এ জাতির ভবিষ্যৎ কী ? -ইসমাইল হোসেন

আফ্রিকার সবচেয়ে বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ইউনিভার্সিটি অব সাউথ আফ্রিকা। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান  ফটকে লেখা আছে- একটি জাতি বা দেশকে ধ্বংস করতে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করার প্রয়োজন নেই। সেই জাতির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় প্রতারণার সুযোগ দিলেই হবে। প্রতারণা করে পাস করা ডাক্তারের হাতে রোগী মারা যাবে, এই শিক্ষার্থী যদি ইঞ্জিনিয়ার হয় তাহলে তার তৈরি করা ইমারত ধ্বসে পড়বে। এই শিক্ষার্থী যদি অর্থনীতিবিদ হয় তাহলে সেই দেশের অর্থনীতি দেউলিয়া হয়ে যাবে। এই শিক্ষার্থী যদি ব্যবসায়ী হয় তাহলে সে ব্যবসায় ভেজাল ঢুকাবে। এভাবেই একটি জাতি অবলুপ্তী হয়ে যাবে। সেই আলোকে বলতে হয় এ জাতির ভবিষ্যৎ কী? কোমলমতি শিশুদের নিয়ে অনুষ্ঠিত পিইসি পরীক্ষা থেকে শুরু করে জেএসসি, এসএসসি, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি, মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষাসহ যাবতীয় পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। এটা কিসের আলামত? জাতি আজ কোন দিকে ধাবিত হচ্ছে তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। শিক্ষার্থীরা এখন স্মার্ট হওয়ার নামে স্মার্টফোন দিয়ে প্রশ্ন খোঁজে। পরীক্ষার আগের রাতে যে ছেলেটি/মেয়েটির পড়তে বসার কথা সে এখন স্মার্টফোন নিয়ে ফেসবুকে বসে ফাঁস হওয়া প্রশ্ন পাওয়ার আশায়।

কিছু দিন আগে মুহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের লেখা একটি কলাম পড়ছিলাম। তিনি বলছিলেন কতটা গোপনীয়তার সাথে পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি হয়। যেখানে প্রশ্নপত্র তৈরি হয় সেখানকার মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়া হয়। যারা প্রশ্নপত্র ছাপায় তাদেরকে ঠিক সেখানেই আটকে রাখা হয়। শুধু তাই নয় যে লকারে করে প্রশ্ন সারাদেশে পাঠানো হয় তার সিগন্যাল থাকে বোর্ডে। এতো কিছুর পরও কীভাবে প্রশ্ন ফাঁস হয়? আমার বুঝে আসে না। নাকি এটা জাতি ধ্বংস করার সূ² ষড়যন্ত্র?

বেশ কিছু দিন থেকে আমরা বিভিন্ন মিডিয়াতে বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ এর মাধ্যমে দেখেছি যে একজন জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থী জিপিএ এর পূর্ণরূপ বলতে পারে না। তাদের ক্লাসের কোনো একটি কবিতার কথা বললে বলে এখন তাদের সৃজনশীল প্রশ্ন হয় কবিতা পড়া লাগে না। সিলেবাস ও পরীক্ষা পদ্ধতির কারণে শিক্ষার্থীরা এখন এমনিতে পড়ালেখা করে না। তার উপর আবার প্রশ্ন ফাঁস! প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার ফলে একদিকে যেমন জাতির মেরুদন্ড দূর্বল হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে কিছু অসাধু লোক হাতিয়ে নিচ্ছে অবৈধ অর্থ। আর সেটাই ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন মহলের দায়িত্বশীলরা বলছেন ‘প্রশ্ন ফাঁস আগেও হতো এখনও হয় তবে সেটার পরিমাণ বিস্তৃত হয়েছে’। তিনি অবলীলায় স্বীকার করলেন প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি। যেন এ কোনো ব্যাপারি না। এটা অহরহই হয়। কিন্তু এটা যে মহামারী আকার ধারণ করছে এটা তিনি বুঝতে পারছেন না। জাতির ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যে মেরুদন্ডহীন হয়ে গড়ে উঠছে তিনি ধারণা করতে পারছেন না। আর বুঝতে পারলেও দোষ নিজের কাঁধে না নিয়ে চাপিয়ে দিচ্ছেন ইন্টারনেটের ওপর। নির্লজ্জতার শুরু ওখানেই।

এভাবে ফাঁস করা প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে পাসের হার বাড়ছে ঠিকই কিন্তু শিক্ষার মানের হার বাড়ছে না। এভাবে পাস করে লাভটা কী? জাতি এভাবে পাস করা নাগরিক নিয়ে কী করবে? যারা এই ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে এখনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে এ জাতির ভবিষ্যৎ কে বাঁচানোর জন্য সরকারের কাছে বা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

(লেখক : শিক্ষার্থী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় )

আলোকিত প্রতিদিন/২ মার্চ/আরএইচ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন