লাববাইকা আল্লাহুম্মা লাববাইক- পবিত্র হজ্জ ও ইবাদতে মুসল্লি

জিলহজ মাসের ৭ থেকে ১২ তারিখ হজ্জের আনুষ্ঠানিকতায় পূর্ণ থাকে। তবে হজযাত্রীরা ৪০ থেকে ৫০ দিন সৌদি আরবে অবস্থান করেন। বাকি দিনগুলোও তাঁরা ইবাদত-বন্দেগি করে কাটান।

মক্কায় এসেই সবাই ওমরাহ করেন। অনেকে নিজের পর প্রিয়জনের নামেও ওমরাহ করেন। ওমরাহর নিয়ত করে কাবা শরিফ তাওয়াফের পর সাঈ করতে হয়। যাঁরা কুলিয়ে ওঠেন না, তাঁরা শুধু তাওয়াফ করে দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন। গতকাল শুক্রবার। পবিত্র হজ্জের আগে শেষ জুমা। আজ শনিবার হজ্জের অংশ হিসেবে মিনার উদ্দেশে রওনা হবেন মুসল্লিরা।

সূত্রে তথ্য; মক্কার পুলিশ প্রধান সাইয়েদ বিন সালেম আল কারনি জানিয়েছেন, হজে অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে মক্কার চারপাশে ১০৯টি চেক পয়েন্ট বসানো হয়েছে। হজ্জের বৈধ অনুমতিপত্র না থাকায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭৪৭ ব্যক্তিকে মক্কায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। হজ্জের সময় মক্কায় প্রবেশের অনুমতিপত্র না থাকায় ৮৫ হাজার ৯৬৫টি গাড়িকেও ফেরত পাঠানো হয়েছে।

সংখ্যার দিক থেকে এবার যথাক্রমে ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, ভারত, বাংলাদেশ, তুরস্ক, ইরান থেকে বেশি মুসল্লি পবিত্র হজ পালন করতে এসেছেন।

বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাফিজুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত ৩৪৮টি ফ্লাইটে ১ লাখ ২১ হাজার হজ্জযাত্রী সৌদি আরব এসে পৌঁছেছেন। এ পর্যন্ত ৪৪ জন বাংলাদেশি হজ্জযাত্রী ইন্তেকাল করেন। ২০ আগস্ট পবিত্র হজ পালিত হবে।

এবার হজ্জের খুতবা দেবেন নতুন শাইখ বিচারপতি হুসাইন : 
৯ জিলহজ (২০ আগস্ট) আরাফাতের ময়দানে মসজিদে নামিরাহ থেকে হজ্জের খুতবা দেওয়া হবে। প্রতিবছর বাংলাদেশ টেলিভিশন হজ্জের এ খুতবা সরাসরি সম্প্রচার করে। খুতবা প্রদান করবেন নতুন শাইখ বিচারপতি হুসাইন ইবনে আবদুল আজিজ ইবনে হাসান ইবনে আবদুল আজিজ ইবনে হুসাইন আল শেখ।

সৌদি আরবের প্রেস এজেন্সি এএসপি সূত্রে জানা যায়, হারামাইন আশ-শরিফাইনের খাদেম বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল-সৌদ এক রাজকীয় ফরমান জারির মাধ্যমে এ বছর আরাফাতের ময়দানে খতিব হিসেবে হুসাইন ইবনে আবদুল আজিজ ইবনে হাসান ইবনে আবদুল আজিজ ইবনে হুসাইন আল শেখকে নিয়োগ দেন।

শায়খ হুসাইন পবিত্র মসজিদে নববির ইমাম ও খতিব। তিনি মদিনার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতির দায়িত্বও পালন করছেন।
বিচারপতি শায়খ হুসাইন ইবনে আবদুল আজিজ ইবনে হাসান ইবনে আবদুল আজিজ ইবনে হুসাইন আল শেখ বনি তামিম গোত্রের শেখ মুহাম্মদ বিন আবদুল ওয়াহহাবের বংশধর।

ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার প্রতি মনোযোগী শায়খ হুসাইন প্রাথমিক শিক্ষা শেষে আশ-শারইয়া কলেজ থেকে স্টার মার্ক পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। উচ্চতর পড়াশোনায়ও তিনি প্রথম স্থান অর্জন করেন। শায়খ হুসাইন আলুশ শায়খ ইসলামিক আইনের ওপর গুরুত্বপূর্ণ গবেষণায় বেশ সুনাম অর্জন করেন। ইসলামি আইন শাস্ত্রের পাশাপাশি তিনি সমাজকর্মসহ আইন শাস্ত্রের ওপর উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে বিচারপতি শায়খ হুসাইন ১৪০৬ হিজরিতে মদিনার বিচার বিভাগীয় সহকারী হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৪১১ হিজরিতে তিনি নাজরানের হাইকোর্টে যোগ দেন। নাজরানে এক বছর থাকার পর ১৪১২ হিজরিতে মদিনার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি হিসেবে যোগ দেন তিনি। এখনো তিনি সেখানেই কর্মরত আছেন। বিচারপতি হওয়ার পর শায়খ হুসাইন আলুশ শায়খ ১৪১৮ হিজিরিতে মদিনার মসজিদে নববিতে ইমাম হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন। সৌদি আরবের বাদশাহ খাদেমুল হারামাইন আশ-শরিফাইন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল-সৌদ তাঁকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা করেন।

উল্লেখ্য যে, ১৯৮১ সাল থেকে সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মসজিদের খতিব ও আরাফার ময়দানের খতিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন দৃষ্টিহীন ইমাম শায়খ আবদুল আজিজ। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর তিনি বার্ধক্যজনিত কারণে অবসর গ্রহণ করেন। ২০১৬ সালে রাজকীয় ফরমানের মাধ্যমে নতুন খতিব হিসেবে মুফতি সালেহ বিন হুমাইদকে সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মসজিদের ইমাম ও খতিব নির্বাচিত করা হলেও তিনি হজের খুতবা দেননি। সে বছর প্রথমবারের মতো হজের খুতবা প্রদান করেন শায়খ আবদুর রহমান সুদাইস।

জমজমের পানি পানে প্রশান্তি : 
দুনিয়ায় আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের যত অনুপম নিদর্শন আছে, তার মধ্যে জমজম কূপকে অন্যতম বলা হয়। এ পানি স্বচ্ছ, উৎকৃষ্ট, পবিত্র ও বরকতময়। শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ থেকে আসা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘যতবার জমজমের পানি পান করি ততবারই প্রাণ ভরে যায়, মনে প্রশান্তি আসে।’

এ বছর হজ্জে যেতে পারছেন না ৬০৬ জন : 
নিবন্ধন করার পরও হজের ভিসার জন্য আবেদন না করায় এ বছর হজ্জে যেতে পারছেন না ৬০৬ জন। গুরুতর অসুস্থতা, মৃত্যু ও এজেন্সিগুলোর অনাগ্রহের কারণে এই হজ্জযাত্রীরা ভিসার জন্য আবেদন করেননি।

গত বুধবার রাজধানীর আশকোনার হজ্জ ক্যাম্পে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের শেষ হজ্জ ফ্লাইট উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী মতিউর রহমান এ তথ্য জানান। এবার বিমানের প্রাক হজ্জ ফ্লাইট বুধবার শেষ হয়েছে। সৌদি এয়ারলাইনসের প্রাক হজ্জ ফ্লাইট ১৭ আগস্ট শেষ হবে।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, হজ্জ এজেন্সিগুলোর অবহেলা আর অনাগ্রহের কারণে অনেকে যেতে পারলেন না। কিছু এজেন্সির বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হজ্জের পরে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী। তবে হজ্জ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, গত বছর ১ হাজার ৩০০ হজ্জযাত্রীর যাত্রা বাতিল হলেও এবার মাত্র ৬০৬ জন হজ্জে যেতে পারেননি। আর যাঁরা যেতে পারেননি, তাঁরা মূলত স্বেচ্ছায় ভিসা করতে দেননি।

হজ্জ এজেন্সিগুলোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হজযাত্রী প্রতিস্থাপনের সুযোগ ৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করে ধর্ম মন্ত্রণালয়। ধর্মমন্ত্রী জানান, শেষ পর্যন্ত ১০ হাজার ৯৪২ জন হজ্জযাত্রী প্রতিস্থাপনের আবেদনের বিপরীতে ১০ হাজার ৭৭৪ জনকে এ সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনিছুর রহমান, হজ্জ অফিসের পরিচালক সাইফুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় পূর্বের কথা : মক্কা থেকে মদিনায় যাওয়ার পথে শত্রুর হাত থেকে বাঁচতে হজরত আবু বকরকে (রা.) নিয়ে জাবালে সাওরে আশ্রয় নিয়েছিলেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। জাবাল মানে পাহাড়, সাওর অর্থ গুহা। তিন দিন তিন রাত তাঁরা এই গুহায় কাটিয়েছিলেন। শত্রুরা খুঁজতে খুঁজতে চলে এসেছিল গুহার খুব কাছ পর্যন্ত। কিন্তু গুহামুখে মাকড়সার জাল দেখে ফিরে যায় তারা। এই তথ্য আমাদের অনেকেরই জানা।

সেই জাবালে সাওর কাবা শরিফ থেকে প্রায় তিন মাইল দূরে। হজ্জযাত্রীরা এই পাহাড় দেখতে যাচ্ছেন। এখানে একটি বড় সাইনবোর্ডে পর্বতে উঠতে নিষেধ করা আছে। লেখা আছে, এই পর্বতে আরোহণ করার মধ্যে কোনো অতিরিক্ত সওয়াব বা মর্তবা নেই। তবে এই উপদেশ হাজার হাজার দর্শনার্থীকে দমাতে কার্যত ব্যর্থই হয়েছে বলা যায়। মক্কার হারাম এলাকার কাছেই জাবালে নূর বা হেরা পর্বত; বাংলায় নূরের পাহাড়। এই পর্বতে ওঠা-নামা যে কত কঠিন, তা যিনি ওঠেননি, তিনি বুঝবেন না। অথচ নবী করিম (সা.) এই পর্বতে ওঠা-নামা করেছেন নিয়মিত। জাবালে নূর পাহাড়ে উঠতে সময় লাগে ঘণ্টাখানেকের বেশি।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) যেখানে ধ্যান করতেন এবং পবিত্র কোরআনের আয়াত যেখানে নাজিল হয়েছে, সেসব জায়গা দেখতে যাচ্ছেন হজ্জযাত্রীরা। এই পাহাড়ে আনুমানিক ১৫০ মিটার পাকা রাস্তা করা হয়েছে। পাকা রাস্তার পর শুরু হয়েছে পাহাড় কেটে তৈরি সিঁড়ি। এখানে সাইনবোর্ডে লেখা আছে, জাবালে নূর বা গারে হেরার উচ্চতা ৫৬৫ মিটার। অর্থাৎ অর্ধকিলোমিটারের বেশি উচ্চতা। পাকা রাস্তা পর্যন্ত দুই পাশে দোকানপাট, বাড়িঘর গড়ে উঠেছে।

এ সিঁড়িপথটির কিছু দূর উঠে বসার জায়গা আছে। ভোলা সদর থেকে আসা এক হাজী জানালেন, ‘এ পথের বাঁকে বাঁকে ফকিরেরা শুয়ে-বসে ভিক্ষা চাইছেন। আরেক দল লোক আছেন, যাঁদের দেখলে মনে হবে তাঁরা রাজমিস্ত্রি। বালু, সিমেন্ট নিয়ে এমনভাবে অপেক্ষা করছেন, যেন আপনি সিঁড়ির ধাপটিতে ওঠার পর তিনি মেরামতের কাজ শুরু করবেন। কিন্তু এঁরাও মানুষের কাছে হাত পাতেন।’

চলার পথে পানি, চা, ঠান্ডা পানীয় বিক্রি হচ্ছে। চায়ের দোকান ও বিশ্রামকেন্দ্রগুলো মূলত পাকিস্তানিদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত। পথের ধারে অসংখ্য খালি পানির বোতল ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে।

ভোলা চরফ্যশন থেকে অপর এক হাজী জানালেন, ‘পাহাড়ে উঠতে উঠতে মনে হচ্ছিল, যখন কোনো রাস্তাঘাট ছিল না তখন কেমন করে নবীজি (সা.) দীর্ঘদিন এ পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত গুহায় যাতায়াত করেছেন। খাদিজা (রা.)-ই বা কেমন করে নবীজি (সা.)-এর জন্য এখানে খাবার দিয়ে যেতেন?’

হজযাত্রীরা আরও যেসব জায়গা ঘুরে ঘুরে দেখছেন, সেগুলো হলো জান্নাতুল মাওলা কবরস্থান, মসজিদে জিন। জান্নাতুল মওলা মসজিদুল হারামের পূর্ব দিকে। মক্কার বিখ্যাত কবরস্থান। এখানে কোনো কবর বাঁধানো নেই, কবরে কোনো নামফলকও নেই। কবরস্থানে কর্মরত একজন বললেন, এই কবরস্থানে রয়েছে বিবি খাদিজা (রা.)-এর কবর। হজ্জ করতে এসে কেউ মারা গেলে আগে এখানে কবর দেওয়া হতো। স্থানসংকুলান না হওয়ায় এখন শারায়া কবরস্থানে (হাজিদের কবরস্থান) দাফন করা হয়।

জান্নাতুল মাওলা কবরস্থানের কাছে মসজিদে জিন। সহিহ হাদিস থেকে জানা যায়, জিনেরা এখানে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে একাধিকবার এসেছেন। মসজিদটি বেশ সুন্দর। হজ্জযাত্রীরা এখানে নামাজ আদায় করেন। মক্কা উম্মুল জুদ এলাকায় কাবার গিলাফ তৈরির কারখানা। সেখানে অনেক বাংলাদেশিও কাজ করেন। এখানে পবিত্র কাবা শরিফের পুরোনো গিলাফ দেখার ব্যবস্থা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগ পর্যন্ত চলবে এই ভ্রমণ।

আরব সংবাদ দাতার বিশেষ সংবাদ সূত্রে : 
আল্লাহর মেহমান হিসাবে পবিত্র হজ্জব্রত পালন করার জন্য লাখ লাখ মুসলমান পবিত্র ভূমিতে সমবেত হয়েছেন। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তারা ছুটে এসেছেন পবিত্র কাবাঘর তাওয়াফ ও হজ্জের অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে গত বৃহস্পতিবার তারা সবাই সমবেত হয়েছে আরাফাতের ময়দানে সৌদি কর্তৃপক্ষ হজ্জযাত্রীরা যাতে সুষ্ঠুভাবে হজ্জব্রত পালন করতে পারেন সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। হজ্জ করতে ৩০ লাখের বেশি মুসলমান এখানে জমায়েত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০ লাখ এসেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আর বাকি ১০ লাখ হচ্ছে সৌদী নাগরিক।

মদিনা ও অন্যান্য স্থান থেকে দলে দলে হাজীরা মক্কা ও মিনায় আসছেন। তাদের মুখে উচ্চারিত হচ্ছে লাববাইকা আল্লাহুম্মা লাববাইক আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির।

দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম বাদশাহ আবদুল্লাহ আল্লাহর মেহমানদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের সেবা দিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জেদ্দায় অবস্থান করে সবকিছু তত্ত্বাবধান করছেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র খালেদ মিরগালানি বলেন, হজ্জযাত্রীদের চিকিৎসাসেবা দিতে ১৪টি হাসপাতালকে প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। এসব হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা হচ্ছে ৫ হাজার ২শ’। এছাড়াও পবিত্র স্থানসমূহ অবস্থিত ১৪১টি ক্লিনিককেও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সার্বক্ষণিক সেবা দিতে ১৭৫টির বেশি এ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পবিত্র হজ্জের সময় সৌদি রেড ক্রিসেন্ট কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা প্রদান ও হাসপাতালকে পরিবহন সুবিধাদানের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এ বছর রেড ক্রিসেন্ট মক্কা মদিনা, মিনা ও অন্যান্য পবিত্র স্থানে ১ হাজার ৬০ জন স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ করেছে। বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ মিনার জামরাত সেতুর কাছে গত সোমবার গ্যাস নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ কিভাবে করতে হবে তার মহড়া দিয়েছে। হজ্জের চূড়ান্ত দিনগুলোতে এখানে শয়তানের প্রতি ঢিল ছোঁড়ার আনুষ্ঠানিকতা পালনের জন্য প্রচন্ড ভিড় হয়।

বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের বিশেষ হস্তক্ষেপ বাহিনীর কমান্ডার লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল গামাদি বলেন, এই মহড়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে সম্ভাব্য বিষাক্ত গ্যাস নিঃসরণ পরিস্থিতি মোকাবিলা আমাদের বাহিনী যে সর্বোচ্চ মাত্রার প্রস্তুতি আছে তা প্রদর্শন করা।

ইসলামের ৫ম স্তম্ভ পবিত্র হজ্জ পালনের সুযোগ পাওয়ার জন্য বিদেশী হজ্জযাত্রীরা খুবই আনন্দিত। বুরকিনা ফাসোর ব্যবসায়ী ৩২ বছর বয়সী কোয়ারা আবদুল রহমান বলেন, আমার জীবনে এই প্রথম বারের মতো হজ্জব্রত পালন করার উদ্দেশ্য পবিত্র নগরী মক্কায় এসেছি। আরাফাতের জন্য আমার আর তর সইছে না। পবিত্র কাবা ঘরকে ঘিরে হাজার হাজার মানুষ তাওয়াফ করছেন এবং এর ভেতরে রক্ষিত হাজার আসওয়াদে চুম্বন করতে ভিড় ঠেলে নিজেদের পথ করে নিচ্ছে। এখন এই মুহূর্তে আমার এত ভাল লাগছে যে আপনি তা চিন্তাও করতে পারবেন না।

এ বছর বাদশাহ আব্দুল্লাহর মেহমান হিসাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ১ হাজার ৪শ’র বেশি নেতা হজ্জ করতে এসেছেন চীন, রাশিয়া, কম্বোডিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম, টোগো, বতসোয়ানা, বুরুন্ডি ও লাইবেরিয়া থেকে তারা আসেন।

গত রোববার মক্কা ও মিনায় ভারি, বৃষ্টি হয়েছে। বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানায় ভারত ও মিয়ানমার থেকে আগত হজ্জযাত্রীদের আবাস্থল একটি ভবনে আগুন লাগলে ১৩ জন সামান্য আহত হন। আগে হজ্জের সময় বন্যায়, পদদলিত হয়ে ও অগ্নিকান্ডে অনেক মানুষ হতাহত হতো। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ ধরনের ঘটনা প্রায় ঘটছেই না বলা চলে। এর কারণ হচ্ছে সৌদি সরকার প্রতিবছর শত শত কোটি ডলারের বিশাল বিশাল প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

এ বছর দেড়শ’ কোটি সৌদি রিয়াল ব্যয় সাপেক্ষ কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মক্কা, আজিজিয়া ও শাবায়েন থেকে হজ্জযাত্রীদের দ্রুত জামায়াত সেতু পর্যন্ত যেতে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন পানি ও বিদ্যুৎ বিষয় মন্ত্রণালয় জানায়, পবিত্র স্থানসমূহে প্রতিদিন ৬ লাখ ঘনমিটার পানি সরবরাহ করা শুরু হয়েছে। মক্কায় ৩৮টি ও অন্যান্য পবিত্র স্থানে ২৭টি পানির ট্যাংক রয়েছে। এগুলোর মোট ধারণ ক্ষমতা রয়েছে ২৫ লাখ ঘনমিটার।

হজ্জব্রত পালন করতে আসা লোকদের হজ্জ সংক্রান্ত ব্যাপারে সচেতন করে তুলতে সামাজিক মিডিয়া নেই ওয়ার্কগুলোকে কাজে লাগানোর জন্য আহবান জানানো হয়েছে। হজ্জ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে এ আহবানের জানানো হয়। প্রিন্সেস নূরাহ ইউনিভার্সিটির নাজাহ্ আল কুবান বলেন, হজ্জ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি ও ইসলামের বাণী প্রচারে আমাদের সামাজিক মিডিয়া নেটওয়ার্কে ফলপ্রসূভাবে কাজে লাগাতে হবে।

(তথ্য সংগ্রহ: চৌধুরী এস আলম)

আলোকিত প্রতিদিন/১৮আগস্ট/আরএইচ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন