মানুষ কোনো বহুগামী হয় ?

চৌধুরী আলম: গতকাল পড়ন্ত বিকেলে, কোনো নেশায় যখন ঘোরে ড়ুবতে পারেনি। ঠিক তখন মদের নেশাটাও বাড়ছিল মনের অজান্তে একাকী বিরহে। সর্ববিষয়ের উপর সঙ্গিনীও ছিল আকর্ষণীয়, তবে পূর্বের ঝুল বারান্দায় নয়৷ তাই হাসিঠাট্টার একপর্যায়ে চোখেরস দীর্ঘ চুমুতে এই রূপ নেয়, যার চূড়ান্ত এক পরিণতি ঘটে অনাকাঙ্ক্ষিত রঙ্গীন বিছানায়। চৌধুরী প্রায় সময় এভাবে বিভিন্ন রমনীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান ঠিক বুঝে ওঠার পূর্বে। এটা কোনো সমস্যা হতো না চৌধুরীর, যদি সে বিবাহিত হতেন। চৌধুরী প্রায় সময় মনে করেন, তাঁর এই যৌনাকাঙ্খা স্বাভাবিক ব্যাপার৷ তবে স্ত্রী না থাকা সত্ত্বেও এমনটা করা ঠিক নয়।

একটি প্রাইভেট কোম্পানির এক তৃতীয়াংশ জনবল তাঁর কাছে প্রতারণার অভিযোগ নিয়ে আসেন । — একটি দম্পতি বা যুগলের যে কোনো একজন অন্য একজনের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন, এ অভিযোগই বেশি। আর অনেক যুগলের কাছেই অভিযোগ হলো, যৌন জীবনে সৎ থাকা। মানে একগামিতা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার বলে মনে করেণ চৌধুরী সাহেব। এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমি সবসময় এমন মানুষের মুখোমুখি হই যাই, যে সকল লোকে বলেন, তাঁরা কোনোদিনই প্রতারণা করবেন না বলে প্রমানিত করতে ইচ্ছে প্রকাশ করেণ এবং তাঁদের সঙ্গী বা সঙ্গিনী এসব প্রতারণায় শিকার হন, তাহলে তাঁকে কখনো ক্ষমা করবেন না অবকাশ করেণ।”

চৌধুরী সাহেব বলেন, ‘‘প্রায়ই দেখা যায়, তাঁদের মাঝে অনেকে এসে নতজানু হয়ে বসেন, কেননা, তাঁরা সত্যিকার অর্থে যৌন জীবনের সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সঙ্গে প্রতারণায় শিকার করেছেন।”

অগনিত মানুষ, বিশেষ করে এই সমাজের তরুণ প্রজন্ম, একগামিতার বিষয়টি নিয়ে মোটেও বিভ্রান্ত নয়, কারণ এসব তরুন নিজ থেকেই একগামিতা করে থাকেণ। এ সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটাই কি তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিনা তা নিয়ে সন্দিহান থাকে সামাজিক মুখো‍ঁশ দাড়ি ভদ্র লোকের মনে। আবার কারো কারো মতে, একগামিতা আসলে পূর্বের ব্যাপার, যা শীঘ্রই আমাদের বর্তমান সমাজ থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যাবে যাবে না বলেও মনে করেণ চৌধুরী সাহেব।

প্রাইভেট কোম্পানির ম্যডাম মনে করেন, একগামিতা হচ্ছে শুধু মাত্র পুরুষের আবিষ্কৃত। কখনো কখনো এ ধারণার মুখপাত্র হয় বিভিন্ন প্রশ্ন, যাকে সাংস্কৃতিক অর্জন বলেন অনেকে, বলাও যেতে পারে বলে মন্তব্যে ফুটে ওঠে। কিন্তু, এটা এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারও বলে কখনো মনে করেণ আবার করেণ না চৌধুরী।

অমল নাথ রায় চৌধুরী প্রায়সময় নেশাগ্রস্ত অবস্থায় অন্য রমনীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়েন। তিনি স্ত্রী ছাড়া অন্য কোনো রমনীর সঙ্গে একবারের বেশি সহমতে-সহবাস কখনো করেন না। যেসব সাময়িক সম্পর্কে কোনো ধরনের ঘনিষ্ঠতা চান না। তার মাঝে প্রথমতো হলো লিলাখেলা বা সহবাস। সম্ভবত-ভাবে চৌধুরীর শরীর কোনো এক ভাবে ক্লান্ত দূর করার সময় তার কুশল গরম রসের “অক্সিটকিন হরমোন’র” নিঃসরণ বন্ধ রাখতে পারে। এই হরমোন গুলো মানুষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়াতে অবশ্যই ভূমিকা রাখে। একমাত্র মা যখন তাঁর সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ান, তখন তাঁর শরীরে এই হরমোন ভাসতে থাকে। ফলে মা এবং সন্তানের মধ্যকার সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর হয়।

বিষয় হলো এই হরমোনের উপস্থিতির কারণে সাময়িক যৌনসম্পর্কও ভিন্ন রূপ নিতে পারে। যেমন,যে কোনো একজন সঙ্গী বা সঙ্গিনী অপরজনের প্রতি ঘনিষ্ঠতা অনুভব করতে শুরু করবে। অনেক যুগল এই ঝুঁকি এড়াতে একগামী হয়ে। সম্পর্কের বাইরে গিয়ে অন্য কোনো সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়াবেন না। রাণী কল্যানিও নিজের অতীতকে পেছনে ফেলে এখকার সময় একগামী সম্পর্কে রয়েছেন বলে মনে করেণ চৌধুরী সাহেব। তিনি তাঁর ছেলেবন্ধুকে মনে করেন একজন রক্ষণশীল ব্যক্তি। যৌন জীবনটা রাণী কল্যানির মতো উপভোগ করতে পারে না বা কখনো চায় না।

রাণী কল্যানি বলেন, ‘‘যে কোনো পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক করা আর না করা নিয়ে আমার এখনও কোনো প্রকার আক্ষেপ নেই। কিন্তু, আমি অতীতের সেই উত্তেজনা বোধ স্থায়ী ভাবে আমার মাঝে মিস করি।”

রাণী কল্যানি, তাঁর ছেলেবন্ধু যে সময় আরো উদার হবেন এবং যৌনমিলনের ব্যাপারটি তারা শুধু বেডরুমেই সীমাবদ্ধ রাখবেন না কখনোও। রাণী কল্যানির জন্য সেটা বহু উত্তেজনাকর ব্যাপার হবে বটে। যদি তাঁর ছেলেবন্ধু সেটা না করেন, তাহলে কী হবে ভাবতে থাকেন?

প্রাইভেট কোম্পানিক অধিনস্ত অফিসারের কাছে আরো এক ধরনের ক্লায়েন্ট আসেন, সে সকল যৌনচাহিদা তাঁদের সঙ্গী বা সঙ্গিনী পূরণ করতে পারেন না। অনেক সময় দেখা যায়, উভয়ের চাহিদা ভিন্ন কিংবা একজনের চাহিদা অন্যজনের পছন্দ মোতাবেক নয়। সেসব ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এ সম্পর্কটা একসময় এমন এক পর্যায়ে চলে আসে যে, উভয়ের কেউ না কেউ নিজের চাহিদা পূরণে জন্য অন্য কারো সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান, এবং প্রতারণা তাঁদের কাছে অস্বাভাবিক কিছু বলে কখনো মনে হয় না। শুধু চাহিদা মিটানোই হলো মূল লক্ষভেদ।

অধিনস্ত অফিসার আরো মনে করেন, যৌনতা নিয়ে এমন কোনো ভাবে একক সমাধান আছে বলে মনে হয় না। যা সব ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য হতে পারে বলে মনে করেণ। কিছু ব্যক্তি এই সমস্যার সমাধানে খুঁজতে তাঁদের সম্পর্কটা কে উন্মুক্ত করে দেন আপাম জনতার দৃষ্টিতে। যেমন, যৌন জীবনে একগামী থাকার ব্যাপারটি তখন একেবারে বাদ দিয়ে দেন। রাণী কল্যানি এবং তাঁর ছেলেবন্ধু ঠিক এই ভাবে কাজটি করেছেন৷

ব্যক্তিবর্গ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, নিজেদের সম্পর্কের বাইরে সাময়িক সময়ের জন্য যৌন সম্পর্ক গড়বে। এ ক্ষেত্রে তাঁরা একে অপরকে কখনো-ই বাঁধা দেবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করেন। রাণী কল্যানি অবশ্য জানেন, যে এভাবে-ই পরীক্ষা তাঁরা করেন, সেটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং এ পরিক্ষ কোনো মজের ব্যাপারও নয়। তিনি বলেন, ‘‘সবসময় আমার কাছে উন্মুক্ত সম্পর্কের অর্থ এই নয় যে, আমি যা খুশি তা-ই করবো৷”

তাঁদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আর কোনো সীমান্ত থাকে না, তাঁদের নিজের কৃতকর্মের জন্য দায় নিতে হয়। তিনি এমন কিছু করতে পারেন না, তাঁর নিজের এবং তাঁদের সম্পর্কের জন্য কিছু অংশ বিশিষ্ট ক্ষতিকর হতে পারে।

এক্ষেত্রে পরকীয়াও একটি সম্পর্ককে দ্বার উন্মুক্ত করে। সেক্ষেত্রে এভাবে তাদের প্রতারণা হয়। তাদের সঙ্গী বা সঙ্গিনী বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে চান না বলেই আজও তা হয় না প্রকাশ্যে।

‘‘পরকীয়া এমন বিষয় উন্মুক্ত সম্পর্ক যা-ই হোক না কেন, উভয় ব্যক্তির মধ্যে তা সংকট ও সিমাবদ্ধতা তৈরি করতে পারে। আবার, এই সংকটের কারণে-ই একটি সম্পর্ক পরিপূর্ণ বৃদ্ধি পেতে পারে,” বলে মনে করেন অফিসার চৌধুরী সাহেব।

আমাদের বর্তমান সমাজে এ একগামিতাই একমাত্র “অর্থবহ সম্পর্কের ধারণা করেন এবং তা সময়ের ব্যবধানে প্রকাশ পায় নয়ত পায় না”

অমল নাথ রায় চৌধুরী হলেন একজন সেক্স থেরাপিস্ট ও রাণী কল্যানি হলেন তার রূগী। অমল নাথ রায় চৌধুরীর কথায় মনে হয়, ‘‘এ একগামিতাই সম্পর্কের একমাত্র অর্থবহ যেমন করে ধারণা যায় না, আবার একগামিতার ধারণায় ব্যর্থও হয়নি।” জীবনের নানান প্রতিফলনের মাঝে ফলে একটি সন্ধীহান, কোন ভাবে এ সম্পর্ক গড়াবেন না, সেটা হতে পারে দিনের শেষে বা রাতের আঁধারে। সময়ের প্রতিচ্ছবিতে তাঁদেরকেই নির্ধারণ করতে হবে, অবশ্য অন্য কেউ সেটা কখনো সঠিক ভাবে প্রকাশ করে দিতে পারবে না।

‘‘বিষয় হলো, যৌনতা অবশ্যই একক ও একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার,” বলেন বিশ্বাষ করেন তার চলতি জীবন দশায় বিভিন্নস্থরে প্রবেশ ও গভেষনার মাধ্যমে অমল নাথ রায় চৌধুরী।

আলোকিত প্রতিদিন/১০আগস্ট/আরএইচ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন