ঈদে পর্যটকদের বরণ করতে প্রস্তুত কমলগঞ্জ | আলোকিত প্রতিদিন

ঈদে পর্যটকদের বরণ করতে প্রস্তুত কমলগঞ্জ

Spread the love

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা: পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে পর্যটকদের বরণ করতে প্রস্তুত প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভ‚মি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ। এ উপজেলার টিলাঘেরা সবুজ চা বাগান, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, হামহাম জলপ্রপাত, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ, নয়নাভিরাম মাধবপুর লেক, মাগুরছড়া ও ডবলছড়া খাসিয়াপুঞ্জি, মণিপুরিসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জীবনধারা যে কোনো পর্যটকের মন কেড়ে নেবে। সারা বছর এসব পর্যটন ¯পটে ভ্রমণপিপাসুরা এলেও দুই ঈদে টানা ছুটি থাকায় ভিড় অনেকটাই বাড়ে। এ জন্য ঈদ ঘিরে স্থানীয়রাও নেন বিভিন্ন প্রস্তুতি।

এ উপজেলার অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন ¯পট লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। দেশের জাতীয় উদ্যানগুলোর মধ্যে লাউয়াছড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চল সবচেয়ে নান্দনিক ও আকর্ষণীয়। বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখি ও বন্য প্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল এটি। বিশ্বেও বিলুপ্তপ্রায় জীব উল্লুকসহ বিভিন্ন জন্তু ও বিলুপ্তপ্রায় বেশ কিছু মূল্যবান গাছ রয়েছে। ভ্রমণপিপাসু মানুষের জন্য একটি আকর্ষণীয় স্থান মাধবপুর লেক। পাহাড়ি উঁচু-নিচু টিলারের মাঝ দিয়ে প্রায় তিন কিলোমিটার হ্রদ ও তার শাখা-প্রশাখার চারপাশে পাহাড়ি টিলার ওপর সবুজ চা বাগান, দুর্লভ বেগুনি শাপলা, স্বচ্ছ পানি ও ছায়া নিবিড় পরিবেশ সব সৌন্দর্যে বাড়তি মাত্রা যুক্ত করেছে। এ ছাড়া একই রাস্তায় প্রায় ১০ কিলোমিটার পরেই রয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান স্মৃতিসৌধ। সকালে বের হলে লাউয়াছড়া ভ্রমণ শেষে একই সঙ্গে মাধবপুর লেক ও বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের স্মৃতিসৌধ ঘুরে আসা যাবে।

এ ছাড়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর সময়ে গড়ে ওঠা একটি বিশালাকার বিমানবন্দর রয়েছে শমশেরনগরে। বর্তমানে এখানে রিক্রুট ট্রেনিং স্কুল করায় প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত হলেও এ এলাকা সংলগ্ন স্থানেই রয়েছে মুক্তিযুদ্ধকালীন একটি বধ্যভ‚মি। এ উপজেলার আরেকটি আকর্ষণীয় ¯পট হচ্ছে ত্রিপুরা সীমান্তবর্তী দূর্গম পাহাড়ি এলাকা ডবলছড়া। যদি ডবলছড়া খাসিয়াপল্লী যেতে পাহাড়ি উঁচু-নিচু প্রায় ১২ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পাড়ি দিতে হয়। তবে পথিমধ্যে শমশেরনগর চা বাগানের দুটি প্রাকৃতিক হ্রদ, একটি গলফ মাঠ ও ক্যামেলিয়া ডানকান হাসপাতাল যে কোনো পর্যটকের নজর কাড়বে। এছাড়া একজন হেডম্যান বা মন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণে খাসিয়াপল্লীতে আড়াইশ’ ফুট ওপওে রয়েছে একটি দৃষ্টিনন্দন বাংলো।

এ এলাকার অন্যতম আকর্ষণ উপজেলার বিভিন্ন স্থান দিয়ে বয়ে যাওয়া জলপ্রপাত ও ছড়া। রাজকান্দি বন রেঞ্জের কুরমা বনবিট এলাকার হামহাম জলপ্রপাত এমনই দৃষ্টিনন্দন একটি জলপ্রপাত। স্থানীয় পাহাড়ি অধিবাসীরা এ জলপ্রপাতের ধ্বনিকে হামহাম বলে। তবে এ জলপ্রপাতে সরাসরি যানবাহন নিয়ে পৌঁছার ব্যবস্থা নেই। কুরমা চেকপোস্ট পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার স্থানীয় বাস, সিএনজি, জিপ ও মাইক্রোবাসে যেতে পারলেও বাকি ১০ কিলোমিটার হেঁটে যেতে হয়। এ জলপ্রপাত ভ্রমণ করতে পুরো একদিন প্রয়োজন।

এ ছাড়াও ভ্রমণের জন্য রয়েছে- কমলগঞ্জে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের নীরব সাক্ষী বিভিন্ন বধ্যভূমি, ব্রিটিশদের শোষণের প্রতীক তিলকপুর নীলকুটি, ঘটনাবহুল মাগুরছড়া গ্যাসফিল্ড, মণিপুরি, টিপরা, খাসিয়া, গারোসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর আবাসভূমি।

আলোকিত প্রতিদিন/২০আগস্ট/আরএইচ

এই সংবাদ ৪৩৮ বার পঠিত।
ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন