গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের ফোনালাপ ফাঁস | আলোকিত প্রতিদিন

গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের ফোনালাপ ফাঁস

Spread the love

এম শিমুল খান, গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) দুই শিক্ষকের ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে।
দুই ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের কারণে অভিযুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত সিএসই বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান আক্কাস আলী ও তদন্তকারী দলের প্রধান অধ্যাপক মো: আব্দুর রহিম খানের ফাঁস হওয়া ফোনালাপ এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ফোনালাপে আক্কাস আলী তদন্তকারী দলের প্রধান অধ্যাপক মো: আব্দুর রহিম খানকে ফোন করেন। এতে আক্কাস আলীকে বলতে শোনা যায়, অভিযোগকারী দুই ছাত্রী মেসে গিয়ে থাকে এবং বলে স্যারের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী দিবা। এ সময় তদন্তকারী দলের প্রধান মো: আব্দুর রহিম খান ওই দুটি মেয়ের নাম উল্লেখ করে বলেন, ঘটনাটা তোমাকে (আক্কাস আলী) ফাঁসানোর জন্য করা হয়েছে। আপাতত চুপ থাক। পরে সব কিছু মেকআপ হয়ে যাবে।
গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই (কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ইঞ্জি. মো: আক্কাস আলী গত ডিসেম্বর মাসে ওই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের দুই ছাত্রীকে থিসিসের নামে প্রায় সময় নিজ বাড়িতে ডেকে নিতেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন ভাবে কুপ্রস্তাব দেয়াসহ যৌন হয়রানি করে আসছিলেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠে আসলে বিশ্ববিদ্যালয়সহ জেলায় আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করলেও তদন্তের নামে কালক্ষেপণ করা হয়। পরে দুই শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মো: আক্কাস আলীর শাস্তির দাবিতে আন্দোলনে নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
পরে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো: আব্দুর রহিম খানকে সভাপতি ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষক ড. মো: বশির উদ্দিনকে সদস্য সচিব করে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল (সিএসই) বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান আক্কাস আলীকে বিভাগীয় প্রধানের পদ থেকে আজীবনের জন্য অব্যহতি দেয়া হয়।
এ ফোনালোপে মো: আব্দুর রহিম খানকে আরো বলতে শোনা যায়, আমরা তোমার পক্ষে (আক্কাস আলী) রিপোর্ট দিয়েছি। আমরা কিন্তু খারাপ রিপোর্ট দেইনি। এ সময় আক্কাস আলী বলেন, কলঙ্কিত হয়ে গেলাম, আমি মুখ দেখাতে পারি না। অন্য কারো শাস্তি হোক আর না হোক যদি আমি করিনি এটা প্রমাণিত হলে আমি কলঙ্ক মুক্ত হতে পারব।
এ ফোন আলাপ ফাঁস হবার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ফোনালাপটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি শিক্ষার্থীর মোবাইলে মোবাইলে স্থান পেয়েছে।
এ ব্যাপারে তদন্তকারী দলের প্রধান অধ্যাপক মো: আব্দুর রহিম খান বলেন, ওই সময়ের আক্কাস আলী আমাকে প্রায় সময় ফোন করতেন। সহকর্মী হওয়ায় আমি তার সঙ্গে কথা বলি। সে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে কথা বলতেন। এ সময় তাকে সান্ত্বনা দেয়া ছাড়া কিছুই ছিল না। তিনি আরো বলেন, আক্কাস আলী নিজেই অডিওটি ভাইরাল করেছেন। তবে কি জন্য তিনি অডিওটি ভাইরাল করেছেন তা তিনি বলতে পারেননি।
অভিযুক্ত আক্কাস আলী বলেছেন, তদন্ত কমিটির প্রধান মো: আব্দুর রহিমকে ফোন করে আমার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আমাকে নির্দোষ বলেন। এ সময় আমি কথপোকথনটি রেকর্ড করে রাখি। পরে ক্যাম্পাস সাংবাদিক ফাতেমা-তুজ-জিনিয়ার কাছে আমি তদন্ত কমিটির প্রধান আমাকে নির্দোষ বলেছেন বলে জানাই। এ ব্যাপারে ওই সাংবাদিক আব্দুর রহিম খানের কাছে জানাতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন। পরে আমি প্রমাণ স্বরুপ রেকর্ডটি ওই সাংবাদিককে দিয়ে দেই। এভাবেই ফোনালাপটি ফাঁস হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য মো: শাহজাহান বলেছেন, এটি একটি পুরাতন ইস্যু। তবে ফোন আলাপটি ভাইরাল হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরুপ প্রভাব পড়েছে। এজন্য তারা আন্দোলন করেছে এবং আক্কাস আলীর বিরুদ্ধে পুনঃতদন্ত কমিটি গঠন ও আব্দুর রহিম খানের পদত্যাগের দাবিতে রেজিস্ট্রার বরাবর প্রক্টরের কাছে একটি পত্র দিয়েছে। আমি পত্রটি পেয়েছি।
তিনি আরো বলেন, ফোনালাপটি ভাইরাল হওয়ায় শিক্ষার্থীরা মনে করছেন আগের তদন্তকারীদের তদন্ত সঠিক হয়নি। এ ব্যাপারে আবারো একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। নতুন তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

 

 

আলোকিত প্রতিদিন/৭ নভেম্বর/আসাদ

এই সংবাদ ৩৪ বার পঠিত।
ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন