্মচারী বরখাস্ত

সৌদি আরব ফেরত গৃহকর্মী রুনা লায়লাকে নির্যাতনের ঘটনার প্রেক্ষিতে রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের দুই কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রবিবার দূতাবাসের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিগত কয়েক দিনে বিভিন্ন জাতীয় ও অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত এ সংক্রান্ত খবর অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনায় নিয়ে দূতাবাস এ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। দূতাবাসের কিছু কর্মী এ ঘটনায় জড়িত থাকতে পারে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ইতিমধ্যে একটি উচ্চ-পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে অপসারণসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ বলেন, সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং যে কোন কর্মচারীর অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি প্রদর্শন করা হবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশী গৃহকর্মীদের জন্য দূতাবাসের গঠিত সেফ হাউস সিসি টিভি দ্বারা সার্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যে রাখা হয়। গৃহকর্মীদের সমস্যা সমাধানে দূতাবাস নিরলসভাবে কাজ করছে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সৌদি আরব ফেরত গৃহকর্মী রুনা লায়লা (২৪) ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় গত বুধবার রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। গৃহকর্মী রুনা লায়লা বলেন, সৌদি আরবে থাকাকালে বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার কাউন্সিলরের পিয়ন লোকমান, মেহেদী, গোলাম, ফরহাদ তাকে নানাভাবে নির্মম নির্যাতন করে। লোকমান তার সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে শারীরিক সম্পর্ক করে। তারা অসহায় গৃহকর্মীদের সাহায্যের নামে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে দেহ ব্যবসা করাতো। মামলায় বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মচারী লোকমান, মেহেদী হাসান, ফরহাদ ও গোলামকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে। যেহেতু গৃহকর্মী রুনা লায়লা আত্মহত্যার চেষ্টা করে অপরাধ করেছেন, সে কারণে তিনিও এই মামলার আসামি।

আলোকিত প্রতিদিন/৩ সেপ্টেম্বর/আরএইচ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন