সম্পাদকীয়

বিশ্ব অঙ্গনে জাতি-রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের মানুষ অহংকার করাটাই স্বাভাবিক। পৃথিবীর অনেক দেশে বাংলাদেশের নাগরিক আজ অহংকারের লাল সবুজের পতাকা হাতে দেশ ও জাতির প্রতিনিধিত্ব করছেন। বিশ্ব ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম এক ঐতিহাসিক সমৃদ্ধ দলিল। ভাষা আন্দোলন ইতিহাসের রক্তাক্ষরে লেখা আমাদের জাতিগত এক ঐতিহ্য। বাঙ্গালীর ইতিহাস এক মর্মান্তিক ইতিহাস যা এক নির্যাতিত জনগোষ্ঠির প্রতিবাদ মুখর জীবন বিসর্জন দানের ঐতিহাসিক দলিল। মাতৃভাষা দিবস আজ আন্তর্জাতিক রূপ লাভ করলেও এর পেছনে লুকিয়ে আছে সন্তান হারানো মায়ের বোবা কান্না, এক বুক বেদনাবিধুর রক্তগঙ্গার স্নানেইতো গড়ে উঠেছে আমাদের স্বাধীনতা, আমাদের ঐতিহ্য এবং আমাদের বাঙ্গালী সভ্যতা।
জুলুম এবং নির্যাতনের যে রোল মডেল তা আজকের নতুন কোনো বিষয় নয়। এর দালিলিক ইতিহাস হাজার বছরের পুরনো। আমরা রক্তনদী পেরিয়ে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব ছিনিয়ে এনেছি। কারো দয়া-দাক্ষিন্যে যেমন আমরা স্বাধীন হইনি তদরূপ স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজনে আবার যুদ্ধ হবে, বুকের রক্ত ঢেলে দেবার জন্যও আমরা প্রস্তুত।
বিশ্বায়নের এই সভ্য যুগে বিশ্বকে মানুষ বসবাসের অযোগ্য করার ষড়যন্ত্রে কিংবা অশান্ত রেখে ফায়দা হাসিলের যে প্রচেষ্টা চলছে সেখানে আমরা নিরব দর্শক, কার্যত আমাদের কোনো ভূমিকা নেই। আমরা জাতি-রাষ্ট্র হিসেবে অন্যদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব নিয়ে নাক গলাতে যাই না যা আমাদের পরিশীলিত ভাবনার বহিঃপ্রকাশ। আমরা অন্য কোনো স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বাধীনতা খর্ব করার জন্য গুপ্তচরবৃত্তি পেশাও বেছে নেইনি যা আমাদের কলঙ্কিত করতে পারে।
দাবিদার উন্নত দেশের মিল, ইন্ডাষ্ট্রি, শিল্প প্রতিষ্ঠানের বর্জ, কালো ধোয়া প্রকৃতিকে শুধু দূষনই করছে না, যা মানুষের বসবাসের প্রায় অযোগ্য করে গড়ে তুলছে। দিনদিন আমাদের মতো মধ্যবিত্ত দেশের মানুষ এক শ্রেনির সামরাজ্যবাদীদের হাতে নিষ্পেষিত, নির্যাতিত হয়ে শুধু অসহায়ত্বের ভাষায় ক্ষীণ প্রতিবাদ করা ছাড়া প্রকৃত বিচারে আমাদের কি বা করার আছে। কারণ তাদের হাতে রয়েছে পারমাণবিক বোমা, যে পারমাণবিক অস্ত্রের ভয়ে পৃথিবী এখন তটস্থ। পারমাণবিক অস্ত্র নিক্ষেপিত হলে পৃথিবী মানবশুন্য মরুভূমিতে রূপান্তরিত হবে। পারমাণবিক অস্ত্র আমাদের নেই, আমরা কোনো নিরীহ জনগোষ্ঠিকে জিম্মি করে স্বার্থ হাসিল করছি না, সেদিক থেকে আমরা শতভাগ সভ্য।
এই বঙ্গভূমি শুধু বিদেশী বেনিয়া দ্বারা লুণ্ঠিত হয়েছে যার ইতিহাস অনেক প্রাচীন এবং লম্বা এ প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে আমরা নির্যাতিত হবার পরেও ক্লিন ইমেজ ধারন করে আসছি হাজার বছর ধরে।
বিশ্ব পরিমন্ডলে মুসলিম জাতিকে ধ্বংস করার যে অপচেষ্টা চলছে তার প্রতিফলন কিন্তু আমরা বাংলার মাটিতে দেখতে পাচ্ছি। বাংলাদেশের যে বর্তমান গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার সংকট তার নেপথ্যে হাত রয়েছে বিদেশী স্বার্থ অণ্বেষী রাষ্ট্রের।
আমাদের দেশের মানবিকতা লংঘনের যে দৃষ্টান্ত এখানে বিশ্ব মোড়লদের প্রেসক্রিপশন রয়েছে বলে আমি মনে করি। আমাদের যে কাদা ছোড়াছোড়ির রাজনীতি কিংবা বিচার বহিঃর্ভূত হত্যাকান্ড সেখানেও ভিনদেশীদের মদদ স্পষ্ট লক্ষনীয়।
দেশ আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত করার সুযোগ সৃষ্টি করার জন্য ভিন্নদেশী ফতোয়া পরিহার করাই শ্রেয়। আমাদের যে ছোটো-খাটো সমম্যা আছে তা আমাদের স্ব-উদ্যোগে মিটিয়ে আমরাও এগিয়ে যেতে পারি সার্থকতার দিকে। বিদেশীরা আমাদের নিয়ে খেলছে, তারা আমাদের পুতুল বানিয়ে রাখতে চায়। কারণ আমাদের সমুদ্রকূলবর্তী ভূমি বিদেশীদের নাকি খুব বেশি প্রয়োজন। গোলযোগ লাগিয়ে তারা ঘোলা পানিতে মাছ স্বীকার করতে চায়।
অতএব এখনো সময় আছে সাধু -সাবধান। না হলে সর্বনাশের কফিনে শেষ পেরেক ঠুঁকে দেবে বিদেশী স্বাার্থাণ্বেষী, যা আমাদের জাতির জন্য আদো কাম্য নয়।

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *