স্পেনে বসবাসরত সিলেটবাসীর সমুদ্র ভ্রমন ও বনভোজন অনুষ্ঠিত

কবির আল মাহমুদ, মাদ্রিদ, স্পেন: আনন্দ উৎসব সহযোগে স্পেনের মাদ্রিদ ও এর আশপাশ শহরে বসবাসরত সিলেটবাসীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সমুদ্র ভ্রমণ ও বনভোজন।গ্রেটার সিলেট শাহজালাল অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে গতকাল সোমবার (১৩ আগস্ট) স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া সমুদ্র সৈকতে এ বনভোজন অনুষ্ঠিত হয়।স্পেনে প্রবাসী সিলেটবাসী ও তাদের পরিবারের প্রায় ৮ শতাধিক সদস্যদের প্রাণবন্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এটি বড় ধরনের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

অংশগ্রহণকারীরা মাদ্রিদের গ্লরিয়েতা এম্বাখাদোরেসে সমবেত হয়ে সকাল ৭ টায় ৬টি বাস যোগে রওনা হয়েযোগে রওনা দিয়ে প্রায় ৪ ঘণ্টা পর অংশগ্রহণকারীরা ৩৫৫ কিলোমিটার দূরের গন্তব্যস্থলে পৌঁছান। যাত্রার শুরুতে সকলকে শুভেচ্ছা ও স্বাগত জানান গ্রেটার সিলেট শাহজালাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ লুৎফুর রহমান। তিনি তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে অংশগ্রহণকারী সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রবাসী সিলেটবাসীর মধ্যে সেতু বন্ধনের উদ্দেশ্যে এই আয়োজন।তিনি প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের কৃষ্টি সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় করানোর গুরুত্বারোপ করে দেশ ও প্রবাসে দেশের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য আহ্বান জানান।

প্রবাসে ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি দূর করে প্রশান্তি নিতে এই সমুদ্র ভ্রমণ ও বনভোজনে উপস্থিত হয়েছিলেন দলমত-নির্বিশেষে অনেক প্রবাসী।

গ্রেটার সিলেট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক ইসলাম উদ্দিন পংকির সঞ্চালনায় যাদের সরব উপস্থিতিতে এই মিলন মেলা মুখরিত হয়ে ওঠে, তারা হলেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি আল মামুন, সাবেক সাধারন সম্পাদক কামরুজ্জামান সুন্দর, কমিউনিটি নেতা মাওলানা আসাদুজ্জামান রাজ্জাক, শেখ আব্দুর রহমান, বদরুল ইসলাম মাষ্টার, আব্দুল মুজাক্কির ,এনাম আহমদ, মোঃ জামান ,নাজু ইসলাম, শিপার আহমদ, আব্দুল হামিদ সঞ্জু মিয়া, ছানুর মিয়া সাদ, আবু জাফর রাসেল, হুমায়ূন কবির রিগ্যান, জেন্স শিপার আসাদ আলী প্রমুখ।

কর্ম ব্যাস্ততার কারণে একে অপরের সাথে দেখা হয়না দির্ঘদিনেও। তাই সবার মধ্যে মেল বন্দন স্থাপন এবং পারিবারিক সম্পৃতি বজায় রাখতে প্রতি বছর বার্ষিক বনভোজনের আয়োজন করে গ্রেটার সিলেট শাহজালাল অ্যাসোসিয়েশন। এতে নারী ও শিশুদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অংশগ্রহণকারীরা সমুদ্র সৈকতে দুপুরের খাবার খান। হরেক পদের মুখরোচক বাংলা খাবার খেয়ে সবাই তৃপ্তির ঢেকুর তোলেন।

খাওয়া শেষে তারা লবণাক্ত পানিতে সাঁতার কেটে, হই হুল্লোড়, হ্যান্ডবল খেলা, ফুটবল,হাডুডুডু ,মহিলাদের বালিশ খেলা ,হাঁড়ি ভাঙা ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সময় কাটান। ফুটবল খেলা হয় বালুতে। দিনব্যাপী সমুদ্র সৈকত ভ্রমণ ও বনভোজনের আনন্দ উপভোগ করতে করতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। প্রবাসীরা যখন সুখের দোলায় মনোরম ওই স্থান ত্যাগ করেন তখন সূর্য প্রায় হেলে পড়েছে সাগর পাড়ে। ফেরার সময় অংশগ্রহণকারীরা নিয়ম-শৃঙ্খলার ভূয়সী প্রশংসা করে আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।

আলোকিত প্রতিদিন/১৪আগস্ট/আরএইচ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন