মেয়েটির কেউ নেই, পুলিশই ত্রাতা | আলোকিত প্রতিদিন

মেয়েটির কেউ নেই, পুলিশই ত্রাতা

Spread the love

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা: নগরের পাহাড়তলী থানাধীন সরাইপাড়া কলকা সিএনজি স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ২১ জানুয়ারির রাতটি ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে অজ্ঞান অবস্থায় রাস্তায় পড়েছিল ২৪ বছর বয়সী এক তরুণী।

খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেই থেকে পুলিশের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই তরুণী।

কয়েকদিন পর সুস্থ হয়ে পুলিশকে জানায়, চার যুবক মিলে তাকে ধর্ষণের পর ছুরিকাঘাত করে রাস্তায় ফেলে গেছে। এর পর থেকে পুলিশ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা করছে। ওই ঘটনায় এখনও কোনো মামলা না হলেও পুলিশ চার ধর্ষককে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে বলে জানান পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সদীপ কুমার দাশ।

বুধবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ওই তরুণী বলেন, সরাইপাড়া কলকা সিএনজি স্টেশনের পাশে চার যুবক আমাকে ধর্ষণ করে। পরে তারা আমার পেটে ছুরি মেরে পালিয়ে যায়। এরপর জ্ঞান হারাই। সুস্থ হয়ে দেখি আমি হাসপাতালে। তরুণী আরও জানান, এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে হলেও সে মাদকাসক্ত। পরে তাকে ফেলে চলে যায় ওই যুবক। সেই থেকে ভাসমান অবস্থায় জীবনযাপন করছেন তিনি। মা মারা গেছেন। বাবাও আরেকটি বিয়ে করেছেন। তারপর থেকে পরিবারের কারো সঙ্গে যোগাযোগ নেই তার। গত ১০ দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলেও পরিবারের কেউ তাকে দেখতে আসে নি বলে জানান । ওসি স্যার আমাকে দেখতে আসেন। উনি ওষুধের টাকা দিচ্ছেন। আমারতো কেউ নাই।

গত ২১ জানুয়ারি রাতে অজ্ঞান অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকা তরুণীকে উদ্ধার করেন পাহাড়তলী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অর্ণব বড়ুয়ার নেতৃত্বে একটি টিম। পরে ওসি সদীপ কুমার দাশ তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।

হাসপাতালে ভর্তির পর থেকে তরুণীর চিকিৎসার খরচ ওসি সদীপ কুমার দাশ বহন করছেন বলে জানান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক জহিরুল হক ভূঁইয়া। তিনি বলেন, ওই তরুণীর চিকিৎসা ব্যয়সহ আনুষঙ্গিক খরচ ওসি সদীপ কুমার দাশ বহন করছেন। প্রতিদিন ইনজেকশন ও ওষুধ খরচ বাবদ ১ হাজার ৩০০ টাকা করে খরচ হয়। এসব খরচ দেন ওসি। জহিরুল হক ভূঁইয়া নিজের খরচে ওই তরুণীর বিভিন্ন মেডিকেল টেস্ট করান বলেও জানান।

ওসি সদীপ কুমার দাশ বলেন, মানবিক কারণে আমরা ওই তরুণীর চিকিৎসার খরচ বহন করছি। তিনি বলেন, ঘটনায় জড়িত চার যুবকের কাউকে চেনে না মেয়েটি। তার দেওয়া বর্ণনা অনুযায়ী তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ওই ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি। মেয়েটি পুরোপুরি সুস্থ হলে সে বাদি হয়ে মামলা করবে।

আলোকিত প্রতিদিন/৩০ জানুয়ারি/এমকে

এই সংবাদ ১৭৫ বার পঠিত।
ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন