ডিজিটাল ওজন স্কেলের ফাঁদে ক্রেতা । মোটা অঙ্কের মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা | আলোকিত প্রতিদিন

ডিজিটাল ওজন স্কেলের ফাঁদে ক্রেতা । মোটা অঙ্কের মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীরা

Spread the love

মোহাম্মদ ফোরকান, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম মহানগরের বাজারগুলোতে ডিজিটাল ওজন স্কেলের ফাঁদে ফেলে ক্রেতাদের ঠকানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রতিটি স্কেলে কেজি প্রতি ১৫০-২০০ গ্রাম কম দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। বিশেষ করে মাছ, মুরগি, মাংস ও ফলের দোকানগুলোতেই চলছে ওজনে ঠকানোর কারবার। ক্রেতারা পণ্য ক্রয়ের পর বিশ্বস্ত কোনো দোকানে তা পুনরায় ওজন করলে দেখা যায় পরিমাণ কম থাকে। এ নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও বিক্রেতাদের কাছে অসহায় ক্রেতারা।
ক্রেতাদের অভিযোগ দোকান থেকে পন্য নেয়ার সময় তাদের ওজন স্কেলে সব ঠিক থাকে। কিন্তু পরে অন্য কোথাও এই পন্য আবার পরিমাপ করলে সেখানে পূর্বের তুলনায় কম দেখায়।

জানা গেছে সম্প্রতি নগরীর চকবাজার কাঁচাবাজার বাজার থেকে শিরিন নামক এক নারী মুরগি কিনে তা একটি মুদির দোকানে যাচাই করেন। এতে ১৮০ গ্রাম কম দেখে পুনরায় মুরগি বিক্রেতার কাছে যান। তিনি ভুল স্বীকার করে ১৮০ গ্রামের টাকা ফেরত দিয়ে ওই নারীকে চলে যেতে বলেন। কিন্তু নাছোরবান্দা নারী স্কেলে মুরগি মাপতে বলেন। এ সময় ওজনের হের ফেরের বিষয়টি ধরা পড়ে। এসময় পাশের মুরগি বিক্রেতাদের কয়েকজন জোট হয়ে ক্রেতাদের ধমকাতে থাকেন।

চট্টগ্রাম শহরে ঘনবসতি এলাকা চকবাজার, এই বাজারে রয়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় সব জিনিসের বাজার, বিশেষ করে কাচাবাজার ঘিরে রয়েছে বড় একটি সিন্ডিকেট। তাও আবার ডিজিটাল ওজন স্কেলে ফাঁদে ফেলে ক্রেতাদের ঠকানোর সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের মধ্যে এই বাজারের আলম, নরুল হক, জহির, আলমগীর, জয়নাল, ইউচুপ সওদাগর, জালাল সওদাগর, ইসমাইল সওদাগরসহ বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী জড়িত বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। ওজনে কম দেয়ার পাশাপাশি পঁচা বাসি মাছ মাংস মিশিয়ে দিচ্ছে তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মুরগী ব্যবসায়ী বলেন, ‘এখানে স্থানীয় নেতাদের ও প্রশাসনকে টাকা দিয়ে আমরা এই কাজ করছি।

মোহাম্মদ জমির নামের এক ক্রেতা বলেন, যার ওজন হয় আট কেজি ৮০০ গ্রাম। ওই সময় ক্রেতা বলেন, জবাই করার দরকার নেই। আমি বাসায় নিয়ে যাব। কিন্তু বিক্রেতা তা জবাই ও পরিষ্কার করে দেয়ার জন্য জোর করতে লাগলেন। বললেন পয়সা দিতে হবে না। শেষ পর্যন্ত ক্রেতা মুরগি নিয়ে তা অন্যত্র মেপে এসে বললেন, এতে আট কেজিরও কম আছে। শুরু হল কথা কাটাকাটি ।

এ ব্যাপারে চকবাজার ফুলতলা বাজারে মা পোল্ট্রি সেলস্ সেন্টারের কর্মচারী সাহাব উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের ওজন স্কেলে কোনো কারচুপি নেই। আমরা কম দিলেও তা বাইরে দেখার সুযোগ আছে। কিন্তু মাছের দোকান, তরকারির দোকান, ফলের দোকানের মতো ভাসমান দোকানগুলোতে তা যাচাই করার সুযোগ নেই। ফলে এসব দোকানীরা ক্রেতাদের ঠকাচ্ছে।’

চকবাজারের এক ফল বিক্রেতা বলেন, ‘ব্যবসা করি লাভের আশায়। কিন্তু ফল তো পচনশীল জিনিস। সবমিলিয়ে টিকে থাকতে হলে ওজনে কম দিতেই হবে। তা নাহলে কেউ ফলের ব্যবসা করতে পারবে না।’ ডিজিটাল স্কেলে কম দেওয়ার পদ্ধতি কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কেন স্কেলের ভেতরে ওজনের স্প্রিংয়ের সাথে ১৫০-২০০ গ্রাম ওজনের কোনো কিছু লাগিয়ে দিলে তো হয়।’

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন বলেন, ‘ওজনে কারচুপি করা মারাত্মক অপরাধ। আগে কম ওজনের বাটখারা চোরাই বাজার থেকে কিনে ওজনে ঠকানো হতো। এখন ডিজিটাল স্কেলেও কারচুপি করছে ব্যবসায়ীরা। এটা ক্রেতাদের বিশ্বাসের ওপর চরম আঘাত। এ ব্যাপারে শিগগিরি ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হবে।’

আলোকিত প্রতিদিন/০৯ জানুয়ারি/আরএ

এই সংবাদ ২৮৫ বার পঠিত।
ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন