রাষ্ট্র ভাষা অর্জনে ছাত্রলীগের ত্যাগ

২১ শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বিশ্বের ১৯০ টি দেশ এই দিনটিকে গভীর শ্রদ্ধার সাথে পালন করে এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্র ভাষা আদায়ে আন্দোলনের সকল শহীদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। কিন্তু আজকের দিনটি প্রতিষ্ঠিত করতে এবং এই দিনটির মূল প্রতিপাদ্য বিষয়টি অর্জন করতে বাঙ্গালি যে পরিমাণ ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে তা বিশ্বের আর কোনো দেশে ঘটে নি।২১শে ফেব্রুয়ারির ইতিহাস সারা বিশ্বে একটি যুগান্তকারী ও বিরল ইতিহাস। আর এই ইতিহাসের সাথে যে সংগঠনের নামটি জড়িত সেটি হলো ছাত্রলীগ। আর যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি তারা হলো ছাত্রলীগের নেতা কর্মী। এখন দেখা যায় অনেক সংগঠন ইতিহাস বিকৃত করে তাদের নাম ঢুকানোর চেষ্টা করেন।আমি তাদেরকে বলবো সুধু চেষ্টা করলেইতো হবে না অপনাদের তো অন্তত অংশ গ্রহণ থাকতে হবে।২১ শে ফেব্রুয়ারির আগে যেসব সংগঠনের জন্ম হয়নি তারা অবদান রাখলো কিভাবে? বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ১৯৪৮ সালের ৪ ঠা জানুয়ারি আর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার প্রেক্ষাপট শুরু হয় ১৯৫২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি ।তাহলে স্বভাবতই বোঝা যায় ভাষা আন্দোলনে ছাত্রলীগের ভূমিকা কি ছিলো।মাতৃভাষা দিবসের প্রেক্ষাপট যদিও ৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ধরা হয় কিন্তু এর সুচনা অনেক আগেই হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট শুরু হয়েছে ১৯৪৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে। ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠার মাত্র একমাসের মাথায় ভাষা আন্দোলনের দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয়। ১৯৪৮ সালের জানুয়ারী মাসে পশ্চিম পাকিস্তানের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় সেখানে সিদ্ধান্ত হয় পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কি হবে। যখন সিদ্ধান্ত হলো পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু তখন পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র-জনতা গর্জে উঠে। সেদিন জাতির পিতার নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলে মিটিং করা হয়।সে মিটিংয়ে ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ‘সর্বদলীয় সংগ্রাম পরিষদ’ নামে যে পরিষদ গঠন করা হয়েছিল সেখানেও নেতৃত্বে ছিল ছাত্রলীগ। ভাষা আন্দোলনের শুরু ১৯৪৮ সাল থেকে ৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,শামসুল হক সহ ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতাকর্মী বারবার আহত হয়েছেন ও কারাবরণ করেছেন। ভাষা আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী। আমি আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সকল ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি এবং সেইসাথে তাদের আত্মার শান্তি কামনা করছি।

লেখকঃ মোঃ তরিকুল ইসলাম
সভাপতি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ

আলোকিত প্রতিদিন/ ২০ ফেব্রুয়ারি/আরএইচ

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন