বাড়ছে শিক্ষিতদের হার, বাড়ছে বেকারত্ব, বাড়ছে প্রতারনা: হুমকির মুখে যুব সমাজ!

রাসেল হোসাইন: প্রতি বছর লাখো লাখো শিক্ষার্থী তাদের স্নাতক, সমমান শেষ করে ভাল ফলাফল নিয়ে দেশের শিক্ষিতদের হার দিন দিন বাড়িয়ে তুলছে। কিন্তু দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে আসা এসকল শিক্ষিত যুবসমাজের জন্য তৈরি হচ্ছে না পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান।

এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু নরপিশাচ পত্রিকাতে বিভিন্ন লোভনীয় বেতনে চাকরির ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারন বেকার শিক্ষিত যুবসমাজের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

ভুক্তভোগীদের তথ্য মতে, প্রতিদিন পত্রিকাতে শত শত চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হচ্ছে। সেই অনুযায়ী যদি চাকরি হতো, তাহলে দেশে বেকারত্বের পরিমান এতো বেশি হতো না। আর, পত্রিকা ও অনলাইনের মাধ্যমে যেসকল চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়, তার কয়েকটি বাদে বেশির ভাগই ভুয়া।

এসকল বিজ্ঞপ্তিতে ভাল বেতন সহ নানা রকম সুবিধার কথা উল্লেখ থাকে। কিন্তু সেখানে সিভি পাঠানোর পর ঐ কোম্পানীর কোন একজন কর্মী ফোন দিয়ে চাকরি হয়ে গেছে তাই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পাঠানোর ফি বাবদ হাজার বারশো টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠাতে বলে। আবার, অনেক কোম্পানী আছে, যারা কাজ না জানার কথা বলে কাজ শেখানো বাবদ পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা দাবী করে।

ভোলা থেকে আগত হেমায়েত নামে এইচ.এস.সি পাশ একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘‘আমি গ্রাম থেকে ঢাকা এসেছি, ঢাকায় কোন একটি বিশ্ব বিদ্যালয়ে ভর্তী হবো এবং পাশাপাশি ছোট একটা চাকরি করবো। পত্রিকায় একটি বাইং হাউজের চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞোপ্তি দেখে সরাসরি সিভি নিয়ে তাদের অফিসে যোগাযোগ করি। আমার কাজের কোন পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকায় তারা আমাকে এক মাসের ট্রেনিং দিবে এজন্য পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে ভর্তী হতে বলে। আমি টাকা নিয়ে আসি নাই বললে, আমাকে দুই দিন পরে এসে ভর্তী হতে বলে এবং এক মাস ট্রেনিং এর পরে আমাকে নিয়োগ দেওয়া হবে। বেতন সতেরো হাজার টাকা এবং থাকা খাওয়া কোম্পানী বহন করবে।

দুই দিন পর সময় মত আমি পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে ভর্তী হলাম। আমাকে সাত দিন পরে আসতে বলা হলো, আরও অনেকে ভর্তী হয়েছে তাদের সবাইকে এক সাথে নিয়ে ট্রেনিং শুরু হবে।

সাত দিন পরে ঐ অফিসে গেলে ঐ লোককে আর পাই না, ফোনও বন্ধ। আশে পাশের লোকদের জিজ্ঞেস করলে কেউ তাকে চেনে না।”

সিহাব নামের আর এক যুবক বলেন, আমি পত্রিকায় সিম কোম্পানীর টাওয়ারের কাজের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে তাদের ই-মেইলে আমার সিভি পাঠাই। কিছুদিন পরে ঐ সিম কোম্পানীর পরিচয় দিয়ে একজন ফোন করে বলে, আপনিতো টাওয়ারের কাজের জন্য সিভি পাঠিয়েছিলেন। আপনার চাকরি কনফার্ম হয়ে গেছে। এখন কোম্পানীর নিতী মোতাবেক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পাঠানোর জন্য ফি বাবদ আপনাকে বিকাশের মাধ্যমে বারশো টাকা পাঠাতে হবে। আমি তাদের অফিসে গিয়ে টাকা দিতে চাইলে বলে, ডিজিটাল যুগে আপনি কষ্ট করে গুলসান পর্যন্ত আসবেন কি করতে?

অবশেষে কিছু প্রশ্ন রয়ে গেল, এভাবে প্রতারনার স্বিকার হয়ে শিক্ষিত যুব সমাজের মধ্যে কেউ কি পথভ্রষ্ঠ হচ্ছে না? যদি কেউ পথভ্রষ্ঠ হয়েই থাকে, তাহলে কি হবে আমাদের শিক্ষিত যুব সমাজের? কি হবে আগামি প্রজন্মের? কি হবে বাংলাদেশের? তা আমাদের সকলেরই ভেবে দেখা উচিৎ।

আলোকিত প্রতিদিন/২৪মে/আরএইচ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন